আন্তর্জাতিক


চলতি বছরেই থেমে যাবে ইউক্রেন যুদ্ধ!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

চলতি বছরেই থেমে যাবে ইউক্রেন যুদ্ধ!

এই বছরের মাঝেই থেমে যাবে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ। তীব্রতা বাড়লেও, চলতি বছরেই ইতি ঘটবে সংঘাতের। এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ পাভেল ফেলেনহাওয়ার। 

তার মতে, টানা ১২ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, আরও দীর্ঘসময় এই যুদ্ধ টেনে নেওয়ার মানসিকতা নেই কারোর। 

আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুদ্ধের বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে কথা বলেছেন ফেলেনহাওয়ার। তার মতে, যুদ্ধে ঠিক কে জিতবে তা এখনই বলা সম্ভব না। এখনই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সবকিছু অনুমান করা কঠিন। 

দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে নারাজ। উভয়েই চাইছে আকস্মিক আক্রমণ করতে। ফলে, এখনও বহু ভুল তথ্য পাচ্ছে সবাই। তবে ইউক্রেন বড় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। 

এর আগে এমন আকস্মিক আক্রমণ করে সফল হয়েছে ইউক্রেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে খারকিভে আচমকা আক্রমণে রাশিয়াকে পিছু হঠতে বাধ্য করেছিলো তারা। খেরসন অঞ্চল থেকেও একইভাবে নিজেদেরকে সরিয়ে নেয় রাশিয়া। 

আকস্মিক এসব আক্রমণে ইউক্রেন এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যার জন্য রাশিয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়ে যায়। এমনকি ৫ মাস পরেও সেই আক্রমণের ধাক্কা থেকে, পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি রুশ সেনাদের পক্ষ থেকে।   

রাশিয়া কেন যুদ্ধে জড়িয়েছে তার পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন তিনি। রাশিয়াকে আক্রমণ করতে পারে এমন পশ্চিমা মিসাইল ঠেকাতে, যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা মাথায় আসে পুতিনের। ভৌগলিকভাবে নিজেদের আরো শক্তিশালী প্রমাণ করার চেষ্টা হিসেবেও, এই যুদ্ধ পুতিনের কাছে বেশ গুরত্বপূর্ণ ছিলো। 

যদিও এসব অবস্থান থেকে এখন অনেকটাই সরে এসেছেন পুতিন। বিশেষ করে সমগ্র পশ্চিমা বিশ্ব অনেক আগে থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ। 

পাভেল ফেলেনহাওয়ার বিশ্বাস করেন, পশ্চিমা বিশ্ব এমন মিসাইল সরবরাহ করেছে, যার দ্বারা খুব দ্রুতই জার্মানি থেকে রাশিয়াতে আক্রমণ করতে সক্ষম। 

বিগত কয়েকমাসে খেরসন, মারিওপোল, ক্রিমিয়া, এমনকি ডোনবাস থেকেও পিছু সরে এসেছে রাশিয়ান সেনাবাহিনী। এসব পরিস্থিতিকে পুতিনের জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে ফেলেনহাওয়ার।               

তবে সবকিছুর পরেও এখনই রাশিয়াকে যুদ্ধে পরাজিত মানতে নারাজ এই বিশ্লেষক। রাশিয়াকে যতখানি দূর্বল ভাবা হয়, তারা আসলে ততখানি দূর্বল নয়। ইউক্রেনের কাছে পশ্চিমা সাহায্য আছে। সেইসাথে সম্মিলিত অর্থনৈতিক শক্তি, রাশিয়ার চেয়েও বহুগুণে বড়। তবে যুদ্ধ পুরোপুরি অনিশ্চিত।

রাশিয়ার পক্ষে এখনও এই যুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে। বিশেষ করে চীনের সাহায্য পেলে যুদ্ধের পরিস্থিতি অনেকখানি বদলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের অস্ত্র পেলে রাশিয়াও লম্বা সময়ের জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। 

তবে সহজে দুই পক্ষের মাঝে শান্তিচুক্তি হবে না বলেও ধারণা করছেন ফেলেনহাওয়ার। যুদ্ধ শুরুর পরপরই, দুই পক্ষের বৈঠকের কথা স্মরণ করিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, দুই পক্ষের মাঝে দূরত্ব অনেক বেশি। 

গত বছরের মার্চেই তারা ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, তারা সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেন আর রাশিয়া দুই পক্ষই অনেক বেশি দাবি নিয়ে হাজির হয়েছিল। তাই আবারও দুই পক্ষ দূরে সরে যায়। 

এই মুহুর্তে সবাই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। তাদের সক্ষমতা ঠিক কতখানি থাকবে, তার উপরেই নির্ভর করছে যুদ্ধের ভাগ্য। তবে, এত বেশি ক্ষয়ক্ষতি আর প্রাণহানির পর, আরও এক বছর যুদ্ধ করার মত অবস্থানে নেই কোন দেশ। এমনটাই ধারণা করছেন রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ।   
 













জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।