আন্তর্জাতিক
মাত্র ১২ দিনে পরমানু বোমা ?
সম্প্রতি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রিপোর্ট দিয়েছে ইরান পরমাণু বোমা তৈরির কাছাকাছি চলে গেছে ।
তাদের রিপোর্টে এটাও উঠে আসে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ইরান পরমানু বোমা তৈরি করার সক্ষমতা রাখে । ইরানের পারমাণবিক গবেষনার ইতিহাস নতুন নয় ১৯৬৭ সালে ইরানে তেহরান রিসার্চ রিএক্টর প্রতিষ্ঠিত হয় ।
এটা শতকরা ৯৩ ভাগ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম সরবারাহ করতে পারতো । ১৯৭৩ সালে ইরানের এটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশন প্রতিষ্ঠিত হয় যাদের লক্ষ্য ছিল কমপক্ষে ২০ টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করা।
সেই সময়ে ইরান তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, নিউক্লিয়ার সাইন্সের উপর গবেষনা আরো বাড়িয়ে দিতে শুরু করলো । ১৯৭৪ সালে সিমেন্সের সিস্টার কনসার্ন ক্র্যাফটওয়ার্কের সাথে, ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রিএক্টর নির্মানের চুক্তি করলো ইরানের বুশেহেরে ।একই বছর তারা প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার খরচ করলো, তাদের পারমানবিক প্রকল্পের পেছনে । ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লব হয়ে গেলেও ,পরবর্তী সরকার পরমাণু প্রকল্প থেকে সরে আসার কোন লক্ষনই দেখালো না ।
সেই সময়ে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে এখনকার মতো নজরদারি ছিল না ।আর সেটাকেই কজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করলো ইরান । প্রথমে তাদের লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ,এই মূহুর্তে ইরান এগোচ্ছে পারমাণবিক বোমার কথা মাথায় রেখেই ।
১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে মস্কোতে ইরান এবং রাশিয়া সরকারের মধ্যে একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এই চুক্তি অনুসারে বুশেহেরে যে পারমানবিক প্রকল্প চালু আছে, সেটা রাশিয়া এবং ইরান মিলে সংস্কার করবে ।
ইরানী অপারেটরদের রাশিয়ায় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা যাবে । আর প্ল্যান্টে অর্ধেক রাশিয়া এবং অর্ধেক ইরানী এক্সপার্ট থাকবে পুরো বিষয়টা দেখাশোনা করার জন্য ।
২০১৫ সালে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র সহ, আরো পাঁচটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের,যে পরমাণু চুক্তি হয়, সেটা অনুসারে, ইরান ৩০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম, নিজেদের কাছে রাখতে পারবে নাএবং তারা 3.67 পার্সেন্ট পর্যন্ত ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট করতে পারবে ,যা তাদের পরমাণু শক্তি চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে ।
কিন্তু এই চুক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে 2017-2018 সাল থেকেই, ইরান শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত, বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট করছে, যা নির্ধারিত মাত্রার প্রায় ১৯ গুন বেশি ।
অবশ্য ইরান এই অতিরিক্ত উৎপাদনের কোন সঠিক কারণ দেখাতে পারেনি । ইন্টারন্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সির (IAEA) তথ্যানুসারে , ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের। ১২ তারিখে, ইরানের কাছে ১৯২ পাউন্ড বেশি এনরিচড ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। যার বিশুদ্ধতা ৬০ ভাগ থেকেও আরো অনেক বেশি । অর্থাৎ ইরান তাদের ৬০ ভাগ বিশুদ্ধতার স্কেলকে অতিক্রম করেছে ।
IAEA আরো জানায় , জানুয়ারী ২০২১ সালে ইরানের ফরদো পারমানবিক কেন্দ্রের দুটো সেন্ট্রিফিউজ মেশিন, এমনভাবে কনফিগার করা হয়েছে, যেন সেগুলো আরো বেশি বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে ।
ফরদো পারমানবিক প্রকল্পটি, তেহরান থেকে ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিন পশ্চিমে অবস্থিত । এটির আকার একটি ফুটবল মাঠের সমান এবং এতে রয়েছে প্রায় ৩০০০ টি সেন্ট্রিফিউজ মেশিন । পশ্চিমাদের ধারণা, এখানেই পরমানু বোমার জন্য বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করছে ইরান ।
ইসরাইল এবং আমেরিকা আরো দাবী করছে, মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই ইরান একটা পরমাণু বোমার জন্য, বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করতে সক্ষম ।
IAEA ইন্সপেক্টরদের মতে ,ফরদো পারমানবিক প্রকল্প হতে প্রাপ্ত ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা, শতকরা ৮৪ ভাগ ।
বলাই বাহুল্য পরমাণু বোমা নির্মানের জন্য, ৯০ ভাগ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম দরকার । অতএব ধারণা করাই যায় ,ইরান সকলের চোখ ফাঁকি দিকে পরমাণু বোমার পথেই হাঁটছে ।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা
ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক
নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।
.jpg)
ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)