আন্তর্জাতিক


মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার পাশে মুসলিম দেশ আরব আমিরাতে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ মার্চ ২০২৩, ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার

মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার পাশে মুসলিম দেশ আরব আমিরাতে

ক্রমেই দল ভারী হচ্ছে নিষেধাজ্ঞায় পর্যুদস্ত রাশিয়ার। একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের চাপে যখন অর্থনৈতিক টানপোড়েনে রাশিয়া, তখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে মুসলিম দেশ আরব আমিরাত।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল, সম্প্রতি কার্গো জাহাজ যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছে।

মূলত পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা অকার্যকর করে দিতে রাশিয়া এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আরব আমিরাত ।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা মস্কোর ওপর চতুর্মুখী চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

রাশিয়াকে কোনোভাবে থামাতে ব্যর্থ হয়ে শুরু করে অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়াকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা। এর জবাবে পশ্চিমাদের এই নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করার জন্য রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রির ঘোষণা দেয়।

এই ঘোষণার পর ভারত ও চীনসহ বহু দেশ রাশিয়ার তেল ক্রয় করে রাশিয়াকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতও দৃশ্যত সেই পথ অনুসরণ করছে।

শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাত নয় সৌদি আরব সহ শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা বাড়ছে তেলের এই লেনদেনের মাধ্যমে।

যআমেরিকা পশ্চিমা মিত্ররা যখন রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভীষণভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, সেখানে আরব আমিরাত ও সৌদি আরব মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে।

এর আগে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তেলের উৎপাদন বাড়াতে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে আমেরিকা।

কিন্তু আমেরিকার সেই চাপ কোনো ফল বয়ে আনেনি। বরং আমেরিকার চাপের মুখে দেশ দুটি রাশিয়াকে একপ্রকার প্রকাশ্য  সমর্থন দিয়ে গেছে।

কার্গো জাহাজ গুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি চোখে পড়লেও কবে থেকে রাশিয়ার তেল নিচ্ছে আমিরাত তা জানা যায়নি। ট্র্যাকিং ডাটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে রাশিয়া হতে তেল আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।

তথ্য বলছে, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে এই পর্যন্ত রাশিয়ার ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পৌঁছেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

এদিকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়ার তেলবাহী একটি কার্গো জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে নোঙ্গর ফেলে। রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে  উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করেছে বলে জানা যাচ্ছে। মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পুতিনের সমর্থনেই তেল কিনছে সৌদি আরব এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

মূলত রাশিয়ার তেল দিয়েই আপাতত পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো সচল রেখেছে সৌদি আরব। এতে করে নিজস্ব অপরিশোধিত তেল বেশি করে রপ্তানি করতে পারছে মধ্য প্রাচ্যের দেশটি।

এর মধ্যে মধ্য প্রাচ্যর অনেক দেশ রাশিয়ার তেল আমদানি বাড়ালেও, যুক্তরাষ্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমদানি বন্ধ করেছে অনেক দেশ। 

তবে রাশিয়ার এই দুর্দিনে সবচে বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে আরব আমিরাত। শুধু তেল আমদানি ই নয়, তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস এর সঙ্গে রাশিয়ার সমন্বয় ও জোরদার রেখেছে দেশটি। এতে করে কিছুটা হলেও সস্তিতে আছেন পুতিন।




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।