আন্তর্জাতিক


বিবিসির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ ভারতের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার

বিবিসির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ ভারতের
ভারতে, বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই কার্যালয়ে ,দেশটির আয়কর বিভাগ, টানা ৬০ ঘণ্টার তদন্ত-তল্লাশি চালিয়েছে।  

গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে, এ অভিযান চালায় ভারতের আয়কর বিভাগ। 
তল্লাশির পর শুক্রবার সংস্থাটির বিরুদ্ধে, কর ফাঁকির অভিযোগ আনলো ভারত।

এক বিবৃতিতে ভারতের আয়কর বিভাগ জানায়, তাঁরা বিবিসির বেশ কিছু গোপন তথ্য পেয়েছে এবং তাঁরা দেখেছে, যে সংস্থাটির আয় ও ব্যায় ও মুনাফার হিসেবের গরমিল রয়েছে। 
বিবিসির কাজের ব্যাপ্তির সাথে আয়ের সামাঞ্জস্যতা নেই। আয়ের উৎসের চেয়ে, কম আয় দেখানো হয়েছে এবং নানা বিষয় গোপন করে, কর ফাঁকি দিয়েছে বিবিসি। 
তবে ওই বিবৃতিতে তাঁরা বিবিসির নাম সরাসরি উল্লেখ করে নি। 

এ ছাড়াও আয়কর বিভাগ জানিয়েছে, তাঁরা ডিজিটাল এবং অন্যান্য নথি ও কর্মীদের জবানবন্দিও খতিয়ে দেখছে।
কর্তৃপক্ষ আরো বলেছে, যে তাঁরা বিবিসির পাঠানো দাম  এ অনেক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। তবে কী ধরণের অসঙ্গতি, সেটার ব্যাপারে কোনো বিস্তারিত জানা যায় নি। 
এদিকে প্রায় ৩ দিনের এ অভিযানের পর, বিবিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা ভয় না পেয়ে, পক্ষপাতমূলকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে, এবং ভবিষতে করেও যাবে। 
বিবিসির দাবি, তাঁরা একটি স্বাধীন ও বিশ্বস্ত সংবাদ সংস্থা এবং সত্য ও ন্যায় সংবাদ প্রচারে বদ্ধপরিকর। এছাড়াও বিবিসি তাঁদের সাংবাদিক ও কর্মীদের পাশে আছে সবসময়ই। 
ভারত সরকারের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বিবিসি বলছে, তারা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাবে। 

যদি আয়কর কর্মকর্তারা কোনো বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করতে চান, বিবিসির পক্ষ থেকে সে সহযোগিতাও করা হবে।  বিবিসির আশা, দ্রুত সব সমস্যার মীমাংসা হয়ে যাবে।
তবে আঁচ করা যাচ্ছে, বিবিসির সাথে সরকারের এ দ্বন্দ্ব  শুরু হয়, একটি অনুসন্ধানীমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে। 

গত জানুয়ারি মাসে, বিবিসি ভারতের গুজরাটে ঘটে যাওয়া ২০০২ সালের দাঙ্গা নিয়ে, দুই পর্বের তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে। 
“India: The Modi Question”  নামের ওই  তথ্যচিত্রে  দাবি করা হয়, গুজরাট দাঙ্গায় রাজ্যটির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী, নরেন্দ্র মোদির হাত রয়েছে।   
তথ্যচিত্রে আরও বলা হয়, ওই দাঙ্গা মোদিকে পরবর্তীকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিল।

এরই জবাব হিসেবে তথ্যচিত্রটি ভারতে নিষিদ্ধ করে মোদি সরকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও, সরিয়ে ফেলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। 
বিজেপির দাবি, এ তথ্যচিত্রটি “ভারতের প্রতি আক্রমণ”, যা প্রদর্শিত হলে, ভারতের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। 
এই তথ্যচিত্রটি নিয়ে কথা উঠে পার্লামেন্টেও। বিরোধী দলের নেতারা এটি নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। 
এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে, ভারতের আয়কর বিভাগ, বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। যদিও এই তল্লাশিকে “সমীক্ষা” বলে চালিয়ে দিচ্ছে সরকার।
এদিকে এই “সমীক্ষা” কার্যক্রমকে ঘিরে ব্যাপক নিন্দার ঝড় বইছে ভারতজুড়ে।
 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ্যে নিন্দা জানাচ্ছেন নেটিজনরা। 
বিরোধীদলের নেতারা মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে, “বিনাশকালের বিপরীত বুদ্ধি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 
এই ব্যাপারে ,অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। 
তাঁরা বলছেন, এভাবে ভয় দেখিয়ে সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করে চলেছে, যা একেবারেই গণতন্ত্র বিরোধী।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।