আন্তর্জাতিক


রাশিয়ানই লড়ছে ইউক্রেনের হয়ে!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

রাশিয়ানই লড়ছে ইউক্রেনের হয়ে!

রাশিয়ান নাগরিকরা অস্ত্র ধরেছেন নিজ দেশের বিরুদ্ধে। তাদের ভাষ্যমতে, অন্যায় করছে রাশিয়া। নিরীহ ইউক্রেনের উপর অযথাই চড়াও হয়েছে তাদের দেশ। তাই বিবেকের তাড়না থেকে, নিজ দেশের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন তারা। 

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে, এক সেনাদলের দেখা পাওয়া গিয়েছিল শুরু থেকেই। নিজেদের যারা পরিচয় দেয় “Free Russia Legion” নামে। ইউক্রেনের সেনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই, রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছেন এসব সদস্য। 

নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রেখে, বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে, যুদ্ধের ময়দানে রুশ বাহিনীর বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন এসব যোদ্ধা। 

মাত্র ৩ মাসের প্রশিক্ষণ শেষেই, নেমে পড়েছেন সম্মুখ যুদ্ধে। বর্তমানে এদের কেউ কেউ আর্টিলারি বিশেষজ্ঞ, কেউবা আবার রাইফেল চালনায় পারদর্শী।   

যুদ্ধের প্রায় এক বছরের মাথায়, “Free Russia Legion” নামের দলটি অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। 

রুশবিরোধী মনোভাব এবং রুশ আক্রমণ থেকে ইউক্রেনীয়দের সাহায্য করায়, খুব সহজেই আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে তারা। 

বিশ্ব মিডিয়া তাদের দেখছে মানবতার দূত হিসেবে। ইউক্রেনের কাছে তাদের পরিচয় অকৃত্রিম বন্ধু। আর নিজ দেশ রাশিয়ার চোখে এসব মানুষ এখন শত্রুর রূপ ধারণ করেছে। 

পূর্ব ইউরোপের বাখমুত অঞ্চলে, নিজের দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন এসব রাশিয়ান। স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের দলটিতে কয়েকশত সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এদের মাঝে রাশিয়ান সামরিক বাহিনীরও অনেকে যুক্ত আছেন। তবে বেশিরভাগই সাধারণ ছাত্র আর পেশাজীবী। নিজেদের মধ্যে দলবদ্ধ হয়ে থাকলেও, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী সবসময়ই সতর্ক। 

দলটিতে অবস্থান করা বেশ কয়েকজন রাশিয়ান সেনাসদস্য জানান, রাশিয়ার আক্রমণের আগে থেকেই সামরিক মিশনের অংশ হিসেবে, তারা ইউক্রেনে বসবাস করেছিলেন। 

কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে, নিজেদের দেশের বদলে ইউক্রেনের পাশেই অবস্থান গ্রহণ করেন তারা। দলের বেশিরভাগ সদস্য অবশ্য, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে পালিয়ে ইউক্রেনে চলে আসেন। 

তারা পায়ে হেটে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চলে আসেন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে। পরবর্তীতে ট্রেনিং শেষ করে যোগ দেন ইউক্রেনের হয়ে লড়ার জন্য। তাদের বিশ্বাস, ক্রেমলিন এমন এক যুদ্ধে জড়িয়েছে, যা অন্যায়। 

বর্তমানে "Free Russia Legion"  ইউক্রেন বাহিনীর অধীনস্ত, অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। “ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিয়ন” নামের এই বাহিনীতে, রুশ নাগরিক ছাড়াও বিপুল পরিমাণ মার্কিন, ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা রয়েছেন। 

তবে চাইলেই রুশ নাগরিক ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধ করতে পারবে না। এর জন্য প্রথমে একটি আবেদন করতে হয়। 

পরবর্তীতে সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে, খুবই সূক্ষভাবে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ইতিহাস পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষেই কেবল প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত হন প্রতিটি সদস্য। 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পাইন বনে, এসব স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনমাসের প্রশিক্ষণ শেষ হলে, তবেই মিলবে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার অনুমতি। 

এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে। যেখানে প্রতিনিয়ত রুশ আগ্রাসনের শিকার হচ্ছেন সাধারণ ইউক্রেনের নাগরিক। 

প্রশিক্ষকরা ইউক্রেনের নাগরিক হলেও, তাদের প্রত্যেকেই রুশ ভাষায় বেশ পারদর্শী। ফলে প্রশিক্ষণে বা যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগজনিত সমস্যা নেই বললেই চলে।  

নিজ দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা এসব মানুষদের বড় সমস্যা, তাদের নিজেদের পরিবার। প্রায় সকলের পরিবারই ফ্রি রাশিয়া লিজিয়ন এবং এর কার্যক্রম মেনে নিতে নারাজ। 

কিন্তু মানবিকতার প্রশ্নে, নিজ পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়েই ইউক্রেনের হয়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এসব মানুষ। 

“Free Russia Legion” নিয়ে এরই মাঝে তৎপর হতে শুরু করেছে রুশ সরকার। গেল সপ্তাহেই একে একটি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়ার জন্য, দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়।  
      
আইনি লড়াইইয়ের পাশাপাশি, দ্রুতই ফ্রি রাশিয়া লিজিয়ন এবং বাখমুত অঞ্চল নিজেদের দখলে আনার লক্ষ্যে, কাজ শুরু করেছে রুশ সেনাবাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই, বাখমুত অঞ্চলে বেশ চড়াও হতে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন পুতিন। ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধে ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধীতা করা রাশিয়ান নাগরিকদের খুজে বেরা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য তাদের। 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ