ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কে হচ্ছে পরবর্তী বিশ্ব শাসক!
ইউক্রেন যদি শেষ পর্যন্ত জিতে যায়, পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয় রাশিয়া, তাহলে চুড়ান্ত পরিনতি কী হবে?
কারণ রাশিয়া পরাজিত হবার মানে পুতিনের পরাজয়। আর পুতিন এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যিনি পরাজয় মেনে নিতে অভ্যস্ত নন।
অন্যদিকে ইউক্রেনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য জেলেনস্কিও সমঝোতা করে নিতে পারেন, কিন্তু এতো ক্ষয়ক্ষতি স্বীকারের পর সমঝোতা কি মানবে তার দেশের মানুষ?
তাহলে কী আছে এই যুদ্ধের ভাগ্যে? শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে এই সংঘাতের ফলাফল?
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছরের মাথায় এমন হিসাব নিকাশ কষছেন বিশ্লেষকরা। তাতে পাওয়া যাচ্ছে অনিশ্চিত সব সমীকরণ। যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণে বেশ কিছু সম্ভাবনা পাওয়া যাচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারি তে শুরু হওয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। গ্রামের পর গ্রাম মিশে গেছে মাটির সাথে।
কিন্তু এতোকিছুর পরেও যুদ্ধ থামার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। উলটা উভয়পক্ষ নতুন শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। পরিস্থিতি দেখে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বছরে আগের চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে দুইপক্ষ।
এক বছর ব্যাপী এই যুদ্ধ থামানোর সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা হচ্ছে সমঝোতা। কিন্তু সমাঝোতার কোন ইচ্ছাই দেখা যাচ্ছে না কারো।
উল্টা যুদ্ধ জয়ের ব্যাপারে দুই পক্ষই ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। এমনটাই মনে হচ্ছে তাদের বক্তব্যে। যদিও যুদ্ধ জয়ের সংজ্ঞা দুই দশের কাছে ভিন্ন ভিন্ন।
এক্ষেত্রে ইউক্রেনের উদ্দেশ্য পরিস্কার। দেশটির নেতারা বলছেন, ক্রিমিয়া সহ রাশিয়ার দখলকৃত সকল এলাকা মুক্ত করাই তাদের লক্ষ। জেলেনস্কি বলেছেন, ক্রিমিয়া দখল মুক্ত করে সেখানে অবকাশ কাটাতে যাবেন তিনি।
অন্য দিকে ইউক্রেনের কিছু কর্মকর্তা বলছেন, রাশিয়াকে ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করাকেই চূড়ান্ত বিজয় মনে করবেন তারা।
অবশ্য বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। ইউক্রেনের সেনারা যদিও দখলকৃত কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু গত বারো মাস ধরে বেশ কিছু অঞ্চল এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রনে আছে।
বর্তমানে এসব এলাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে নতুন করে সেনা নিয়োগ করছে ইউক্রেন। পশ্চিমারাও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে তাদের।
অন্যদিকে রাশিয়ার অর্জন খুব একটা খারাপ নয়। যুদ্ধের শুরুতে পুতিন বলেছিলেন, ইউক্রেনের দনবাস এলাকাকে মুক্ত করাই তার লক্ষ। সাথে আরো কিছু লক্ষ উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
গত বারো মাসের যুদ্ধে ইউক্রেনের জাপোরিয়াহ ও খেরসন প্রদেশের বিশাল বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনি। ফলে ক্রিমিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী স্থলভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে রয়েছে।
অক্টোবরে ওই দুই অঞ্চলকে রাশিয়ার সাথে একীভূত করেছেন পুতিন। তবে দনবাসের দোনেতস্ক এবং লুহানস্ক এলাকা পুরোপুরি দখল করতে পারেনি রাশিয়া। বর্তমানে দেশটি আরো শক্তি বাড়াচ্ছে।
গত বছর নতুন করে আরো তিন লাখ সেনা নিয়োগ করেছেন পুতিন। যাদের একটি অংশ ইতিমধ্যে সম্মুখ যুদ্ধে চলে গেছে। আর বাকিরা অপেক্ষা করছে রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে।
রাশিয়া ইউক্রেন দুই দেশের এমন অবস্থানে যুদ্ধ কিভাবে শেষ হবে তার কোন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পশ্চিমা নেতারাও যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে।
আমেরিকা বলেছে, পূর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাবে তারা।
গত বারো মাসে ইউক্রেন পশ্চিমাদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে ইউক্রেন। এর মধ্যে একাই ৩০ বিলিয়ন দিয়েছে আমেরিকা। সম্প্রতি ইউক্রেনকে ট্যাংক দিয়েছে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র।
এই ট্যাংক দেয়াটাও বড় কৌশলের অংশ। পশ্চিমারা চাইছে, কোন ধরণের আলোচনায় বসার আগে যুদ্ধের অবস্থা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিতে।
সেই চেষ্টার অংশ হিসাবে ইউক্রেনকে ট্যাংক দিয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে যুদ্ধ নিশ্চিত ভাবে আরো দীর্ঘ হবে।
সম্প্রতি একটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতারা মনে করেন। যুদ্ধ শেষ হলেও ইউক্রেনের কিছু অংশ রাশিয়ার দখলে থেকে যাবে।
এর অন্যথা হবার অর্থ হচ্ছে রাশিয়ার পুরোপুরি পরাজয়। যা প্রেসিডেন্ট পুতিন মেনে নিতে চাইবেন না। এক্ষেত্রে তিনি খেপে গিয়ে পারমানবিক যুদ্ধও শুরু করতে পারেন।