আন্তর্জাতিক


২৪ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর সফর শেষে কীভাবে ইউক্রেন গেলেন বাইডেন!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার

২৪ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর সফর শেষে কীভাবে ইউক্রেন গেলেন বাইডেন!

চোরের মতো পালিয়ে ইউক্রেন গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ ছাড়া, পুরো দুনিয়ার কাছে বিষয়টি ছিল অজানা। 
সাথে সাংবাদিক থাকলেও, গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কেড়ে নেয়া হয় তাদের ফোন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেনে যেতে, ব্যবহার করেছেন আকাশ, সড়ক ও রেলপথ।


শেষ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইউক্রেন সফর। অথচ দেশটিতে আসার মাত্র ৫ মিনিট আগেও, কেউ আন্দাজ করতে পারেনি তার এই সফর সম্পর্কে। 

২৪ ঘন্টাব্যাপী সফরের পুরোটা সময় ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। এমনকি বাইডেন কখন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাও জানা যায়নি গনমাধ্যমে। 

তার এই আকস্মিক সফরের গোপনীয়তা নিশ্চিতের দায়িত্বে ছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। সফর শেষে প্রেসিডেন্ট পোল্যান্ড পৌছালেই কেবল সামনে আসে বিস্তারিত। 

হোয়াইট হাউজ প্রকাশ করেছে, আলোচিত সফরটির একাধিক ছবি এবং যাত্রা বিবরনী। সেখানটায় জানা যায়, বাইডেন আকাশপথে নয় বরং ট্রেনে চেপে পৌছেছেন ইউক্রেন। 

অবশ্য পেন্টাগন পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঝামেলা এড়াতে সফরের কয়েক ঘন্টা আগেই, বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্তা পাঠিয়েছিল পুতিন প্রশাসনের নিকট।  

গেল কয়েক মাস ধরেই ক্রেমলিন থেকে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের বছরপুর্তীতে ইউক্রেনে সফর করবেন USA প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

প্রতিবারই এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তবে গেল সোমবার সন্ধ্যায়, জো বাইডেনের পুর্বনির্ধারিত সফর ছিল পোল্যান্ডের রাজধানীতে। 

কিন্তু মার্কিন গনমাধ্যমের তথ্যমতে, সফরের একদিন আগে রোববার ভোরে ওয়াশিংটনের বাসভবন ছেড়ে, এন্ড্রুজ বিমানঘাটির দিকে রওনা দেন  বাইডেন। 

সেখান থেকে কোন প্রাইভেট জেট নয়, বরং মার্কিন বিমানবাহিনীর মালিকানায় থাকা, বোয়িং757 উড়োজাহাজে চেপে রাওনা দেন পোল্যান্ডে।

তার সাথে ছিলেন পনেরজন দেহরক্ষী ও তিনজন ব্যক্তিগত উপদেষ্টা। পথে অবশ্য বিমানটি জার্মানির রামস্টেইন ঘাটিতে দাঁড়ায় জ্বালানী নেওয়ার জন্যে। 

পরবর্তী গন্তব্য পোল্যান্ডের রাজধানী হলেও, সেখানে যায়নি বিমানটি। দিক পরিবর্তন করে তারা অবতরন করে পোলিশ সীমান্তবর্তী বিমানবন্দর রেজেসজো-জাসিওঙ্কাতে। 

নাটকীয়তার সমাপ্তি এখানেই নয়। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বাইরে অপেক্ষারত গাড়িতে চেপে বসেন বাইডেন। ১ ঘন্টার যাত্রায় পৌছে যান ইউক্রেন সীমান্তে। 

সড়কপথে বাইডেনের গাড়িবহরের সামনে পিছনে বাজানো হয়নি কোন সাইরেন। তবে বাইডেনের গাড়ীতে ছিল USA এবং পোল্যান্ডের পতাকা।

সড়কপথের যাত্রা শেষে বাইডেন এবং তার সফরসঙ্গীরা পৌছান একটি রেলস্টেশনে।  সেখান থেকে তারা ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত ট্রেন ধরেন। 

পোল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে, ট্রেনটি সোমবার সকাল ৮টার পর কিয়েভে পৌঁছায়। এসময়ে তাকে স্বাগত জানান ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত। 

কিছুক্ষন পর তিনি সাক্ষাত করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলনস্কির সাথে। দুই প্রেসিডেন্ট একটি চার্চ পরিদর্শনে খোলা আকাশের নিচে বের হন।

সেই সময় অবশ্য রাশিয়া ইউক্রেনের আকাশে বিমান হামলার সাইরেন বাজায়। তাতেই সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। তবে কোন সংঘাত ঘটেনি। সম্পুর্ন সময়টাতে আকাশপথে নজরদারি চালিয়েছে মার্কিন বিমান। 

জেলনস্কির সাথে সাক্ষাতের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই, আবার ট্রেনে চেপে পোল্যান্ড সীমান্তে ফেরত যান জো বাইডেন। এরপর এয়ারফোর্স ওয়ান নিয়ে রাওনা করেন রাজধানী ওয়ার্শে।

নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বরাত দিয়ে মার্কিন গনমাধ্যম গুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই সফরের পরিকল্পনা করা হলেও, দিনক্ষন নিশ্চিত করা হয় গত শুক্রবার। 

প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলেভান অবশ্য জানিয়েছেন, অনাকাঙ্খিত সংঘাত এড়াতে বাইডেন কিয়েভগামী ট্রেনেথাকা, অবস্থাতেই এব্যপারে জানানো হয়েছিল মস্কোকে। 

এছাড়া বাইডেনের এই সফরে দুইজন সাংবাদিকও গিয়েছিলেন। তারা জানান, সফরের শুরুতেই তাদের ফোন এবং সব ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে নেওয়া হয়। তবে ২৪ ঘন্টা পর ইউক্রেনে পৌছালে তাদের ফোন ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। 

 








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।