আন্তর্জাতিক


রাশিয়া ইউক্রেন কেউ জিতবে না, হারবে আমেরিকা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার

রাশিয়া ইউক্রেন কেউ জিতবে না, হারবে আমেরিকা

ইউক্রেনের ঘাড়ে চেপেও রাশিয়াকে কাবু করতে ব্যর্থ আমেরিকা! আমেরিকার অস্ত্র, ডলার, বুদ্ধি কোনোটাই কাজে আসছে না! এক কথায় ইউক্রেন সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে মার্কিন ক্ষমতার দাপট! 

গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পুর্ন হতে চলেছে। এখনো যুদ্ধের কোন কূল কিনারা নেই। আগামী এক বছরেও এই যুদ্ধের কোনো সমাধান হবে কিনা সেটাও অজানা! 

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলেও যুদ্ধের বাস্তবতা এখন হারে হারে টের পাচ্ছে আমেরিকা! 

দেশটির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তো বলেই ফেলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে কোন পক্ষই সামরিক লড়াইয়ে জিততে পারবে না। 

তার মতে, বছর গড়ানো এই যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখ লড়াইয়ে জয়-পরাজয় আর সম্ভব নয়। শুধুমাত্র কূটনৈতিক উপায়েই শান্তি চুক্তি করে এই যুদ্ধ সমাপ্ত হতে পারে। 

আমেরিকার এই কর্মকর্তা এমন সময় এই মন্তব্য করলেন, যখন তার দেশ ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে সমর্থন করছে শুধুমাত্র রাশিয়ার পরাজয় দেখার জন্য! 

এই উদ্দেশ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক থেকে শুরু করে সবকিছুই দিয়েছে তারা।  অন্যান্য দেশকেও রাশিয়ার বিপক্ষে একত্র করে ইউক্রেনের সমর্থনে এক সারিতে দাঁড় করিয়েছে। 

তাদের এমন সহায়তা না পেলে ইউক্রেন হয়তো এতোদিন রাশিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারতো না। তবে যুদ্ধের বাস্তবতা মানলেও কথার লড়াইয়ে রাশিয়াকে তুচ্ছ করতে ছাড়ছে না আমেরিকা। 

দেশটির সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেন দখল করে নেবে- এমন চিন্তা অবাস্তব।  

সামরিক উপায়ে রাশিয়ার পক্ষে সফল হওয়া অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অবশ্য রাশিয়ার মতো নিজেদের জয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন না এই কর্মকর্তা। 

আগামী এক বছরে  রুশ সেনাদের  ইউক্রেন থেকে বিতাড়িত করা খুবই কঠিন হবে বলে অকপটেই  স্বীকার করেন তিনি। 

একই সাথে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ভুমিও উদ্ধার করা কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েই চলছে। 

আগামী বসন্তেই চূড়ান্ত আক্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুইপক্ষ। এই বাস্তবতা সামনে রেখে আমেরিকার এই কর্মকর্তা সম্প্রতি বেলজিয়াম সফর করেছেন। 

সেখানে ন্যাটো জোটের সদস্যদের প্রতি ইউক্রেনকে আরো সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে জোরালো আবেদন করেছেন। কারণ আমেরিকা চায়, এবারের বসন্তে রাশিয়ার উপর হামলা জোরদার করবে ইউক্রেন। 

যদিও ন্যাটোর মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, তারা যে পরিমান অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছেন, যুদ্ধে তার চেয়ে বেশি অস্ত্র ব্যবহার করছে কিয়েভ। 
মূলত আমেরিকার কারণেই ইউক্রেন এতোদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ ইউক্রেনকে নিয়মিত বড় আকারের সহায়তা দিয়েই যাচ্ছে আমেরিকা। 

মিত্রদেশগুলোকেও সহায়তা দিতে আরো জোর দিচ্ছে। বর্তমানে আমেরিকার সামরিক বাজেটের আকার ৮১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার, যা বিশ্বের বড় বড় ১০টি দেশের  মিলিত সামরিক বাজেটের চেয়েও বেশি। 

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর তাদের সামরিক খরচ আরো বেড়েছে। গত এক বছরে ইউক্রেনকে প্রায় ১১ হাজার কোটি ডলার অর্থের অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন, যা অনেক দেশের বার্ষিক বাজেটের থেকেও বেশি। 

এছাড়া নিজস্ব মজুত থেকে নিয়মিত অস্ত্র দিয়ে যাচ্ছে তারা। কিছুদিন আগেই ইউক্রেনকে আব্রামস ট্যাংক দেয়ার কথা জানা গেছে। 

এসব নিয়ে দেশের ভিতরে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে বাইডেন সরকার। দেশটির আইনপ্রনেতারাও বিষয়টিকে ভালো ভাবে নেননি। 

এতোকিছুর পরেও যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো কোন সমাধান নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন দুইপক্ষই এখনো আক্রমন-প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। 

তবে এতোদিন ইউক্রেনে শীতকাল চলছিলো। এখন বসন্ত আসছে। এই ঋতুতে দুই পক্ষই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রন নিতে মরিয়া হয়ে উঠবে। 

রাশিয়া ইতিমধ্যে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও আমেরিকা-ন্যাটোর সহায়তায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। 

এখন দেখার বিষয়, বসন্তের এই সময়টায় কোনদিকে মোড় নেয় দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।