আন্তর্জাতিক


ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া তিন অস্ত্র


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া তিন অস্ত্র

এক বছরের টানা প্রচেষ্টার পর, এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের বড় অংশ নিজেদের দখলে আনতে পারেনি, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাশিয়ান সেনাবাহিনী। 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রবেশ করলেও, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পিছু হঠতে বাধ্য হয় তারা। বর্তমানে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার যুদ্ধের পুরোটাই পূর্ব ইউক্রেনের ডোনবাস অঞ্চলের মাঝে সীমাবদ্ধ। 

শক্তিশালী রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের এমন সাফল্যের পিছনে, তিন অস্ত্রকে বড় কৃতিত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। 

CNN এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, JEVELINE, HIMERS এবং বেরাকতার TB-২ ড্রোন, এই তিন অস্ত্রের গুণেই অনেকটা এগিয়ে আছে ইউক্রেন। 
  
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের lok hid martin এবং রেথিয়ন কোম্পানির তৈরি ট্যাংক বিধ্বংসী এক ক্ষেপনাস্ত্র jeveline. সহজে বহনযোগ্য এই ক্ষেপনাস্ত্র একজন ব্যক্তিই ব্যবহার করতে পারেন। 

এমনকি ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়া শেষ হতেই ব্যবহারকারী জায়গা পরিবর্তনেও সক্ষম। যার কারণে পালটা আক্রমণ থেকেও রেহাই পাওয়া সম্ভব। 

মূলত ব্যবহারিক সুবিধার জন্য, ইউক্রেনের সেনাদলের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জ্যাভেলিন। 

কিয়েভ আক্রমণের পরপরই জ্যাভেলিনের মুখোমুখি হয় রাশিয়া। তড়িৎ আক্রমণে সক্ষম এই অস্ত্রের সামনে কিছুটা অপ্রস্তুত ছিলো রুশ বাহিনী। 

যুদ্ধের শুরুর দিকে রুশ বাহিনীর ট্যাংক বহরের মূল ক্ষতিসাধন করেছিলো এই জ্যাভেলিন। জ্যাভেলিনের এমন গুণে মুগ্ধ হয়েছিলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামায় এর উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে কর্মীদের ধন্যবাদও জানান বাইডেন। 

সামরিক সুবিধার বাইরে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও আছে জ্যাভেলিনের। কম খরচ এবং সহজ ব্যবহারের জন্য অন্যান্য দেশে, জ্যাভেলিন সরবরাহ করা রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃত। 

মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনেরই আরেক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিমার্স। যার পুরো নাম M-142 High Mobility Artillery Rocket System. 

হিমার্স একটি ৫ টন ওজনের ট্রাক। এখানে রকেট ছোঁড়ার ব্যবস্থা আছে। আর একইসাথে ৬ টি রকেট এখান থেকে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। আর হামলার পরপরই দ্রুত দূরে সরে যেতে সক্ষম এটি। 

যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর অন্যতম ভরসা হিমার্স। গেল সেপ্টেম্বরে খেরসানে, রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। 

যুদ্ধে রাশিয়ার বড় আতঙ্কের নাম ছিলো G-M-L-R-S. হিমার্স থেকে ছোঁড়া এসব রকেট ৭০ থেকে ৮০ মাইল দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। আর জিপিএস সুবিধা থাকায় খুব সহজেই নিখুঁত আঘাত করতে পারে এটি। 

চলমান এই যুদ্ধের সুবাদে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে তুরস্কের বেরাকতার টিবি-২ ড্রোন। চালকবিহীন এই ড্রোন ইউক্রেনের জন্য বড় হাতিয়ার। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাভেলিন কিংবা হিমার্সের মত ব্যয়বহুল না হওয়ায়, সহজেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেরাকতার টিবি-২ ড্রোন। জনপ্রিয়তার বিচারে এটি এতই প্রভাবশালী যে, একে নিয়ে রীতিমতো মিউজিক ভিডিও প্রচার করেছে ইউক্রেনের মানুষ। 

অপেক্ষাকৃত স্বস্তা হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে দারুণ কার্যকরী এই ড্রোন। ড্রোনটিতে অভিযানের সময় রেকর্ড হওয়া ভিডিওতে এর পুরো কার্যক্রম ধরা পড়ে। 

এই ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, লেজার নিয়ন্ত্রিত রকেট এবং স্মার্ট বোমা ছোঁড়া সম্ভব। এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ রাশিয়ান সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদের ভাণ্ডার ধ্বংসের কারিগর এই তুর্কি ড্রোন। 

তবে মার্কিন দুই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো টেকসই না বেরাকতার টিবি-২ । গতি এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় দূর্বল বলে, এখন পর্যন্ত বেশ কিছু ড্রোন হারিয়েছে ইউক্রেন। 

যুদ্ধের সময় ৫০ টি বেরাকতার টিবি-২ ড্রোন পায় ইউক্রেন। যার মাঝে  ১৭ টিই যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যদিও দাম তুলনামূলক কম হওয়াতে তা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করছেনা কেউই।  
   
আধুনিক এসব অস্ত্রের সবকটিই পশ্চিমা বিশ্ব থেকে সহায়তা হিসেবে পায় ইউক্রেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, পশ্চিমা এসব অস্ত্রের এমন আকস্মিক সরবরাহ আর ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ছিলো না রাশিয়া। যা এখন পর্যন্ত রাশিয়াকে অনেকখানি দমিয়ে রেখেছে। 
 

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।