আন্তর্জাতিক


এবার মলদোভায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় রাশিয়া


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার

এবার মলদোভায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় রাশিয়া

ইউক্রেনের পর এবার ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ, মলদোভায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে রাশিয়া। দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছে ভ্লাদিমির পুতিন। 

মলদোভা প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু, রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন। মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে, রুশ সরকারের এসব ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

তার অভিযোগ, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নতুন গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে, বিরোধীদের উস্কে দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। 

এই ষড়যন্ত্রে, নিজ দেশের সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও, অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মাইয়া সান্দু। 

তার দাবি, সেনাবাহিনীতে কাজ করছে, এমন ব্যক্তিদের নাশকতার কাজের জন্য ব্যবহার করতে চাইছে রাশিয়া। বেসামরিক পোশাকে এবং ছদ্মবেশে এসব সামরিক কর্মকর্তা, দেশের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছেন। 

এছাড়াও মলদোভার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং জিম্মি করার ব্যাপারেও, অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের উপর। 

রাশিয়ার সরকারের এমন ষড়যন্ত্র নিয়ে, আগে থেকেই দেশটিকে সতর্ক করেছিলো ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধের সুবাদেই রাশিয়ান সরকারের এমন পরিকল্পনা নিয়ে, জানতে পারে ইউক্রেনের গোয়েন্দা বাহিনী। 

এক সপ্তাহ আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি মলদোভাকে সতর্ক করে বলেন, মলদোভাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। 

সরকারি ভবনে হামলার পাশাপাশি, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরও বন্দি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বেসামরিক পোশাকে সামরিক কর্মকর্তাদের উপর হামলা সম্পর্কেও সতর্কতা দেন তিনি। 

কিয়েভের গোয়েন্দাদের সূত্রে জেলেনস্কির এমন সতর্কতার ঠিক পরের সপ্তাহেই, রাশিয়ার উপর অভিযোগ এনেছে মলদোভা। 

এসব অভিযোগের পর আবারও পূর্ব ইউরোপের সংকট নিয়ে, উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

মলদোভার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন বলেন, মলদোভার নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং অখন্ডতা রক্ষা করতে, দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং সরকার যে চেষ্টা চালিয়ে আসছে, তাতে মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। 

স্বাধীনতার পর থেকেই মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও, সম্প্রতি বেশ কিছু ইস্যুতে মলদোভা এবং রাশিয়ার মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে মলদোভার মস্কোপন্থী অঞ্চল, ট্রান্সনিসট্রিয়া ঘিরে, দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার আগেই, মলদোভা এবং ইউক্রেনের মধ্যবর্তী ট্রান্সনিসট্রিয়া অঞ্চল নিজেদের স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ১৯৯১ সালে মলদোভা স্বাধীনতা লাভ করলে সেখানে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। 

রাশিয়ার অভিযোগ, ট্রান্সনিসট্রিয়ায় বসবাসকারী রুশ ভাষীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে মলদোভা। এমন অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় দেশটি। 

এক বছর আগে ঠিক একইরকম অভিযোগ এনে, ইউক্রেনের ডনবাস প্রদেশের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীনতার স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। 

ট্রান্সনিসট্রিয়ায় এমন অস্থিরতার জের ধরে, সেখানে আগে থেকেই নিজেদের সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রেখেছে রাশিয়া। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে, মলদোভা ও ট্রান্সনিসট্রিয়া ইস্যুতে, নিয়মিত হস্তক্ষেপ করে চলেছে রাশিয়ান সেনারা। 

যদিও এমন অবস্থাতেও, রাশিয়ার সাথে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্ভব না মলদোভার। বিগত ৩০ বছর ধরে রাশিয়ার কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়েই আছে দেশটি। 

মলদোভার পুরো দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশই আসে, রাশিয়ার সমর্থনে থাকা ট্রান্সনিসট্রিয়ার তাপবিদ্যুত কেন্দ্র থেকে। ইউক্রেনের সাথে সংঘাতের পর রাশিয়াকে সমর্থন না জানানোর কারণে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেকটাই অচল করে দেয় সেখানকার রুশ সেনারা। 

বাদবাকি ৩০ শতাংশের সরবরাহ করতো ইউক্রেন। কিন্তু চলমান যুদ্ধের কারণে সেখান থেকেও খুব বেশি সহায়তা পাচ্ছেনা মলদোভা। 

দেশটির পক্ষ থেকে আসা এসব অভিযোগ অবশ্য, পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, এই ধরণের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।  





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ