নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন এরদোয়ান? যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে তুর্কি প্রেসিডেন্ট
রাস্তায় লেবুর শরবত আর রুটি বিক্রেতা থেকে হয়েছেন, আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় নেতা। শুধু তুরস্ক নয়, নেতৃত্ব গুনে তাকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা ও বলেন কেউ কেউ। বলছি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের কথা।
তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন হলেও সাম্প্রতিক টানাপোড়েনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন তিনি। আগামী নির্বাচনে যতোই ঘনিয়ে আসছে ,আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার আগমন নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।
আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যে যখন জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এরদোয়ান, তখনই বিধ্বংসী ভয়াবহ ভূমিকম্প বিপর্যয়ে পড়ে তুরস্ক। তাই দুর্যোগ পরবর্তী বিপর্যয় মোকাবিলায় হিমশিম খাওয়া প্রেসিডেন্ট , মুখোমুখি হচ্ছেন কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার। এই পরীক্ষায় উৎরে গেলেই আবারও মসনদে বসবেন বিশ্ব নন্দিত এই নেতা।
এরদোগানের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়া- অন্যতম চিন্তার কারণ।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের ভূমিকম্পে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন তুরস্কে। এছাড়া গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় পুরোপুরি ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে। শুধু তুরস্ক নয়, বিশ্ব মিডিয়ায় ও প্রভাব কমেছে তার।
তুরস্কের টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, এরদোগানের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার আরেকটি কারণ। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এর ওপর আর ভরসা করতে পারছেন না তুর্কি নাগরিকরা এমন ও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
২০১৬ সালে এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যার্থ সামরিক অভ্যুত্থান পরিচালনা করা হয়। সে যাত্রায় বেচে গেলেও আসন্ন নির্বাচনে তিনি কতটা সফল হবেন সেটি নির্ভর করছে তার সরকার কীভাবে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও ভূমিকম্পপরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে তার ওপর।
নিজে চার সন্তানের জনক হলেও তুরস্কে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করেন। যেটিকে ভালো ভাবে নেয়নি দেশটির নাগরিকেরা। এছাড়া খ্রিস্টান ও মুসলিমদের উপাসনালয় হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করে একটা পক্ষের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন তিনি।
তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশটির অধিকাংশ নাগরিক চান এরদোগান ই আবার ক্ষমতায় আসুক।২০০৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ২০ বছর ধরে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আসীন।
শাসনামলের শুরুর দিকে রাস্তাঘাট ও হাসপাতালের মতো অবকাঠামো নির্মাণ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এরদোগান।এর পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তুরস্কের জনপ্রিয় নাম হয়ে ওঠেন এরদোগান।
এছাড়া ইসলামপন্থি মূল্যবোধের পক্ষে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার জন্য এরদোগান তার সমর্থকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়। তার নেতৃত্বে ইসলামপন্থি দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একেপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণকে তুষ্ট করার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
ক্ষমতায় আসার আগেও এক সমাবেশে জাতীয়তাবাদী একটি কবিতা পড়ার জন্য তার চার মাসের জেল হয়েছিল। এই কবিতার কয়েকটি লাইন ছিল এ রকম— মসজিদ আমাদের ব্যারাক, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনারগুলো আমাদের বেয়নেট এবং বিশ্বাস হলো আমাদের সৈন্য।
তার উত্থান শুরু হয় প্রায় তিন দশক আগে ইস্তানবুল শহরের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ও সাবেক ফুটবলার এরদোগান ১৯৯৪ সালে ইস্তানবুল শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে চলে আসেন রাজনীতির সম্মুখ সারিতে। আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের পর অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি।