আন্তর্জাতিক


চীনে একের পর এক ধনী ব্যবসায়ী গুম


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার

চীনে একের পর এক ধনী ব্যবসায়ী গুম

গুম হয়ে যাচ্ছেন চীনের ধনকুবেররা। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে, আচমকাই হারিয়ে যাচ্ছেন চীনের শীর্ষ ধনীরা। 
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের অন্তত ছয়জন বিলিয়নিয়ার কিছু সময়ের জন্য পুরোপুরি নিখোঁজ ছিলেন। আর এর পেছনেও আছে অন্যরকম এক রহস্য। 
ধনকুবেরদের এমন গুমের ঘটনার সবশেষ উদাহরণ বাও ফ্যান। তিনি চীনের একজন সুপরিচিত ব্যাংকার। সেইসাথে ‘চায়না রেনেসাঁ হোল্ডিং’এর প্রধান নির্বাহীর পদেও আছেন এই বিলিয়নিয়ার। 

এই দুই পদের বাইরে, বাও ফ্যান চীনের প্রযুক্তি-খাতের বিনিয়োগের একজন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী। দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি ডিডি এবং মেইটুয়ান তার গ্রাহক। 
বাও ফ্যানের নিখোঁজের বিষয়টি তার কোম্পানি “চায়না রেনেসাঁ হোল্ডিং” গত বৃহস্পতিবার সবার সামনে উন্মুক্ত করে। এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারে বড় রকমের দরপতনের খবর জানা যায়। 
গত শুক্রবার হংকং এর মার্কেটে চায়না রেনেসাঁর শেয়ার প্রায় অর্ধেক নেমে যায়। আর চীনের বাজারে ২৮ শতাংশ দরপতন হয় তাদের। 
এই সম্পর্কে তার প্রতিষ্ঠান থেকে বিস্তারিত কিছু বলা না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার অন্তত দুই দিন আগে নিখোঁজ হন বাও। 
বাও ফ্যানকে চীনের কর্পোরেট জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তিনি এমন কিছু ব্যবসার শুরু করেন, যা চীনের অনলাইন ব্যবসার গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছে। 
তার নিজের ভাষ্যমতে, চীনের ৭০ শতাংশ ইন্টারনেট কোম্পানির সাথে, তার কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।      
ধনী ব্যবসায়ী বাও ফ্যানের এমন গুম হবার ঘটনা, চীনের অন্যান্য বিলিয়নিয়ারদের জন্য এক প্রকার সতর্কবার্তা। এর আগেও এমন গুম হবার নজির আছে দেশটিতে। 
গত সেপ্টেম্বর মাসে এই একই কোম্পানির চেয়ারম্যান কংলিন নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছে চীনের গণমাধ্যম। এই ঘটনার পর “চায়না রেনেসাঁ হোল্ডিং” কোনো প্রকার মন্তব্য না করলেও, নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে কংলিনের নাম সরিয়ে নেয়। 
২০২০ সালে নিখোঁজ হয়ে যান ‘আলিবাবা’র প্রতিষ্ঠাতা এবং চীনের বিখ্যাত ব্যবসায়ী জ্যাক মা। প্রায় তিন মাসের জন্য খোঁজ পাওয়া যায়নি সারা বিশ্বে পরিচিত এই মুখকে।   
সেবার চীনের শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমালোচনা করার অল্প কদিনের মাথায় নিখোঁজ হয়েছিলেন জ্যাক মা। 
তবে শুধু নিখোঁজ পর্যন্তই থামছে না এসব ঘটনা। নিখোঁজের শিকার বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে পরবর্তীতে বড় ধরনের সমস্যার শিকারও হতে হয়েছে। 
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দূর্নীতি, কর ফাঁকি, অসাদাচারণ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সমস্যার সাথে যুক্ত করা হয়। এর ফলে জেল খাটার নজিরও আছে। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চীনা-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী জিয়াও জিয়ানহুয়া ২০১৭ সালে নিখোঁজ হন। বেশ কিছুদিন পাওয়া যায়নি তার সন্ধান। সবশেষ গতবছর দূর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে জেলে পাঠানো হয়। 
এছাড়াও ২০১৭ সালেই আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হন চীনের ইন্স্যুরেন্স জগতের বড় নাম ইউ ঝাওহুই। তার প্রতিষ্ঠান অংবানের পক্ষ থেকে আগেভাগেই জানানো হয়েছিলো, প্রতিষ্ঠান প্রধান সামনের দিনগুলোতে নিজের কাজ থেকে সরে আসছেন। 
সেসময় “ব্যক্তিগত কারণ’ বলা হলেও, পরবর্তীতে সরকারি তদন্ত শেষে তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।  
এর আগে ২০১৫ সালে “চীনের ওয়ারেন বাফেট” খ্যাত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, গুয়ো গুয়াংচ্যাং লম্বা সময়ের জন্য নিখোঁজ ছিলেন। 
একই বছর চীনের আরও কিছু শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিখোঁজ হবার ঘটনা ঘটেছিলো। যাদের বেশিরভাগই ফিরে এসে নিজেদের কাজে যোগদান করেননি। 
এসব ব্যবসায়ীদের নিখোঁজ হবার পেছনে সরাসরি চীনের সরকারকে দায়ী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিন। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সুপরিচিত এই ম্যাগাজিনের দাবি, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বিরোধিতার জেরেই সাময়িক নিখোঁজের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।    

  



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ