আন্তর্জাতিক


রুশ বিমানের আক্রমনে বিদ্ধস্ত মার্কিন ড্রোন।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ মার্চ ২০২৩, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার

রুশ বিমানের আক্রমনে বিদ্ধস্ত মার্কিন ড্রোন।

এবারে রুশ যুদ্ধবিমানের আক্রমনে বিদ্ধস্ত হলো, শক্তিশালী মার্কিন ড্রোন এমকিউ নাইন রিপার। 
ফলে দেখা দিয়েছে দুই পরাশক্তির মধ্যে সংঘাতের প্রবল সম্ভবনা। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেদের বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার, ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছাকাছি কৃষ্ণসাগরের উপর ঘটেছে এই ঘটনা। 

গত বছর রুশ ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, এই প্রথম রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজের মধ্যে, এমন সরাসরি সংঘর্ষ ঘটলো।

ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করেছে, ওই দিন আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় রুশ বিমানগুলো, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বেপরোয়া এবং অপেশদার আচরন করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপিয়ান কমিশন কতৃক প্রকাশিত ঘটনার বিবরনীতে দেখা যায় গত মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরের উপর উড়ছিল দুটি এসইউ টুয়েন্টি সেভেন রুশ বিমান এবং একটি মার্কিন রিপার ড্রোন। 

এসময় সেখানে আচমকায় একটি যুদ্ধবিমান ড্রোন বরাবর উপরে উঠে যায়। এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সেটির উপর বেশ কয়েকবার জ্বালানী তেল ফেলে। 

পরে বিমানটি সরে আসার সময় আঘাত করে ড্রোনের প্রোপেলারে। ফলে ঝুকি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রোনটি কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন বাহিনী।

জানা গিয়েছে এই পুরো সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়। যেখানে দুই দেশের অবাধে বিমান কিংবা ড্রোন পরিচালনার পুর্ন অনুমতি রয়েছে। 

গেল বছর ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রুশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণসাগরের আকাশে নিয়মিতই রিপার ড্রোন দিয়ে নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। 

আর পেন্টাগনের মতে সংঘাতের দিনও, তারা নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। শক্তিশালী এই ড্রোন প্রায় ৫০ হাজার ফিট পর্যন্ত উপরে উড়তে পারে। 

অন্যদিকে অবশ্য রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় অস্বীকার করেছে মার্কিনিদের অভিযোগ। তাদের মতে, এদিন রাশিয়ান বিমান কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেনি। 

বরংচ তারা বলছে মঙ্গলবার সকালে, রাশিয়ার অ্যারোস্পেস ফোর্স, ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি মার্কিন ড্রোন শনাক্ত করে, যা রাশিয়ান সীমান্তের দিকে এগুচ্ছিল। 

এমনকি ড্রোনটি  ইউক্রেনে অভিযানের জন্য, যে অস্থায়ী আকাশপথ তৈরি করা হয়েছে তা লঙ্ঘন করছিল, তাই অনুপ্রবেশকারীকে পর্যবেক্ষনে যায় দুটি রুশ বিমান। 

ক্রেমলিনের দাবি রুশ যুদ্ধবিমান দেখে ভয় পেয়ে, তড়িঘড়ি বাক নিয়ে পালাতে চায় মার্কিন রিপার ড্রোন। আর তখনই সেটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বিদ্ধস্ত হয় কৃষ্ণসাগরে। 

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে, রুশ রাষ্ট্রদুতকে তলব করেছে ওয়াশিংটন। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এধরনের কোন কর্মকান্ড লক্ষ্য করা যায়নি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন ড্রোনের নজরদারির কাজ ব্যাহত করতে গিয়ে, রাশিয়া কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, নাকি সেটি ধ্বংস করার জন্য হামলা চালিয়েছে?  

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে রাশিয়া ইচ্ছা করেই ড্রোন বিদ্ধস্ত করতে চেয়েছে তাহলে এই অঞ্ছলে চলমান উত্তেজনা আরো বাড়বে। 

কিছু বিশ্লেষক অবশ্য বলছেন রাশিয়া ইচ্ছাকৃত ভাবে ড্রোনটি ভুপাতিত করেছে। তারা দেখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্ছলে সরাসরি যুদ্ধ করতে কতটা আগ্রহী।

যদি মার্কিনিরা সরাসরি কোন প্রতিক্রিয়া না দেখায়, তাহলে পুতিন হয়তোবা দ্রুতই, ইউক্রেনে তার দখল অভিযান জোড়ালো করে, দেশটি দখল করে নিতে চাইবেন। 

তবে তার এই কামনা সফল হবে কিনা, তা সময়ই বলে দিবে। 










জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।