আন্তর্জাতিক


পুতিনের ভুল হিসাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে রাশিয় ইউক্রেন যুদ্ধ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার

পুতিনের ভুল হিসাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে রাশিয় ইউক্রেন যুদ্ধ

পুতিনের ভুলেই ১ বছরেও ইউক্রেন যুদ্ধে বিজয় পায়নি রুশ সৈন্যরা! আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে পুতিনের ভুল হিসেব নিকেশই ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবার পেছনে দায়ী! 

পুতিন নিজের শক্তি নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ইউক্রেনের জনগণের নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা ও জন্মভূমিকে রক্ষার লড়াইয়ের আত্নবিশ্বাসকে তোয়াক্কাই করেননি। 

আবার পশ্চিমা দেশগুলোর শক্তিশালী ঐক্যকেও আমলে নেননি তিনি। অবশ্য পুতিনের এই ধারণার পেছনে শুরুর দিকের বেশ কিছু যৌক্তিক কারণও ছিলো! 

ইউক্রেনে আক্রমণের সময় তৎকালীন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কেলেংকারির কারণে কোণঠাসা ছিলেন। 

ন্যাটোর শক্তি ও ঐক্য নিয়ে একদম হতাশ ছিলেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট এ্যামানুয়েল ম্যাঁখো! ওদিকে তৎকালীন নির্বাচিত জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ ছিলেন অতি মাত্রায় রুশ জ্বালানী নির্ভরশীল! 

এদিকে বাইডেন সরকার তখনও ক্ষমতায় নতুন। শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিলো মার্কিন এই প্রেসিডেন্টের গদি। আমেরিকায় বিভিন্ন সংকট, আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার এসব নিয়েও বেশ বিপাকে ছিলো মার্কিন এই বয়স্ক প্রেসিডেন্ট! 

এক কথায় পুতিন ঐ সময়টাকেই ইউক্রেন আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছিলেন যখন পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যের ভিত্তি একদম নড়বড়ে হয়ে পড়েছিলো। 

পুতিন ধরেই নিয়েছিলেন এখন আক্রমণ করলে সংকটে থাকা পশ্চিমারা ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবে না। কিন্তু ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পরপরই পুরো পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে গেলো। 

দ্রুত সময়ের মধ্যে পশ্চিমারা একই সুরে গান গাইতে শুরু করে। আর সেই সুরই রাশিয়ার স্বপ্ন পূরণে বালি ছিটিয়ে দিয়েছে।

নিজেদের অসুবিধা হবে জেনেও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক ও মানবিক খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেই চলেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মৃতপ্রায় ন্যাটোকেও জীবিত করলো এই রুশ আগ্রাসন! নতুন করে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন এই জোটের সদস্য হওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 
 
যুক্তরাজ্যের প্রধান দুই দলের মধ্যে বিবাদ থাকলেও ইউক্রেনে সহায়তা নিয়ে তারা একমত পোষন করেছেন। 

নিজ দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ভুলে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর ২য় প্রধান দেশ হিসেবে  ইউক্রেনকে সহায়তা করে যাচ্ছে। 

কিছুদিন আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভেলোদমির জেলোনস্কি যুক্তরাজ্য সফর করেছেন। এই সফর যে ইউক্রেনের জনগণকে আরো উজ্জীবিত করবে এটা সহজেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে। 


যুদ্ধের শুরুতে পশ্চিমা দেশগুলোর জনগণ অন্য দেশের সমস্যায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো। দেশগুলোর রাজধানীতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছিলো। 

শীতকালে জ্বালানি সংকট নিয়ে অনেকের মাঝেই তীব্র আশংকা সৃষ্টি হয়েছিলো, এসব কিছুই কাটিয়ে উঠে গেছে পশ্চিমারা! 

সাম্প্রতিক একটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ জনগণ ইউক্রেনকে সহায়তা সমর্থন করছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকট নিয়ে যা আশংকা করা হয়েছিলো তা সত্য হয়নি ৷ 

একদিকে প্রকৃতির সাহায্য অন্যদিকে পশ্চিমাদের জোরালো প্রচেষ্টা জ্বালানি সংকটকে সহজেই মোকাবিলা করেছে। 

এদিকে ইউরোপে এবার শীতের তীব্রতাও এত বেশি ছিলো না। দেশগুলো বিকল্প উপায়ে জ্বালানির ব্যবস্থা করে ফেলেছে। এতে কিছু ভর্তুকি দিতে হয়েছে, দাম অনেক বেড়ে গেছে। 

তবে অধিকাংশ সাধারণ জনগণ মনে করেন, একটি স্বাধীন দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে জ্বালানির বেশি দাম পরিশোধ করা এত বড় কোনো ত্যাগ নয়। 

সম্প্রতি পরিচালিত একটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২৮ টি গণতান্ত্রিক দেশের ৪২ শতাংশ জনগণ মনে করেন, অন্য দেশের বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। 

এই জরিপ পুতিনের জন্য বেশ বিভ্রান্তিকরই বলতে হবে। যে আশায় পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করেছিলেন, পশ্চিমাদের ভাঙনের সুযোগে রাশিয়ার হারানো অতীত ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই আশাই পন্ড হতে চলেছে। 

যুদ্ধ দু বছরে পা দিতে চলেছে। এতদিনেও ইউক্রেন প্রশ্নে পশ্চিমাদের ঐক্য অটুট। ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা শক্তি পুতিনের জন্য আরো কঠিন সময় তৈরি করবে। 

ন্যাটোর পূর্নজাগরণ ও ইউক্রেনের পাশে পশ্চিমাদের ঢাল হয়ে দাঁড়ানো রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে আরো প্রল্মবিত করবে।  কে জিতবে এখনই তা বলা যাবে না। তবে যুদ্ধ যে সহসাই শেষ হচ্ছে না এটা নিশ্চিত! 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।