আন্তর্জাতিক
কবে থামবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ?
দ্বিতীয় বছরে পড়লো রুশ- ইউক্রেন যুদ্ধ। কবে থামবে এই যুদ্ধ?
দিন-সপ্তাহ-মাসের পর বছর পেরিয়ে, রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ গড়ালো দ্বিতীয় বছরে। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে এক বিশেষ সামরিক অভিযান” শুরু করেছিল রুশ সেনারা। কিন্তু সেটি আর বন্ধ হয়নি। পরিণত হয় যুদ্ধে।
এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইউক্রেন। দেশটির হয়ে পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের সহযোগী দেশগুলো। ইউক্রেনকে সকল ধরণের সহায়তার ঝুলি নিয়ে বসে তারা।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। এমন অবস্থায় পুরো বিশ্বে পড়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব। এখন যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার সকল প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে দুই দেশ।
গত এক বছরে ইউক্রেনের পাচ ভাগের মাত্র এক ভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া। যদিও এই যুদ্ধ চালানোর জন্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ও তার দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কিন্তু তাতে কোনো ভয় পাচ্ছেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি তার লক্ষ্যে অটুট। আবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়াকে পরাজিত করার লক্ষ্যে, দফায় দফায় পশ্চিমাদের সহায়তা চেয়ে আসছেন।
সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা। এতেই যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে যেন আরো ক্ষেপে উঠেছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে রাশিয়ার সাথে যুক্ত না করা পর্যন্ত, থামতে চাচ্ছেন না তিনি। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনই যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই।
ইউক্রেন- রাশিয়ার যুদ্ধের ভয়াবহতায় প্রাণ গেছে বহু মানুষের। লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে গৃহহীন ও শরণার্থীর জীবন কাটাচ্ছে। ভবনের পর ভবন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ এখনো চলছে গোটা দেশে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে ইউক্রেনে। নিহত হয়েছেন উভয় পক্ষের লক্ষাধিক সেনা। ইউক্রেনের অনেক শহর ও গ্রাম রকেট এবং গোলার আঘাতে মাটিতে মিশে গেছে।
উভয় দেশই নতুন করে আরও শক্তি নিয়ে, একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাজার হাজার নতুন সেনা নিয়োগ করা হচ্ছে, এবং আরও উন্নত ও আধুনিক অস্ত্র লড়াইরত শিবিরে যুক্ত হচ্ছে।
সকল আয়োজন দেখে ধরে নেওয়া হচ্ছে, সামনের বছরে, আগের চেয়ে বেশি বড় ও বেশি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন আসছে, যুদ্ধ অবসানের কি কোনো ইচ্ছা নাই গোটা বিশ্ববাসীর?
উত্তর হলো, আলোচনায় বসছে না দুই দেশ। আর বসলেও সেটি কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান শুরুর দিকে যুদ্ধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা আলোচনা করলেও, সেগুলো তেমন কাজে লাগে নি।
এর মধ্যে গত ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, ইউক্রেনে শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এতে ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
সেখানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪১টি দেশ সমর্থন করে, বাংলাদেশ সহ ৩১টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে। রাশিয়াসহ সাতটি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়।
এবার যুদ্ধের এক বছর পূর্তিতে শান্তি প্রস্তাব হাজির করতে পারে চীন। তবে ইউক্রেন ও রাশিয়া নিজেদের লক্ষ্য অর্জন থেকে পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত না দেওয়ায়, চলতি বছরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই, পুরো বিশ্বকে দাঁড় করিয়ে দেয় নতুন এক যুদ্ধের সামনে। আর সেই যুদ্ধের ডামাডোলে বিশ্ব অর্থনীতি এখন পুরো বদলে গেছে।
এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কোনও সমাধানে না পৌঁছানো গেলে ভুগতে হবে সবাইকে।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক
নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।
.jpg)
ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)