অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ঝুঁকি আর হুমকি জেনেও দেশের সামরিক খাতে বাজেট বাড়াতে চলেছেন এই নেতা। চলতি সপ্তাহে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৭ শতাংশের বেশি।
বর্তমানে বেইজিং এর সামরিক বাজেট ২০ হাজার ডলারের কিছু বেশি। এই ব্যয়ের পরেও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীন। শীর্ষে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট চীনের তুলনায় চারগুণ বেশি।
এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক শক্তিকে আরও বড় করার জানান দিচ্ছে চীন। বর্তমান প্রেক্ষাপতে দেশটির এমন এক সিদ্ধান্তকে সতর্কতার সাথেই পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো।
সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের সাথে চীনের দ্বন্দের কারণে বিষয়টি ঘিরে আরও বেশি আলোচনা চলছে। ২০২২ সালেই তাইওয়ান ঘিরে বড় পরিসরে সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছিলো চীন। একইভাবে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে দ্বীপরাষ্ট্র জাপান।
তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে বড় রকমের যুক্তিও দিয়েছেন চীনের প্রশাসন। চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক অধিবেশনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেন, বড় ধরনের কাজ সমাধান করার ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যুদ্ধের প্রস্তুতি সু-সংগঠিত হওয়া উচিৎ।
এসময় লি কেকিয়াং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাইরে থেকে চীনকে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা বাড়ছে।
এমন বক্তব্যে ঠিক কাদের উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে। তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে এই বক্তব্য যে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করছে, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট।
সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ কেন্দ্র করে চীনের উপর নজরদারি বাড়াতে শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার সাথে দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ভালো নজরে দেখছে না পশ্চিমাবিশ্ব। আকারে ইঙ্গিতে বেশ কয়েকবারই চীনের প্রতি কড়া বার্তা পাঠাতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
লি কেকিয়াং বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পিপলস লিবারেশন আর্মি ২০২৭ সালে শত বছরে পা দিবে। সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য, সামরিক অভিযান চালানো, যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়ানো এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করা উচিত।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের আরও কিছু কারণকে বড় করে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেদের অস্ত্র সরবরাহ শুরু করবে চীন।
ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের গুপ্তচর বেলুন হারানোর ঘটনায় নিজেদের ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এছাড়াও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং তাইওয়ানের আশপাশে নৌপথ এবং আকাশ পথেও মহড়া বাড়িয়েছে তারা। সবমিলিয়ে কিছুটা সময়ের প্রয়োজনেই সামরিক বাজেট বাড়াচ্ছেন চীনা সরকার।
চীনের এবারের পার্লামেন্টে সামরিক ব্যয় বাড়ানো ছাড়াও আর বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে। এবারের সম্মেলন থেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়ে ঘোষণা দেয়া হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এই অধিবেশনেই বিদায় নিবেন। আর তার বদলে লি কিয়াং নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
এর বাইরেও বেশ কিছু শীর্ষ পদে নতুন মুখ আনতে যাচ্ছেন শি জিন পিং। এমনকি, এই অধিবেশন থেকেই তৃতীয়বারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিন পিং এর নাম ঘোষণা করা হবে। আর তা বাস্তবায়িত হলে মাও সে তুং এর পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য চীনের শাসনভার পাচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনে চীনের অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবসার ক্ষেত্রেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমান চীনা সরকারের সাথে কমিউনিস্ট পার্টির নীতিমালার পার্থক্য আরও অনেক কমে আসবে।