ইউক্রেন এবং রাশিয়া যুদ্ধের বর্ষপূর্তির ঠিক আগমুহূর্তে ইউক্রেনে আকস্মিক সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কঠোর গোপনীয়তার মাঝেই এই ঝটিকা সফর করেন বাইডেন।
সফরে রাশিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ে নিহত ইউক্রেনীয়দের স্মরণে নির্মিত এক স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উদ্দেশ্য করে বাইডেন বলেন, “গত বছর ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন মনে করেছিলেন, ইউক্রেন খুবই দূর্বল এবং পশ্চিমা দেশগুলো বিভক্ত। কিন্তু মিঃ পুতিন যদি মনে করে থাকেন, তিনি ইউক্রেন এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে জয়ী হবেন, তাহলে তিনি বড় ভুল করছেন।”
এসময় ইউক্রেনকে আরো ৫০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জো বাইডেন। সেইসাথে রাশিয়ার উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এসময় ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফর। সংবাদ সম্মেলন আগে দুই প্রেসিডেন্ট এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই পুরো সফর শুরু থেকেই কঠোর গোপনীয়তার মাঝে রাখা হয়েছিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইম জানায়, শনিবার রাতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং তার স্ত্রী জিল রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই কোনো ঘোষণা না দিয়েই বেরিয়ে পড়েন বাইডেন। সে রাতেই ওয়াশিংটন থেকে পূর্বনির্ধারিত পোল্যান্ড সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
রবিবার রাতে হোয়াইট হাউজের বার্তায় বলা হয়, পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় পোল্যান্ডে অবস্থান করবেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু, রবিবার রাত থেকেই পোল্যান্ডে ছিলেন বাইডেন। পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে চেপে ইউক্রেন যান জো বাইডেন। প্রায় দশ ঘন্টার ট্রেন যাত্রার পর কিয়েভে পৌঁছান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার কথা ভেবে গোপন রাখা হয় সফরের পুরো পরিকল্পনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্ট জ্যাক সুলিভান পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিয়েভ সফর করবেন এমন এক বার্তা পাঠিয়ে সফরের কয়েক ঘন্টা আগেই রাশিয়াকে সতর্ক করেছিল হোয়াইট হাউজ।
ইউক্রেনে আগ্রাসান চালানো রাশিয়ান বাহিনীর সঙ্গে ‘বিরোধ নিরসন’ করার চেষ্টা হিসেবে এই সফর করা হবে বলে মস্কোকে জানানো হয়েছিলো।
সফর চলাকালে ভ্লাদিমির জেলেনস্কির যতক্ষণ সময় প্রয়োজন ততক্ষণই সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাইডেন। বাইডেনের এই আকস্মিক সফর ঘিরে ইউক্রেনের রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়া হয়।
জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানায়, বাইডেনের আসার খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। এছাড়া তার সফরে যেকোনো জটিলতা এড়াতে এদিন কিয়েভের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানীতে পৌঁছান বাইডেন। সেখানে পৌঁছানোর পরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সফর শেষ হবার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি পোস্ট করেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় তাকে।
ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘কিয়েভে স্বাগত জো বাইডেন। আপনার এই সফর ইউক্রেনীয়দের প্রতি সমর্থনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক নিদর্শন’।
এদিকে এই সফরের পরপরই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পক্ষ থেকে দেয়া সামরিক সহায়তার বিস্তারিত জানানো হয়। এসব সাহায্যের মাঝে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হিমার্স রকেট লঞ্চার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই রকেট লঞ্চার ৫০ মাইল দূরের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম। খুব সহজেই বহনযোগ্য এসব রকেট লঞ্চার দিয়ে জিএমএলআরএস (G–M-L-R-S) বোমা ছোঁড়া সম্ভব।
এছাড়াও এই সহায়তার আওতায় রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব আর্টিলারি গোলাবারুদ, অ্যান্টি-আরমার সিস্টেম, বিমান নজরদারি রাডার ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সরঞ্জাম।