আন্তর্জাতিক


বিজয়ের কাছাকাছি রাশিয়া, ইউক্রেন বাঁচাতে পোল্যান্ড সফরে বাইডেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার

বিজয়ের কাছাকাছি রাশিয়া, ইউক্রেন বাঁচাতে পোল্যান্ড সফরে বাইডেন

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জয়ের দ্বারপ্রান্তে রাশিয়া! আগামী কয়েক সপ্তাহেই নির্ধারিত হচ্ছে ফলাফল! ইউক্রেনকে বাঁচাতে মরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! শেষ চাল চালতে পোল্যান্ড সফরে জো বাইডেন! 

পোল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে একত্রিত করে ন্যাটোকে নিয়ে ইউক্রেন বাঁচানোই এই সফরের প্রধান মিশন! 

সম্প্রতি ইউক্রেনে স্মরণকালের সেরা হামলা চালিয়েছে রাশিয়া! ক্ষেপনাস্ত্রের অনবরত বর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সব অবকাঠামো ধুলোয় মিশে গেছে সেইসাথে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা! 

উন্নত সরমরাস্ত্রের অভাবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রাশিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। পশ্চিমা অস্ত্র ও যুদ্ধের যাবতীয় সরঞ্জাম যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনের হাতে এসে না পৌঁছায় তাহলে এই যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয় হবে রাশিয়ার- এমনটাই আশংকা করছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা! 

সম্প্রতি ফ্রান্সের লা ফিগারও পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই প্রেসিডেন্ট! 

চলমান সংঘাতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দ্রেজ দুদা বলেন, যদি  ইউক্রেন জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রের সহযোগিতা না পায় সেক্ষেত্রে সহজেই জিতে যাবে রাশিয়া।

কিয়েভ সরকারের কাছে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এবং অবকাঠামো না থাকলেও তাদের সৈন্য সামন্ত রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। 

তাই মিত্ররা যদি তাদের কাছে আগামী সপ্তাহগুলোতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠায় তবেই রাশিয়াকে প্রতিহত করতে পারবে তারা। অন্যদিকে যদি সমরাস্ত্র না পাঠায় তাহলে করুন পরিণতি বরণ করবে ইউক্রেন, ইউরোপের মিত্ররা যেটি কখনোই চায়না বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার এমন তৎপরতায় চিন্তার ভাঁজ পরেছে মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্রের কপালেও। যুদ্ধের পরিস্থিতি যখন এমন, তখন পূর্ব ইউরোপের মিত্রদের সাথে দেখা করার উদ্দেশে ২০ ফেব্রুয়ারি পোল্যান্ড সফরে যাবেন বাইডেন। 

হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কার্বি জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের রাশিয়ার আগ্রাসনের বর্ষপূর্তির ঠিক আগে বাইডেন পোল্যান্ড সফর করছেন। 

আর এই সফর ‘এটা নিশ্চিত করবে যে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে থাকবে’। মূলত শুক্রবার  ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষনের জেরে এমন তৎপরতা শুরু করেছে ইউক্রেনের মিত্ররা। 

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী হেরমান হালুশচেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন, এই হামলায় দেশটির ৬টি অঞ্চলে তাপ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং উচ্চ-ভোল্টেজের অবকাঠামোগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে! 

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি রাশিয়ার এই ব্যাপক পরিসরের হামলাকে ‘ন্যাটো এবং সম্মিলিত নিরাপত্তার প্রতি চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মিত্রদের সাহায্য চেয়েছেন। 

তিনি জানান রাশিয়ার হামলা, একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এটিকে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। রাশিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বড় ক্ষয়ক্ষতির আভাস দিচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলো। 

কিছুদিন আগেই রাশিয়ার সমরাস্ত্র, সৈন্য সংকটের কথা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যুক্তরাজ্য। 

এই প্রতিবেদনের পর রাশিয়ার ব্যাপক হামলার পর-সম্পূর্ণ বিপরীত আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদন দিয়েছে দেশটি।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে- ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রথম বর্ষপূর্তি যত এগিয়ে আসছে, রাশিয়া ততই কঠিন পথ বেছে নিচ্ছে। সামনে এটি আরো প্রখর হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এদিকে রাশিয়ার আগ্রাসনের মনোভাব আঁচ করতে পেরে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার আলোচনার জন্যে তোড়জোড় শুরু করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। 

সেই আহ্বানে রাশিয়াও সাড়া দিয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক রাশিয়া; তবে সে আলোচনা হতে হবে পূর্বশর্তহীন এবং ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বাস্তবতাকে’ মেনে নিয়েই। 

রাশিয়া জানিয়েছে মূল সমস্যা কিয়েভের! কারণ, তারা মস্কোর সাথে বসবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নিজেরা না নিয়ে ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল! 

তা না হলে এর আগে মিনস্ক ও ইস্তাম্বুলে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল তাতেই ফল পাওয়া যেত। এবং এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎও এত দীর্ঘ হতো না।








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।