আন্তর্জাতিক


যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও কম সাবমেরিন রাশিয়ার, তবুও কেন ভয়ে থাকে ওয়াশিংটন?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ মার্চ ২০২৩, ১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও কম সাবমেরিন রাশিয়ার, তবুও কেন ভয়ে থাকে ওয়াশিংটন?
নিজেরা সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের অধিকারী হয়েও রুশ সাবমেরিনকে যমের মতো ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। 

অথচ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের হাতে রয়েছে ৬৮টি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। এরপরের স্থানে রয়েছে মস্কো, তাদের হাতে রয়েছে ২৯টি। 

কিন্তু এরপরও জলপথের আক্রমণে রাশিয়ার থেকে ওয়াশিংটন বরাবরই তটস্থ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রগুলোর একটি ধরা হয় টাইফুন ক্লাস সাবমেরিনকে। এটা সর্বকালের সর্ববৃহৎ সাবমেরিন। 

এই সাবমেরিনকে তৈরী করা হয়েছে শুধুমাত্র পারমাণবিক হামলার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র এই সাবমেরিনের ভয়ে এতোটাই আতঙ্কিত ছিল যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রাশিয়ার পশ্চিমাপন্থী সরকারকে দিয়ে এগুলো ভাঙাতে আরম্ভ করে। 

কিন্তু রাশিয়ার লৌহ মানব ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসার পর এই সাবমেরিনগুলোকে ভাঙা বা ধ্বংস করা থেকে রক্ষা করে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই সাবমেরিনটির নাম ‘টাইফুন’ কিন্তু রাশিয়া দেয়নি। বরং এর ভয়াবহতার জন্য পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকে এই নাম দেওয়া হয়েছে। 

রাশিয়ায় একে ‘আকুলা’ বলা হয়। এই সাবমেরিনের ওজন ৪৮ হাজার টন। ৩টি ফুটবল মাঠের সমান এই সাবমেরিনটি লম্বায় প্রায় ৫৬৬ ফুট। 

৪৮ হাজার টনের এই সাবমেরিনটি এখনো বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন। যার প্রস্থ ৭৬ মিটার ও উচ্চতা ৩৮ মিটার। পানিতে ভাসমান অবস্থায় এর গতি প্রায় ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার আর নিমজ্জিত অবস্থায় এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটারের মতো। 

টাইফুন ক্লাস সাবমেরিনে যেসব অস্ত্র রয়েছে সেগুলো শত্রুপক্ষের জন্য রীতিমতো আতঙ্কের। এর প্রধান অস্ত্রটিই হলো ২০টি RSM-56 বুলবা মিসাইল। সাথে আছে ২০০টি ওয়ারহেড। যা ২০০টি শহর ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিনটির মালিকও রাশিয়া। চতুর্থ জেনারেশনের অত্যাধুনিক বোরেই ক্লাসের এই সাবমেরিনটি শক্তিশালী রাশিয়ান নৌবাহিনীর অংশ। 

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া সাবমেরিনটি নির্মাণ করে। পুরনো মডেলের ডেল্টা ৩, ৪ ও টাইফুনের পরিবর্তে রাশিয়ান নৌবাহিনীতে এটা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

২৪ হাজার টনের বোরেই ক্লাস সাবমেরিনটির দৈর্ঘ্য ১৭০ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার এবং ১০৭ জন ক্রু ধারণে সক্ষম। পানিতে ভাসমান অবস্থায় ঘণ্টায় ২৮ কিলোমিটার ও পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ডেলটা ক্লাশ সাবমেরিনের মালিকও মস্কো। এই সাবমেরিনটি মূলত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন ক্লাস হিসেবে সুপরিচিত। 

বহু সংখ্যক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ১৮ হাজার ২০০ টনের বিশাল এই সাবমেরিন রাশিয়ার উত্তরে সেভেরোদভিন্স শহরে নির্মাণ করা হয়েছে। ডেল্টা ক্লাসে মোট ৪টি সাবমেরিন রয়েছে, যার মধ্যে ডেল্টা-২ ক্লাসের সাবমেরিনটির সফলতার হার বেশি। 

ডেল্টার পরে আছে অস্কার ক্লাস সাবমেরিন। ১৯৭০-এর দশকে রাশিয়া এই সাবমেরিন বানানোর পরিকল্পনা করে। যা পরবর্তীতে ১৯৮০-র দশকে বাস্তবায়ন করা হয়। ১৯ হাজার ৪০০ টনের অস্কার ক্লাস সাবমেরিনটি একটি নিউক্লিয়ার ক্রুজ মিসাইল সাবমেরিন, যেটি বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সাবমেরিন। 

মূলত এইসব সাবমেরিনগুলোর কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ভয়ে আছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করা না হলেও রুশ নিউক্লিয়ার বহনকারী সাবমেরিনগুলো সাগরতল দিয়ে গড়ে উঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও পশ্চিমাদের অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ড থামিয়ে দিতে পারে।

এছাড়া সেন্সর স্থাপন, আঁড়িপাতার যন্ত্র স্থাপন করা বা গভীর সাগরতলে থাকা ক্যাবল ধ্বংস করতে সক্ষম সাবমেরিনও বানিয়েছে রাশিয়া। 

পশ্চিমা বিশ্ব ভয়ে আছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যদি ট্রান্স আটলান্টিক ইন্টারনেট ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করে দেয় তাহলে আমেরিকা আর ইউরোপের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। ন্যাটো জোটের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ভয়াবহ। 

এই ভয় থেকেই নরওয়ের উত্তর সাগরে টহল বাড়িয়েছে ন্যাটো।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।