ন্যাটো থেকে পাবে ট্যাংক যুদ্ধবিমান, তা দিয়ে হারিয়ে দেবে রাশিয়াকে। এমন আশায় বসে আছে ইউক্রেন। আর তাদের সেই স্বপ্ন পুরোনের আগেই কার্যসিদ্ধির মিশনে নেমেছে রাশিয়া।
গত কিছুদিন ধরে ব্যাপক আকারে হামলা চালাচ্ছে দেশটি। তাদের সেনাবাহিনীর হাবভাব দেখে ইউক্রেন আশংকা করছে, খুব শীগ্রই হয়তো মরন কামড় বসাতে যাচ্ছে রাশিয়া।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বর্ষপূর্তির সময় এগিয়ে আসার সাথে সাথে গোলাবর্ষণ বাড়াচ্ছে রাশিয়া।
ন্যাটোর সাহায্য পাওয়ার আগেই ইউক্রেনের দক্ষিন ও পুর্ব অঞ্চলে কার্যসিদ্ধি করে নিতে চায় রাশিয়া। বিশেষ করে বাখমুত শহর নিয়ন্ত্রনে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে রুশ বাহিনি। এখান থেকে দনেতস্ক অঞ্চলের অন্যান্য শহরেও নিয়ন্ত্রন নিতে পারবে তারা।
সম্প্রতি ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ট্যাংক দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে আমেরিকা ও জার্মানি। ন্যাটোর আরো কিছু দেশ যুদ্ধবিমান দিতে রাজি হয়েছে। এসব সহায়তা পেয়ে গেলে শক্তিশালী হয়ে উঠবে ইউক্রেন বাহিনী।
তবে তার আগেই বড় কিছু অর্জনের মিশনে নেমেছেন পুতিন। যুদ্ধ শুরুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বড় কোনো সাফল্য দেখাতে চান তিনি। যদিও ইউক্রেন এখনো শক্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার বর্তমান লক্ষ বাখমুত শহর। যেখানে তীব্র হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। তবে ইউক্রেনের শক্ত প্রতিরোধের কারণে তারা সফল হতে পারছে না। এমনটাই জানিয়েছেন ওয়াগনার বাহিনীর প্রধান।
তবে রাশিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা দেখে ভয় পাচ্ছে ইউক্রেন। দেশটির নেতাদের আশংকা, সামনে বড় আকারে সামরিক অভিযানে নামবেন পুতিন।
সেজন্য মিত্রদের সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি। আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের কাছে দ্রুত সামরিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন তিনি।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বাস্তবিক অবস্থা বুঝতে পারছেন। তার ভাষ্যমতে, ইউক্রেন নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে ফেলার আগেই যতোটা সম্ভব জায়গা দখল করে নিতে চাচ্ছে রাশিয়া।
অন্যদিকে পশ্চিমাদের প্রতিশ্রুত সহায়তা এখনো দূরের বাতিঘর। তাই আরো দ্রুত সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে রাশিয়ার কৌশল নিয়ে ভাবতে বসেছে ন্যাটো। সম্প্রতি ন্যাটো প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা। এক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, বসন্তকালে নিজস্ব সামরিক অভিজান চালাবে ইউক্রেন। যাতে নিজেদের হারানো জমি ফিরে পেতে চেস্টা করবে তারা।
এই উদ্দেশ্যে পশ্চিমারা আরো বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে, এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এফ-16 যুদ্ধবিমান পাওয়ার চেস্টা চালাচ্ছেন জেলেনস্কি। তবে আমেরিকা কিংবা ন্যাটো সরাসরি কোন আশ্বাস এখনো দেয়নি।
এ ব্যাপারে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে যুদ্ধ বিমান দেয়ার বিষয়টি এখনই গুরুত্ব পাচ্ছে না। তবে এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসেই ইউক্রেনকে নিজেদের লেপার্ড-টু ট্যাংক দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে জার্মানি। অন্যদিকে আমেরিকাও জানিয়েছে, তারা তাদের আব্রামস ট্যাংক পাঠাবে।
এই দুই দেশের ট্যাংক সহায়তা পুরোপুরি পেয়ে গেলে অনেকটাই শক্তি বাড়বে ইউক্রেনের।
যদিও রুশ বাহিনী এ নিয়ে কোনো উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেনি। দেশটির একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ন্যাটোর ট্যাংকও আগুনে পুড়ে। অর্থাৎ অত্যাধুনিক এসব ট্যাংক পুড়িয়ে ফেলার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন তিনি।