আন্তর্জাতিক


বড় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভুল প্রমান করলো রাশিয়া।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ মার্চ ২০২৩, ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার

বড় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভুল প্রমান করলো রাশিয়া।

ইউক্রেনে বেড়েই চলছে রুশ আগ্রাসন। গেল বৃহষ্পতিবার দেশটিতে শব্দের চেয়েও পাঁচ গুন বেশি গতিসপন্ন হাইপরসনিক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। 

শুধু এটিই নয় আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী,এদিন দেশটির গুরুত্বপুর্ন ১০ টি স্থাপনা লক্ষ্য করে, অন্তত আরো ৮১ টি ক্ষেপনাস্ত্র কিংবা ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। 

পুতিন বাহিনীর এমন সাড়াশী অভিযানে প্রান হারিয়েছেন, অন্তত এগার জন ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং আহত হয়েছেন আরো প্রায় ২০ জন। 

ক্রেমলিন প্রশাসন দাবি করছে, গেল কয়েক মাসে এটাই তাদের সবচেয়ে সফল অভিযান। অবশ্য ইউক্রেন বলছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো একধাপ উসকে দিয়েছে রাশিয়া। 

অন্যদিকে জাতিসংঘ দাবি করছে, রাশিয়ার এমন অভিযান চলতে থাকলে, যেকোন সময় বড় ধরনের পরমানু দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে ইউক্রেনবাসী। 

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে, ইউক্রেনের উপর অভিযোগ উঠেছিল, তারা রাশিয়ার মুল ভুখন্ডের একটি গ্রামে প্রবেশ করে আক্রমন চালিয়েছিলো। 

তাই ইউক্রেনের উপর এমন ভয়াবহ ক্ষেপনাস্ত্র হামলাকে তারই প্রতিশোধ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এই হামলার মুল লক্ষ্যবস্ত ছিল ওডেসা এবং খারকিভ সহ ইউক্রেনের দশটি গুরুত্বপুর্ন অঞ্ছল। 

পুরো দেশ জুড়ে একযোগে চালানো এই হামলার ব্যপকতা খুব বেশি না হলে ও সব মহলে আলোচনা হচ্ছে হামলায় ব্যবহার হওয়া অস্ত্র নিয়ে। 

মস্কো বলছে বৃহষ্পতিবারের অভিযানে ব্যবহার হয়েছে হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এক বছর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে ব্যবহার হয়েছিল কিনজাল নামের এই ক্ষেপনাস্ত্র। 

রাশিয়ান প্রযুক্তিতে নির্মিত কিনজাল শব্দের চেয়ে ৫ গুন বেশি গতিসম্পন্ন। ফলে এটি যেকোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাকি দিয়ে আঘাত হানতে পারে কাংখিত লক্ষ্যবস্ততে। 

হামলার পর এক বিবৃতিতে রাশিয়া দাবি করেছে তারা এদিন সফল ভাবে গুড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেনের বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা এবং শিল্প কারখানা। 

সামরিক স্থাপনা গুলোতে ছিল বিদেশী অস্ত্রের মজুদ এবং নিজস্ব অস্ত্র তৈরির কারখানা। এছাড়া বিভিন্ন সুত্রের মতে অস্ত্র মেরামতেরও একটি কারখানা ধ্বংস হয়েছে এদিন। 

হঠাত এত বড় হামলার জন্য প্রস্তত ছিলোনা খোদ ইউক্রেনীয় সেনাবহরও। তারা স্বীকার করে নিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে তারা এত বড় অভিযান আর মোকাবেলা করেনি। 

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বক্তব্য এর মাধ্যমে আগুনে ঘি ঢাললো ক্রেমলিন। এছাড়া তার অভিযোগ এদিন রাশিয়ান হামলার লক্ষ্য ছিল বেসামরিক নাগরিকেরা। 

এদিনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইউক্রেনের জাপোরিজিয়ায় অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমানু কেন্দ্র। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ইউক্রেনের কয়েক লাখ মানুষ। 

শীতের এই সময়টায় বিদ্যুৎ হীনতার ফলে ঠান্ডায় কাপছে তারা। আর আপাতদৃষ্টিতে এই বিদ্যুৎ সংকট খুব সহজেই সমাধান করা যাবে বলে মনে হচ্ছেনা। 

চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে এই নিয়ে ষষ্টবারের মত “জাপোরিজিয়া পরমানু কেন্দ্রে” হামলা হলো। তবে প্রতিবারই কেন্দ্রটি রক্ষা পেয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন যেরকম জরুরী ডিজেল দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা চলতে থাকলে, যেকোন সময় কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আর এমনটা হলে পুরো ইউক্রেন এবং আশেপাশের অঞ্ছলে দেখা দিতে পারে, চেরনোবিলের মত বিপর্যয়। 
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, খুব দ্রুতই শেষ হচ্ছেনা রুশ ইউক্রেন সংঘাত।

তাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া অন্তত আরো একবছর এই যুদ্ধ টানতে চায়।তবে তাদের বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই। 

তবে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা, ভুল প্রমান করেছে সে দাবি। 









জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।