আন্তর্জাতিক


রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ কি চলবেই?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ কি চলবেই?

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক বছর পূর্ণ হলো। পুতিনের সেই বিশেষ হামলা ব্যাপক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। এই যুদ্ধ কিভাবে শেষ হবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। 

বিভিন্ন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধ সহজেই শেষ হবে না। উলটো যুদ্ধের কারণে সামনের দিনে বিশ্বে আরো ভোগান্তি বাড়বে। 

যুদ্ধকে ঘিরে  ভূরাজনীতির জটিলতাও বাড়ছে। পুরো ইউরোপ জুড়ে বৃহত্তর একটি যুদ্ধের সম্ভাবনা  দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। 

সম্প্রতি ন্যাটো জোটের একটি বৈঠকে বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, জোটের সদস্য দেশের কেউ আক্রান্ত হলে, পুরো জোট আক্রান্ত হয়েছে বলে গণ্য করে তার উচিত জবাব দেয়া হবে।

এইদিকে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ২০১০ সালে সই করা নতুন কৌশলগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি স্থগিত করেছে। 

এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর শক্তিশালী সমর্থন ইউক্রেনকে শক্তি ও সাহস জোগাচ্ছে। 

নিজেদের দুর্বল সামরিক শক্তি সত্ত্বেও, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার মনোবল পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জো বাইডেনের ইউক্রেন সফর, সেই মনোবলকে আরো চাঙা করেছে। 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মনে করা হয়েছিল, পশ্চিমাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, যুদ্ধে রাশিয়াকে নমনীয় হতে বাধ্য করবে।

এক বছর পর এসে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমাদের এতসব প্রচেষ্টার পরও রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি খুব বেশি দুর্বল হয়নি। 

এর বিপরীতে রাশিয়া তার সমমনা দেশগুলোকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত, বৈশ্বিক অর্ডারকেই বদলে দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রাশিয়ার পাশে চীনের মৌন সমর্থন পুতিনকে শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে। 

চীনের সহায়তায় রাশিয়া BRICS জোটকে অধিক সক্রিয় করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জোটের সক্রিয়তা বাড়িয়ে, ডলার কেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটা বড়সড় ধাক্কা দিতে চায় পুতিন। 

এই কাজে ভারতকেও পাশে পাওয়া রাশিয়ার কাজকে সহজতর করে তুলছে। ব্রিকস জোটে সৌদি আরব যুক্ত হওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে তা সত্যি হলে, পশ্চিমা জোট ভালোই বিপদে পড়বে। 

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক মেরুকরণ দিন দিন প্রবল হয়ে উঠছে। যুদ্ধের শুরুতে পুতিন ধারণা করেছিলো, জ্বালানিকে পুঁজি করে ইউরোপের দেশগুলোকে নিজের পক্ষে টানবেন, ইউক্রেনকে যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য করবেন। 

পুতিনের এই ধারণাও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। গত এক বছরে ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার প্রতি জ্বালানি নির্ভরতা, ৪০ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এটিকে বাইডেন তার বিশাল এক জয় হিসেবেই দেখছেন। 

অন্যদিকে যে ন্যাটোর সম্প্রসারণের কথা তুলে পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করলেন, সেই ন্যাটোই ইউরোপের অন্য দেশে প্রসারিত হচ্ছে।

পুর্ব ইউরোপ ছেড়ে এবার ন্যাটো উত্তরের দেশ সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে ঘাটি ঘাড়ছে। 

সব মিলিয়ে পুতিন বেশ চাপেই আছেন। বছরব্যাপী চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়ার হতাহতের সংখ্যাও কম নয়।

প্রথমদিকে এই সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া না গেলেও, রাশিয়ার বাহিনীর পিছু হটা দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। 

সামরিক শক্তির দিকেও রাশিয়া কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান ও উত্তর কোরিয়া থেকে অস্ত্র আমদানি সেটির প্রমাণ দিচ্ছে। চীনের কাছ থেকেও অস্ত্র পেতে চাইছে তারা।

চীন যেন রাশিয়াকে অস্ত্র না দেয়, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রতি জোরালো আহবান জানিয়েছে।

কিছুদিন আগে চীনের শীর্ষ কূটনীতিকরা মস্কো সফর করেছেন। এই সফর ঘিরেও নানা রহস্য জমাট বেধে উঠছে। 

এতসব রহস্যের ঘনঘটা ও দুই পক্ষের নানারকম প্রচেষ্টা দেখে, এটাই প্রতীয়মান হয় যে কেউ কাউকে ন্যূনতম ছাড় দিতে নারাজ। 

এমন মানসিকতা থাকলে আর যাই হোক, যুদ্ধের সমাধান সহজ হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ