আন্তর্জাতিক


ভূমিকম্পের কারনে জনপ্রিয়তা কমছে এরদোয়ানের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ভূমিকম্পের কারনে জনপ্রিয়তা কমছে এরদোয়ানের

জনপ্রিয়তা কমছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েব এরদোয়ানের। মুসলিম বিশ্বের সুলতান নামে পরিচিত তিনি। নিজের ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব দিয়ে গোটা বিশ্বের মনযোগ কেড়েছিলেন এই নেতা। 

তবে তার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। গত ছয় ফেব্রুয়ারী তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। এর পর থেকে এরদোয়ানকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

চলতি বছরের জুনে দেশটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বছরের নির্বাচনে এরদোয়ানের জয় লাভের সম্ভবনা কম। তিনি তাঁর তিন প্রতিদ্বন্ধীর চেয়ে পিছিয়ে আছেন।

ভূমিকম্পে তুরস্কে  প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রথম দিনের উদ্ধার কার্যক্রম এবং সার্বিক বিপদ মোকাবিলা নিয়ে, এরদোয়ানের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন বিরোধীরা। 

তাছাড়া ১৯৯৯ সালের ভূমিকম্পের পর, নতুন আইন অনুসারে নির্মাণ শিল্পের দায়িত্ব ছিল, আমলাতান্ত্রিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। 

এরদোয়ান ২০১৭ সালে সেটা পরিবর্তন করেন। তিনি পেশাজীবি ঠিকাদারদের নির্মাণ কাজে নিয়োগ দেন। এছাড়া করের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের মালিকদের দায় মুক্তি দেন।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর এরদোয়ানকে দায়ী করছেন অনেকে। তাঁর নীতির কারনেই এত ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন বিরোধীরা।

তুরস্কে ১৯৯৯ সালে ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই সময় এরদোয়ান ও তার দল এই ইস্যুতে আন্দোলন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। 

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট ইসোভিট, ঐ সংকট মোকাবিলা করতে না পারায় হেরে গিয়েছিলেন। এত বছর পর একইরকম সংকটের মুখোমুখি এরদোয়ান। 

শুধু এই ইস্যুতেই নয়, গত বছর থেকে নানা ইস্যুতে তার জনপ্রিয়তা কমছিল। গত বছর থেকে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতিতে বিপর্যস্ত দেশটির অর্থনীতি।

ছয় মাস ধরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৮০ শতাংশের বেশি। নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে ৮৫ শতাংশের অধিক। এসব কারণে তরুণদের মাঝে এরদোয়ানের প্রভাব কমেছে।

তুরস্কের আসন্ন নির্বাচনে, যে বিষয়গুলো ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে সেগুলো হলো-

অর্থনৈতিক অবস্থা ও জীবনমান, রাজনৈতিক সামাজিকায়ন বা রাজনৈতিক পরিচয়বাদ, ধর্মীয় ও জাতিগত রাজনীতি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা এবং উদ্বাস্তু সংকট। 

বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে জ্বালানি দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি মড়ার উপর খারার ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে।

তাছাড়া বর্তমানে দেশটির ছয়টি বিরোধী দল এরদোয়ানের বিপক্ষে জোট বেঁধেছে। তারা নতুন নেতৃত্ব চায় দেশে। 

২০১৯ সালে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট ইস্তাম্বুল সহ, কয়েকটি শহরের মেয়র পদে জয়ী হয়। এই সাফল্য তাদের প্রেরণা দিয়েছে।

এরদোয়ানের জন্য চিন্তার বিষয় হলো, বিরোধীদের এই জোটে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ জনেরা আছেন।

ফিউচার পার্টির আহমেদ দাভুতোলু ও ডেমোক্রেটিক এন্ড পোগ্রেস পার্টির আলি বাবাকান, তাঁর জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

এর সাথে লৌহ মানব খ্যাত গুড পার্টির চেয়ারপারসন মেরাল আকসেনও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন দিন দিন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী জোট সম্মিলিতভাবে প্রার্থী দিলে এরদোয়ান পরাজিত হতে পারেন। 

বিরোধীদের এসব প্রচেষ্টা মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন এরদোয়ান। আরব দেশগুলোর সাথে শত্রুতা কমিয়েছেন। 

সেই সাথে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এনে, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছিলেন।

কিন্তু এরদোগান বিরোধী শিবিরের জন্য, নতুন হাতিয়ার হয়ে এলো ভয়াবহ ভূমিকম্প। তাই এ বছরের নির্বাচনে জয়লাভ করা, এরদোয়ানের সামনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ