ইরানের নতুন প্রযুক্তি ঘুম হারাম করে দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের। লঞ্চ হওয়ার আগেই হয়ে উঠেছে সবার মাথা ব্যথার কারণ!
যুক্তরাষ্টের F-35 কিংবা F-22 রাপটার সহ, পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধবিমানগুলোকে টেক্কা দিতে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধবিমান, উন্মোচন করতে যাচ্ছে ইরান।
চালক বিহীন এই এয়ারক্রাফট উদ্বোধনের আগেই, ঘুম হারাম হওয়ার অবস্থা হয়েছে, আমেরিকা সহ পশ্চিমা দেশগুলোর।
আগামী বছরে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি, পাইলটবিহীন “কাহের জঙ্গিবিমান” উন্মোচন করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
বহুল প্রতীক্ষিত এই বিমানটি, একটি এক আসনের স্টিলথ জঙ্গিবিমান।
নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এই বিমানে ব্যবহার করা হয়েছে, পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জাম। অত্যন্ত নিচু এলাকা দিয়ে উড়ে যেতে সক্ষম এটি।
এছাড়া যেকোনো রাডার ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে, শত্রু এলাকায় অনায়াসে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতেও সক্ষম।
কাহের - 313 নামের যুদ্ধযানটি, ২০০৭ সালে ডিজাইন করা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত একটি বিমান।
একই সাথে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ও বোমা বহন, এবং শত্রু বিমানের সাথে আকাশপথে যুদ্ধে, সমান তালে পারদর্শী এটি।
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত রানওয়ে থেকে উড়াল দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এতে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত ভয়ঙ্কর F-18 হরনেট বিমানের, সমকক্ষ ভাবা হয়েছিল এটিকে। বস্তুতপক্ষে এর চেয়েও অধিক ক্ষমতা রয়েছে সেটির মধ্যে।
আকাশযুদ্ধে শত্রু বিমানকে পরাজিত করা এবং শত্রু দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংসে, অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এটি।
আশির দশকের পর থেকে, ইরানের উপর অর্থনৈতিক এবং সামরিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয় পশ্চিমারা। এর কারনে সামরিক প্রযুক্তি আমদানি করতে পারত না দেশটি।
কিন্তু বিপরীতে নিজস্ব সামরিক শিল্প গড়ে তোলে এশিয়ার দেশটি। এমনকি পৃথিবীর শীর্ষ সামরিক শক্তিধর দেশের একটিতে পরিণত হয়েছে তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে, নিজস্ব প্রযুক্তির সকল সামরিক সরঞ্জাম তৈরির পাঠ শেষ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো, রাইফেল থেকে শুরু করে,
পাইলট বিহীন বিমান এবং অন্যান্য যুদ্ধ সরঞ্জাম নির্মাণ করছে তারা।
এর ফলে সামরিক ক্ষেত্রে প্রায় সয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরান।
আগামী ২১ মার্চে শুরু হবে ফারসি নতুন বছর।
এ বছরের মধ্যেই নতুন বিমান যুক্ত করার পাশাপাশি, নতুন ভার্সনের আরো কিছু এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন,বিমান শিল্প সংস্থার প্রধান নির্বাহী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আফশিন খাজেফার্দ ।
তিনি বলেন , দশ বছর আগে ইরান এই বিমান নির্মাণ করেছিল।
কাহের বিমান প্রকল্প এখন প্রযুক্তিগত দিক থেকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছেছে।
তবে আমরা এখন আরো বেশি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিমান তৈরি করতে যাচ্ছি।
এর অর্থ হচ্ছে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে, আপনারা কাহের জঙ্গিবিমানের নতুন ভার্সন দেখতে পাবেন এবং এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে।”
জেনারেল খাজেফার্দ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, বাণিজ্যিক বিমান নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরিতে, স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
ইরান এখন ১০ রকমের বিমানের ইঞ্জিন তৈরি করতে সক্ষম।
বিমান বাহিনীতে এ মাল্টিরোল ফাইটার বিমানটি যুক্ত হলে, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। আর এতে উদ্বেগ বাড়বে, যুক্তরাষ্ট্র সহ এশিয়ার অনেক প্রতিবেশী দেশের।
ইতোমধ্যেই এই বিমান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। আকাশ পথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতার কথা এখন থেকে, মাথা ব্যাথার কারণ হবে অনেক দেশের।