আন্তর্জাতিক


বিরল রেকর্ড গড়লেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ মার্চ ২০২৩, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার

বিরল রেকর্ড গড়লেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং

রেকর্ড গড়লেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। আগামী ৫ বছরের জন্য আবারও চীনের প্রেসিডেন্টের পদে বসতে যাচ্ছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। এর মাধ্যমে মাও সে তুং পরবর্তী যুগে দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাবান নেতা হতে চলেছেন ৬৯ বছর বয়েসী শি।     

শুক্রবার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস নামে পরিচিত চীনের ৩ হাজার সদস্যের পার্লামেন্ট তাদের  সর্বসম্মতিক্রমে শি জিন পিং এর পক্ষে ভোট দেয়। অবশ্য এই পদের জন্য শি ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী ছিলেন না। 

অধিবেশন শুরুর পর আধঘন্টারও বেশি সময় ধরে ভোট গ্রহণ চলে। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের মাঝেই ইলেক্ট্রনিক ভোট গণনা সমাপ্ত হয়ে ফলাফল ঘোষণা কর হয়।

অবশ্য, গত বছরের অক্টোবরেই চীনের ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন শি জিন পিং। তখন তিনি আরও পাঁচ বছরের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। 

ফলে তিনি যে আরেক দফায় পাঁচ বছরের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, তা অনেকটাই অনুমিত ছিল। সবশেষ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আজ চীনের ‘রাবার-স্ট্যাম্প’ পার্লামেন্ট তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করল।  

একই সঙ্গে বর্ষীয়ান এই রাজণীতিবিদকে চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত করেছে এনপিসি।

একইদিনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদের নিষ্পত্তিও করেছেন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস। এদিন পার্লামেন্ট একইসঙ্গে পার্লামেন্টের সভাপতি হিসেবে ঝাও লেজিকে নিয়োগ দেয়া হয়। আর নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে হান ঝেং কে নির্বাচন করে পার্লামেন্টের সদস্যরা। উভয় ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতা।

আগামী ২ দিনে মন্ত্রীসভার খালি হয়ে যাওয়া পদগুলোতে শি'র পছন্দের প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন। যার মধ্যেএরইমাঝে প্রধানমন্ত্রী পদে লি কিয়াং এর নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে আছে। 

আগামী সোমবার বার্ষিক পার্লামেন্টারি অধিবেশনের সমাপ্তির আগে শি জিনপিং  কংগ্রেস সদস্য এবং দেশের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন। এই বক্তব্যকে বেশ গুরুত্বের সাথেই দেখছে সারা বিশ্ব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীনের ভূমিকা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে এই বক্তব্য থেকে।  ধারণা করা হচ্ছে, ৩ বছর করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতির শিকার হওয়া অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো এবং পশ্চিমের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে নতুন কোনো বক্তব্য দেবেন তিনি। 
চলতি সপ্তাহে দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে আরও চারজনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।  দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ এই চার ব্যক্তিকে গত সপ্তাহেই নিয়োগ দিয়ে রেখেছিলেন শি জিন পিং। এক কথায় শি জিন পিং এর এবারের নির্বাচিত হবার প্রক্রিয়া নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

শি জিন পিং এবারের মেয়াদে অবশ্য অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন। দেশটিতে বেকারত্ব বৃদ্ধি, আবাসন খাতে মন্দাভাব, চীনা ব্যবসায়ীদের মাঝে আস্থার সংকট, স্থানীয় সরকারের ঋণের বৃদ্ধিসহ আরও বেশ কিছু সমস্যার সমাধান করতে হবে তাকে। এর সাথে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের অবস্থান নিয়েও ব্যস্ত থাকতে হবে তাকে। কোভিড পরবর্তী সময়ে চীনের অর্থনীতিকে নতুনভাবে শুরু করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।  
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দুনিয়ার আশঙ্কা, এমন একক ক্ষমতা চীনা প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও প্রভাবশালী করবে। তার ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে চীনের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কড়া ভূমিকা নেয়ার প্রবণতাও বাড়বে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে এরইমাঝে কড়া বার্তা দিয়েছেন শি জিন পিং।

এমনকি চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে শি চীনের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বকে সরাসরি দায়ী ঘোষণা করেন। চীনের প্রেসিডেন্টের জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করার বিষয়টি বেশ বিরল। 





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ