আমেরিকা এতোদিন ইউক্রেনকে গোলাবারুদ দিয়ে আসছে, তাতে কিছু হয়নি। চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে বলে শুরু করলো দাদাগিরি!
সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার আড়ালে অস্ত্র আর গোলাবারুদ সরবরাহকারী আমেরিকার সমস্যা তখন শুরু হয় যখন তার শত্রু দেশ একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে!
চীনের জন্যই রাশিয়ার উপর আরোপিত মার্কিন তথা পাশ্চাত্য নিষেধাজ্ঞা একদমই কার্যকর করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে আমেরিকা!
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রাশিয়ার প্রতি চীনের সহযোগিতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, এতোদিন চীনের বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান রাশিয়াকে প্রাণঘাতী নয়- এমন অস্ত্র গোপনে সরবরাহ করে এসেছে।
এখন সামনে রাষ্ট্রীয়ভাবে রাশিয়াকে প্রাণঘাতী অস্ত্র পাঠাতে পারে চীন, এমন তথ্য পেয়েছে দেশটি।
ইতিমধ্যে চীনের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাশিয়াকে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করলে তা চীনের জন্য ঘোরতর পরিণতি বয়ে আনবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অবশ্য চীন এমন সহযোগিতার কথা অস্বীকার করেছে। অস্ত্র সহায়তার জন্য রাশিয়া কোন অনুরোধ করেনি বলেও জানিয়েছে তারা।
গত প্রায় এক বছর ধরে চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে শুরু থেকেই রাশিয়ার পক্ষে কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছে চীন।
আমেরিকার কথামতো ইউক্রেন অভিযানের বিপক্ষে নিন্দা জানায়নি দেশটি। বরং এই বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে তারা।
দেশটির প্রেসিডেন্ট shi jin ping পুতিনের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। সেজন্য আগে থেকেই চীনের প্রতি রাশিয়াকে সহযোগিতার ব্যাপারে সন্দেহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
চলতি মাসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে অস্ত্র সহায়তার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ জানান তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ পর্যন্ত চীনা কোম্পানিগুলোকে রাশিয়ার জন্য প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র সরবরাহ করতে দেখেছেন তারা।
কিন্তু এখন তথ্য পেয়েছেন, চীন রাশিয়াকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে।
তবে চীন কী পরিকল্পনা করছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে চীন রাশিয়াকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কিছুদিন আগেই চীনের একটি বেসরকারি কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ রাশিয়াকে তারা স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ইউক্রেনের ছবিসহ গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, চীন যদি রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে সেটি দুই দেশের জন্যই কঠিন সমস্যা সৃষ্টি করবে।
যদিও গত কিছুদিন ধরে চীন এবং আমেরিকার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। চলতি মাসে চীনের একটি বেলুন ঢুকে পড়ে আমেরিকার আকাশে।
এরপর গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ তুলে বেলুনটি ধ্বংস করে আমেরিকা। এ নিয়ে নানা কথাবার্তায় দুই পক্ষের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ইচ্ছাও দেখা গেছে।
তবে এখন নতুন ইস্যু তাদের সম্পর্ককে আরো সংকটে ফেলতে পারে। চীন যদি সত্যিই রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তাহলে আমেরিকা কোন ভাবেই তা মেনে নেবে না। ফলে দেশ দুটির সম্পর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।
এমনকি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও চীনের রাশিয়াপ্রীতি নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
তিনি বলেন, চীন যেভাবে রাশিয়াকে সহায়তা করছে, তাতে রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হবার পর রাশিয়ার অন্যতম প্রধান বাজার হয়ে উঠেছে চীন। দেশ দুটির মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। রাশিয়ার তেল, গ্যাস এবং কয়লার অন্যতম ক্রেতা এখন চীন।
এর ফলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্তেও রাশিয়ার অর্থনীতি ততোটা চাপে পড়েনি যা রীতিমতো হতাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।
এখন দেখার বিষয়, চীন সত্যি সত্যি রাশিয়াকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে কিনা? শেষ পর্যন্ত এমনটি হলে রাশিয়াকে কাবু করার জন্য আমেরিকার সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যেতে পারে।