আন্তর্জাতিক


এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করে জাহাজ।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ মার্চ ২০২২, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার

এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করে জাহাজ।

জার্মানিতে অবস্থিত বিস্ময়কর এক সেতুর নাম ম্যাগডিবার্গ ওয়াটার ব্রিজ।এই সেতুর উপর দিয়ে গাড়ির পরিবর্তে চলাচল করে বিশাল বিশাল জাহাজ। 


আধুনিক প্রযুক্তি এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার এক অনন্য উদাহরণ এই ওয়াটার ব্রিজটি। 


ইটপাথরের কাঠামোর উপর বানিয়ে ফেলা হয়েছে আস্ত এক নদী, যেটির উপর দিয়ে অনায়াসে চলাচল করতে পারে জাহাজের মতো বিশাল আকৃতির জলযান।  জার্মানির রাজধানী বার্লিন থেকে প্রায় একশো মাইল দুরের মেগডিবার্গ শহরে অবস্থিত এই সেতু। 


বার্লিন শহরের সাথে সেখানকার রিন নদীর সংযোগ তৈরি করাই ছিলো সেতুটি নির্মানের মূল উদ্দেশ্য। 


'এলবি এবং মিটেলল্যান্ড' নামের দুটি হ্রদ কে রিন নদীর সাথে যুক্ত করেছে সেতুটি। যার ফলে রিনল্যান্ড থেকে বার্লিন পর্যন্ত পন্য পরিবহনের খরচ এবং দূরত্ব কমে গিয়েছে অনেকটাই। 

নয়শো আঠারো মিটার দীর্ঘ এই সেতুকে বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে  লম্বা ওয়াটার ব্রিজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়সেতুর মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য যে খাল রয়েছে সেটির প্রস্ত চৌত্রিশ মিটার।পানি ভর্তি খালটির গভীরতা চার মিটার থেকে সামান্য বেশি।  


জাহাজ, লঞ্চ, স্টিমার সহ অন্যান্য জলযান চলাচলের জন্য বানানো এই সেতু নির্মানে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় চব্বিশ হাজার টন স্টিল, আর আটষট্টি হাজার ঘনমিটার কংক্রিট।  সেতুর নিজস্ব কাঠামোর পাশাপাশি প্রতি মুহুর্তে বহন করতে হয় অত্যধিক পরিমান পানির চাপ। সেভাবেই নির্মান করা হয়েছে ব্রিজটির ভিত্তি। 


প্রায় ছয়শো মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হওয়া এই সেতুর নির্মান কাজ শেষ হয় দুই হাজার তিন সালে।  এরপর থেকেই এটি পরিনত হয়েছে দেশটির অন্যতম পর্যটন আ  


প্রতি বছর দেশ বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসেন মেজবার্গ শহরের এই ওয়াটার ব্রিজে। 

অসাধারণ সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন নকশায় ডিজাইন করা হয়েছে সেতুটি। ব্রিজের দুপাশে রয়েছে পায়ে হাটার ওয়াকওয়ে। যেখান দিয়ে হেটে ঘুরে দেখেন পর্যমাঝখানে রয়েছে জাহাজ চলাচলের জন্য পানি ভর্তি খাল। সেতুর আশেপাশের এলাকাতে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ।  যা সেতুটি করে তুলেছে আরো নান্দনিক।  অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, অত্যাধুনিক এই সেতুটি নির্মানের পরিকল্পনা প্রথমবার করা হয়েছিল আঠারো'শো সত্তর সালে। 


প্রায় দেড়শো বছর আগে এরকম কাঠামো নির্মানের মতো উন্নত কোন প্রযুক্তি ছিলো না। এরপর উনিশশো ত্রিশ সালের দিকে আবার সেতুটি নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরিকল্পনা এবং কাজ অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলো।  


কিন্তু সেই উদ্যোগও আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরের পঞ্চাশ বছরে অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে গেছে। দেশের সীমানা, মানচিত্র এবং সরকার ও পরিবর্তন হয়েছে অনেকবার। 


কিন্তু ব্রিজ নির্মানের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি তারা। 


অবশেষে উনিশশো সাতানব্বই সালে পুনরায় শুরু হয় মেগডিবার্গ ওয়াটার ব্রিজের নির্মান কাজ। এবার আর  থামতে হয়নিছয় বছরের টানা নির্মান কাজ শেষে দুই হাজার তিন সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।সাধারণত ব্রিজ তৈরি হয় গাড়ি এবং স্থলভাগের যানবাহনের জন্য। তবে জার্মানির এই সেতুর উপর চলে জাহাজ। আর নিচ দিয়ে আছে গাড়ি চলার রাস্তা। এই বৈশিষ্ট্য মেগডিবার্গ ওয়াটার ব্রিজকে করে তুলেছে অনন্য।

বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে আরো কয়েকটি ওয়াটার ব্রিজ আছে। তবে এর মধ্যে জার্মানির মেগডিবার্গ শহরের এই ব্রিজকে বিবেচনা করা হয় সবচেয়ে সুন্দর সেতু হিসেবে।


<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/video.php?height=476&href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2FNews.durbin%2Fvideos%2F261813209473987%2F&show_text=false&width=476&t=0" width="476" height="476" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share" allowFullScreen="true"></iframe>



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ