বিগত এক সপ্তাহ ধরে সারাবিশ্বের কাছে ব্যাপক আকারে পরিচিত পেয়েছে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনার দল ওয়াগনার গ্রুপ। দলের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের নানা কীর্তি আর প্রভাবের কথাও আর অজানা নয় বিশ্ববাসীর কাছে।
এই মুহুর্তে বাখমুতে রুশ বাহিনীর নেতৃত্বে আছে এই দলটি। যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে এবার এক অন্যরকম আবদারই করে বসেছেন ওয়াগনার প্রধান। জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদে বসতে চান তিনি। আর আগামী বছরের নির্বাচনেই এই পদের জন্য লড়তে আগ্রহী এই রাশিয়ান।
এর ঠিক আগে, যুদ্ধের জন্য নতুন করে সেনা চেয়েছেন ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। বাখমুতে ব্যাপক জনবল হারানোর পর এমন দাবী করেছেন তিনি। আর এজন্য পুরো রাশিয়ায় ৪২ টি শহরে যোদ্ধা নিয়োগকেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ইউক্রেনে ওয়াগনারের ঠিক কত সেনা আছে, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সেখানে এই বেসরকারি সেনা সংস্থার অন্তত ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এদের মাঝে ৪০ হাজারই রাশিয়াতে বিভিন্ন অপরাধে সাজা ভোগ করছিলেন।
কিন্তু রাশিয়ার হয়ে কাজ করলে মুক্তি দেয়া হবে এমন আশ্বাস দেয়া হয় তাদের। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জানান, কারাগার থেকে আর কাউকে ওয়াগনারের অংশ হতে দিচ্ছেন না তিনি।
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধে ওয়াগনারের প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন। এই দাবির পুরো সত্যতা মেলেনি। তবে নিহতের তালিকা যে নেহায়েত কম না, তাও স্বীকার করেছেন ইয়েভজেনি প্রিগোজিন।
পুতিন ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রিগোজিনের প্রভাব বেশ বড়ই বলা চলে। কদিন আগে ওয়াগনার যোদ্ধাদের পর্যাপ্ত গোলাবারুদ দেয়া হচ্ছেনা এমন অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। এ নিয়ে রুশ সেনা কর্মকর্তাদের সাথে তার বিরোধের কথাও প্রকাশ্যে এসেছিলো।
এরপর অবশ্য গত শুক্রবারেই আরেক অডিওবার্তায়, গোলাবারুদ সরবরাহ বাড়ানোর জন্যু রাশিয়ান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অতি আধুনিক সব অস্ত্র দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অস্ত্র তাদের সকল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।
অস্ত্র আর সেনাই কেবল নয়, এরপর আরও বড় পদের জন্যেও আবদার ধরেছেন প্রিগোজিন। আগামী বছর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদের জন্যেও লড়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হলে দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে ওয়াগনার প্রধান বলেন, আমি রাজনীতির মাঠে নামছি। আমার আশপাশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আমি ২০২৪ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।
প্রিগোজিনের প্রত্যাশা, ইউক্রেনের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট পেট্রো প্রোশেঙ্কো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ওয়াগনার প্রধানের সাথে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভের। গোলাবারুদ চাওয়া এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে স্পষ্ট বিরোধে জড়িয়েছে দুই পক্ষ।
প্রিগোজিনের নিজের ভাষায়, তার দলের প্রতি মাসে ১০ হাজার টন গোলাবারুদের প্রয়োজন, যার মূল্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। এত বড় অঙ্কের অর্থের প্রায় সবটাই যোগান দিচ্ছে রুশ সরকার।
এর পেছনেও যুক্তি দিয়েছেন ওয়াগনার প্রধান। তিনি বলেন, নিজের অর্থে অস্ত্র কিনে যুদ্ধ করা একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার ইস্যু। সেটি কোনোভাবেই ব্যবসা না।
মূলত এসব ইস্যুতেই ওয়াগনার প্রধান এবং রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাঝে দ্বন্দ চরমে উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ ছাড়া ওয়াগনারের সফলতায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হিংসা করছে এমন অভিযোগও করেন তিনি। প্রিগোজিনের ভাষ্যমতে, ওয়াগনার গ্রুপের সফলতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।