আন্তর্জাতিক


অ্যাপলের হেডকোয়ার্টার, ৫ বিলিয়ন ডলারের অ্যাপল পার্কে কি আছে?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার

অ্যাপলের হেডকোয়ার্টার, ৫ বিলিয়ন ডলারের অ্যাপল পার্কে কি আছে?



বিশাল আকৃতির একটি স্পেসশিপ পড়ে রয়েছে পৃথিবীতে! তবে, এটি এলিয়েনদের তৈরি কোনো মহাকাশযান নয়।

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের হেডকোয়ার্টার। ক্যালিফোর্নিয়ার, কোপারটিনোতে অবস্থিত ক্যাস্পাসটি 'অ্যাপল পার্ক' হিসেবেই পরিচিত।

ভেতর কিংবা বাহির, যেকোনো দিক থেকে দেখলেই এটিকে অফিস কম পাঁচতারকা হোটেলই বেশি মনে হবে সবার কাছে।

অফিস ভবন ছাড়াও ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে, কর্মীদের থাকার জায়গা, ফিটনেস সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, গেমিং জোন, সিনেমা হল, অডিটোরিয়ামসহ সুবিশাল গ্রিন স্পেস।

অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা 'স্টিভ জবসের' ড্রিম অফিস এটি। নিজের জীবনের সর্বশেষ দুই বছর এটি নিয়েই কাজ করেছিলেন তিনি।

ক্যাম্পাসটি তৈরির ঘোষণা ২০০৬ সালে দিলেও পরিকল্পনা, প্রস্তাবনা সহ বিভিন্ন অনুমোদন নিতে প্রায় ৮ বছরের মত সময় লেগে গিয়েছিলো।

২০১৩ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে।ভবনটির ডিজাইন করেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি নর্ম্যান ফস্টার। 

নিজেদের বিভিন্ন ডিভাইস তৈরিতে অ্যাপল সবসময় যেরকম ইউনিক কিছু করার চেষ্টা করে, তেমনি কোম্পানির হেডকোয়ার্টার তৈরিতেও স্বতন্ত্রতার পরিচয় দিয়েছে তারা।

ক্যাম্পাসে থাকা প্রতিটি বিল্ডিং নির্মান করা হয়েছে আইফোনের হার্ডওয়্যার গুলোর সাথে সাদৃশ্য রেখে।

বাথরুম থেকে লিফট সব জায়গায় অ্যাপলের তৈরি বিভিন্ন ল্যান্ডমার্ক হার্ডওয়্যারের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।

এমনকি আইফোনের হোম বাটনের আদলে নির্মান করা হয়েছে ভবনের এলিভেটরের বাটন গুলো।

পুরো ক্যাম্পাসটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার চাইতেও বেশি।

১৭৬ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত ক্যাস্পাসটির আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, ফ্লায়িং সশারের মতো দেখতে মূল অফিস ভবনটি।

পুরো ক্যাম্পাস নির্মাণে ব্যয় করা ৫ বিলিয়ন ডলারে চার দশমিক এক সাত বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করা হয়েছে এটি নির্মাণে।

২ দশমিক ৮ মিলিয়ন স্কয়ার ফুটের এই ভবনকে, প্রথম দেখায় যে কারো কাছে মনে হবে এলিয়েনদের তৈরি কোনো স্পেসশিপ।

ভবনটির ডিজাইন করার সময় প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রাখার ব্যাপারটি মাথা রেখেই ডিজাইন নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুরো ভবনে যেন পর্যাপ্ত পরিমানে প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য ভবনটি নির্মাণে প্রচুর পরিমানে কাচ ব্যবহার করা হয়েছে।

যাতে কাজ করার সময় কর্মীরা পর্যাপ্ত পরিমানে আলো এবং প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। যা কর্মীদের অফিসে কাটানো একঘেয়ে সময়কে আনন্দদায়ক করে তুলতে সাহায্য করে।

ভবনের সিলিং গুলো নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চমানে পলিশড কংক্রিট। গুনগত মানের দিক থেকে এক বিন্দুও ছাড় দেয়া হয়নি।

ভবনটি দেখতে যেমন আকর্ষনীয় তেমনি টেকসই! শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রতিরোধে এতে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের সময় কাঠামোগত কোনো ক্ষতি ছাড়াই ৪ ফুট এদিক সেদিক নড়াচড়া করতে পারে এটি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, অ্যাপল পার্কের সবগুলো ভবনেই এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেম ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মূল ভবন ছাড়া ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে, সুবিশাল মিটিং স্পেস, ১ লাখ বর্গফুটের ফিটনেস সেন্টার। 

এছাড়াও কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের নামে একটি অডিটোরিয়াম রয়েছে। যার পুরোটাই কোনো পিলার ছাড়াই কাচের উপর তৈরি করা হয়েছে।

এর আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে এক হাজার আসনের থিয়েটার। অ্যাপলের বিভিন্ন লাইভ লঞ্চিং ইভেন্ট এখান থেকেই করা হয়।

ক্যাম্পাসটিতে ছোটো বড় সব মিলিয়ে সাতটি ক্যান্টিন রয়েছে। যেগুলোতে দিনে ৫০ হাজার মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

পরিবেশের কথা মাথায় রেখে পুরো ক্যাম্পাসে প্রচুর পরিমানে গাছপালা লাগানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গায় ছোট বড় সব মিলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৯ হাজার গাছ রয়েছে।

সেই সাথে বিশাল আকারের অ্যাপল পার্কে সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হয়। মূল ভবন আর পার্কিং স্পেসের ছাদে লাগানো হয়েছে সৌরবিদুতের প্যানেল। 

অ্যাপলপার্কে বর্তমানে ১২ হাজারের বেশি কর্মচারী নিয়োজিত আছে।তাদের ব্যবহার করা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে স্মার্ট পার্কিং লাউঞ্জ। যেখানে প্রায় ১১ হাজার গাড়ি পার্ক করা যায়।

ক্যাম্পাসের নিজস্ব রাস্তা ছাড়াও রয়েছে ১ মাইলের একটি প্রাইভেট টানেল। যা অ্যাপলের পুরোনো হেডকোয়ার্টারের সাথে নতুন হেডকোয়ার্টাকে যুক্ত করেছে।

কর্মচারিরা যাতে এক ক্যাম্পাস থেকে অন্য ক্যাম্পাসে সহজেই যাতায়াত করতে পারে এর জন্য ১০০০ এর অধিক ফ্রি সাইকেল রাখা আছে তাদের জন্য।

অ্যাপলের কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যাতীত মূল ক্যাম্পাসে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। তবে দর্শনার্থীরা যাতে পুরো ক্যাম্পাসের ভিজ্যুয়াল ধারনা নিতে পারেন সেজন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

দর্শনার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসটিতে রাখা হয়েছে ১০ হাজার বর্গফুটের বিশাল অ্যাপল স্টোর। যেখানে লেটেস্ট মডেলের সবকিছুই সবার আগে পাওয়া যায়।

মজার এই ক্যাম্পাসে চাকরি করার স্বপ্ন দেখেন সারাবিশ্বের অনেকেই। তবে শুধুমাত্র যোগ্যদেরই সুযোগ মিলে এখানে কাজ করার।






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।