আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও কম সাবমেরিন রাশিয়ার, তবুও কেন ভয়ে থাকে ওয়াশিংটন?
অথচ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের হাতে রয়েছে ৬৮টি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। এরপরের স্থানে রয়েছে মস্কো, তাদের হাতে রয়েছে ২৯টি।
কিন্তু এরপরও জলপথের আক্রমণে রাশিয়ার থেকে ওয়াশিংটন বরাবরই তটস্থ থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রগুলোর একটি ধরা হয় টাইফুন ক্লাস সাবমেরিনকে। এটা সর্বকালের সর্ববৃহৎ সাবমেরিন।
এই সাবমেরিনকে তৈরী করা হয়েছে শুধুমাত্র পারমাণবিক হামলার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র এই সাবমেরিনের ভয়ে এতোটাই আতঙ্কিত ছিল যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রাশিয়ার পশ্চিমাপন্থী সরকারকে দিয়ে এগুলো ভাঙাতে আরম্ভ করে।
কিন্তু রাশিয়ার লৌহ মানব ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় আসার পর এই সাবমেরিনগুলোকে ভাঙা বা ধ্বংস করা থেকে রক্ষা করে।
রাশিয়ায় একে ‘আকুলা’ বলা হয়। এই সাবমেরিনের ওজন ৪৮ হাজার টন। ৩টি ফুটবল মাঠের সমান এই সাবমেরিনটি লম্বায় প্রায় ৫৬৬ ফুট।
৪৮ হাজার টনের এই সাবমেরিনটি এখনো বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন। যার প্রস্থ ৭৬ মিটার ও উচ্চতা ৩৮ মিটার। পানিতে ভাসমান অবস্থায় এর গতি প্রায় ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার আর নিমজ্জিত অবস্থায় এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটারের মতো।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাবমেরিনটির মালিকও রাশিয়া। চতুর্থ জেনারেশনের অত্যাধুনিক বোরেই ক্লাসের এই সাবমেরিনটি শক্তিশালী রাশিয়ান নৌবাহিনীর অংশ।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া সাবমেরিনটি নির্মাণ করে। পুরনো মডেলের ডেল্টা ৩, ৪ ও টাইফুনের পরিবর্তে রাশিয়ান নৌবাহিনীতে এটা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ডেলটা ক্লাশ সাবমেরিনের মালিকও মস্কো। এই সাবমেরিনটি মূলত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন ক্লাস হিসেবে সুপরিচিত।
বহু সংখ্যক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ১৮ হাজার ২০০ টনের বিশাল এই সাবমেরিন রাশিয়ার উত্তরে সেভেরোদভিন্স শহরে নির্মাণ করা হয়েছে। ডেল্টা ক্লাসে মোট ৪টি সাবমেরিন রয়েছে, যার মধ্যে ডেল্টা-২ ক্লাসের সাবমেরিনটির সফলতার হার বেশি।
মূলত এইসব সাবমেরিনগুলোর কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ভয়ে আছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি ব্যবহার করা না হলেও রুশ নিউক্লিয়ার বহনকারী সাবমেরিনগুলো সাগরতল দিয়ে গড়ে উঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও পশ্চিমাদের অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ড থামিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া সেন্সর স্থাপন, আঁড়িপাতার যন্ত্র স্থাপন করা বা গভীর সাগরতলে থাকা ক্যাবল ধ্বংস করতে সক্ষম সাবমেরিনও বানিয়েছে রাশিয়া।
পশ্চিমা বিশ্ব ভয়ে আছে যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যদি ট্রান্স আটলান্টিক ইন্টারনেট ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করে দেয় তাহলে আমেরিকা আর ইউরোপের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। ন্যাটো জোটের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ভয়াবহ।
এই ভয় থেকেই নরওয়ের উত্তর সাগরে টহল বাড়িয়েছে ন্যাটো।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

.jpg)
.jpg)






