আন্তর্জাতিক


জো বাইডেন ইউক্রেনে আসার পর বেজে রাশিয়ার বিমান হামলার সতর্কতামুলক সাইরেন!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

জো বাইডেন ইউক্রেনে আসার পর বেজে রাশিয়ার বিমান হামলার সতর্কতামুলক সাইরেন!

রাশিয়ার আগ্রাসনের বর্ষপূর্তির চারদিন আগে, ইউক্রেনে আকস্মিক এক সফরে গেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এদিন বাইডেন কিয়েভে পৌছালে, বিমান হামলার সতর্কতামুলক সাইরেন বেজে উঠে পুরো শহরজুড়ে।  মুহুর্তেই সিক্রেট সার্ভিস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাকে ঘিরে ধরেন।

তবে তার সফরকালে পুরো শহরে কোন ক্ষেপনাস্ত্র হামলার সংবাদ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা জমে উঠেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইউক্রেন সফরকে ঘিরে। 

পোল্যান্ড সফরকালে শেষ পর্যায়ে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছিল, ইউক্রেনে যাবেননা বাইডেন। তবে এমন প্রতিশ্রুতির পর কোন পুর্বঘোষানা ছাড়াই, তার ইউক্রেন সফর বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।  

এই সফরে তিনি দেখা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলনস্কির সাথে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হোক না কেন, দেশটির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। 

বৈঠককালে বাইডেনের আকস্মিক সফরকে, ইউক্রেনবাসীর প্রতি মার্কিনিদের সমর্থন হিসেবে আখ্যা দিয়ে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলনস্কি। 

অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে, রাশিয়ার উপর আরো নিষেধাজ্ঞা দেবে দেশটি। এছাড়া যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র সহয়তাও অব্যহত রাখবে তারা। 

এমনকি দুরপাল্লার কামান এবং গোলা নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে, ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের দরকষাকষি হয়তো এবারে কিছুটা হলেও সমাধানের মুখ দেখেছে।

দুই প্রেসিডেন্টের বৈঠক শেষে ব্রিফিং এ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলোনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দুরপাল্লার কামান দিতে সম্মত হয়েছে। 

এর আগে গেল বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোতে যোগদান ইস্যুকে কেন্দ্র করে, ইউক্রেনের উপর এক সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মস্কো।

সে অভিযানের বছরপুর্তিকে কেন্দ্র করে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা তিনি তুলে ধরবেন। এমন সময়ে বাইডেনের কিয়েভ সফরকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে ক্রেমলিন। 

বছর পেরুতে যাওয়া এই যুদ্ধে রাশিয়া কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি বললেই চলে। কিন্তু শেষ দুই সপ্তাহে তারা ইউক্রেনের পুর্বাঞ্ছলে কিছু বিচ্ছিন্ন সফলতার মুখ দেখেছে।

অবশ্য পশ্চিমারা রুশদের জয়গুলোকে সফলতা হিসেবে দেখছেনা। তাদের মতে, পুতিন যুদ্ধের বছরপুর্তিতে রাশিয়ার সাধারন নাগরিকদের সন্তুষ্ট করতে চায়।

তাই জয় লাভ করা ফ্রন্ট গুলোতে সৈন্যরা মরিয়া হয়ে লড়াই করেছে। যুদ্ধের বছরপুর্তীতে কুটনৈতিক সমর্থন আদায়েও তৎপর হয়েছে মস্কো।  

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, চলতি মাসেই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। যদিও দীর্ঘদিন ধরে চলা লড়াইয়ে বেইজিং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানে রেখেছে। 

অবশ্য সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এন্টনি ব্লিঙ্কেন শংকা প্রকাশ করেছেন, চীন হয়তো রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে যেকোন অস্ত্র সহয়তা দিতে পারে। 

গনমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, যদি চীন রাশিয়াকে এমন সহয়তা দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তাহলে চীনের সাথে ইউএসএ’র সম্পর্ক তলানিতে ঠেকবে। 

এর আগে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেলুন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে চলছে সম্পর্কের টানাপড়েন। যদিও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গোপন এক নিরাপত্তা সম্মেলনে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুইদেশের শীর্ষ কর্তারা। 

শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পর, মার্কিনিদের রাশিয়া ইউক্রেন ইস্যুতে চীনের বিপক্ষে এমন একপাক্ষিক অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। 





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।