ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ভারতের টাটা গ্রুপ পরিচালিত এয়ার ইন্ডিয়া। একসাথে ৪৭০-টি বিমান অর্ডার দিয়েছে তারা। এতে খরচ হবে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি ডলার।
এর আগে এমনটা করতে পারেনি বিশ্বের অন্য কোন দেশ। টাটা গ্রুপের মাধ্যমে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিকে অবাক করে দিয়েছে ভারত। নাম লেখাতে যাচ্ছে ইতিহাসের খাতায়।
ফরাসি বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা এয়ারবাসের কাছ থেকে ২৫০-টি বিমান কেনা হবে। এ নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর সঙ্গে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।
তারপরই গত মঙ্গলবার এয়ারবাস থেকে ২৫০টি বিমান কেনার বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটিকে ভারত-ফ্রান্সের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মোদী।
অন্যদিকে মার্কিন সংস্থা বোয়িংয়ের কাছ থেকেও, ২২০ টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে টাটা গ্রুপ। এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথেও, দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা হয় নরেন্দ্র মোদীর।
তারা দুজনেই এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। তাঁদের মতে চুক্তিটি পারস্পরিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বাইডেন এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ''এয়ার ইন্ডিয়া ও বোয়িংয়ের মধ্যে চুক্তি হওয়ায় আমি গর্বিত বোধ করছি। আমেরিকায় তৈরি বিমান কিনবে ভারত।
এর ফলে আমেরিকার ৪৪-টি প্রদেশের ১০ লাখ কর্মসংস্থান হবে।
আর্থিক মন্দা ও কোভিডের কারনে, গত কয়েক বছরে আমেরিকার একাধিক ছোট-বড় সংস্থা, ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে। ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধ প্রভাব ফেলেছে মূল্যবৃদ্ধিতে।
এই অবস্থায় দেশের বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে, ভারতের বিমান সংস্থার বিরাট অঙ্কের চুক্তি স্বস্তি দিচ্ছে বাইডেন সরকারকে।
বোয়িং-এর সাথে এয়ার ইন্ডিয়ার এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৩,৪০০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ লক্ষ ৮২ হাজার কোটি রুপি।
বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৯০-টি 727 Max, ২০-টি 787 এবং ১০-টি 777xs মডেলের বিমান কিনবে এয়ার ইন্ডিয়া।
পরবর্তীতে আরও ৭০-টি বিমান কিনতে পারবে তারা। যার মধ্যে থাকবে ৫০-টি 727 Max এবং ২০-টি 787 মডেলের বিমান।
শুধু নতুন বিমান কেনাতেই থেমে নেই এয়ার ইন্ডিয়া। তারা জানিয়েছে, বর্তমান বিমানগুলির ইন্টেরিয়র ঢেলে সাজাবে।
সিট আরো আরামদায়ক করা হবে। বিনোদনের ব্যবস্থা আরো উন্নত করা হবে। এর জন্য ৪০ কোটি ডলার খরচ করতে প্রস্তত আছে সংস্থাটি।
আজ থেকে প্রায় একযুগ আগে, ২০১১ সালে আমেরিকান এয়ারলাইন্স এক সাথে সর্বোচ্চ ৪৬০-টি বিমান অর্ডার করেছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে, নতুন রেকর্ড গড়লো এয়ার ইন্ডিয়া।
এর আগে ইউরোপ, আমেরিকা ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য, ভারতীয় যাত্রীদের নির্ভর করতে হতো এমিরেটস এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলোর উপর।
এয়ার ইন্ডিয়া এখন সেই চিত্র বদলে দিতে যাচ্ছে। যাত্রীদেরকে বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর থেকেও উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে, তারা গ্রহণ করছে নানারকম প্রকল্প।
এতে করে যাত্রীরা আরামে এবং কম খরচে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেতে পারবেন। সেই সাথে ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াত আরও উন্নত হবে।
মহামারী পরবর্তী সময়ে ভারতের বিমান পরিবহন খাত বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, বছর-ভিত্তিক হিসাবে, দেশের ভেতরে যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
২০২২ সালে ১২ কোটি ২০ লাখের বেশি যাত্রী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারের প্রবৃদ্ধির বড় ‘চলক’ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ভারত।
দেশটির বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো, আগামী দুই বছরে ১৫০০ থেকে ১৭০০টি উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিতে যাচ্ছে।