যুদ্ধে গনহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে রুশ প্রসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক আদালত আইসিসি।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ , তিনি ইউক্রেনের ভবিষ্যত প্রজন্ম ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে শিশুদের বিতাড়িত করে রাশিয়ান ফেডারেশনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
একই অভিযোগের দায়ে তার দেশের শিশু অধিকার কমিশনের দায়িত্বে থাকা মারিয়া আলেকসেভনা ভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধেও জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।
এর আগে গেল বছরের চব্বিশে ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন দখলের ঘোষণা দিলে তারপর থেকেই দেশটিতে শুরু হয় রাশিয়ান আগ্রাসন।
এতদিন ধরে চলা এই অভিযানে একাধিকবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউক্রেন সরকার।
তবে কোন এক অদ্ভুত কারনে এ ব্যপারে এতদিন নিশ্চুপ ছিল আন্তর্জাতিক আদালত আইসিসি। অথচ এই সংস্থাটি গঠিত হয়েছিল এই ধরনের অপরাধের বিচার করতে।
মুলত যখন কোন একটা দেশ নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কারো বিচার করতে ব্যার্থ হয় তখন তারা শেষ ভরসার জায়গা হিসেবে শরনাপন্ন হয় আন্তর্জাতিক আদালতের।
জানা যায় এই আদালতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন সরকারের অভিযোগ ছিল রুশরা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায় রাশিয়া তাদের সীমান্তবর্তী অঞ্ছলে একটি ক্যাম্প করেছে যেখানে বেড়ে উঠছে ইউক্রেনের শিশুরা।
মুলত রাশিয়ার নিয়ন্ত্রনে থাকা ইউক্রেনীয় অঞ্ছল গুলোতে বসবাসরত পরিবারগুলোর শিশুদের যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার নাম করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সেই ক্যম্পে খাদ্য-চিকিৎসার মত মৌলিক চাহিদার কোন অভাব না থাকলেও অভিযোগ আছে তাদের সাথে পরিবারে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।
এমনকি এই শিশুদের রাশিয়ান জাতীয়তাবাদের শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে।
যা স্পষ্টতই যুদ্ধপরাধ। একদিন আগে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিটি এই অভিযোগ সত্য দাবি করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে।
মুলত এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই জারি হয়েছে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা। জানা যায় রাশিয়ার ঐ শিশু ক্যাম্পে বর্তমানে ছয় হাজারের বেশি শিশু আছে।
অবশ্য পুতিন কিংবা তাদের শিক্ষা কমিশনারের উপর গ্রেফতারি পরোয়ানার ব্যপারে কোন অফিসিয়াল বার্তা দেয়নি রাশিয়া। তবে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী টুইট করেছেন তারা এসব পাত্তা দেননা।
তবে এখন প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক আদালতের এই অভিযোগ কতটুকু কার্যকর হবে। জানা যায় রাশিয়ান ফেডারেশন আইসিসির রোম সংবিধি তে সাক্ষরকারী দেশ নয়।
ফলে এই আদালত থেকে আসা কোন রায় কিংবা পরোয়ানা মানতে বাধ্য নয় দেশটি। ফলে এই রায় কার্যকর হওয়ার সম্ভবনা একেবারে নেই বললেই চলে।
তবে পুতিন যদি এমন কোন দেশে সফর করেন যারা আইসিসির রায় মানতে বাধ্য তাহলে সে দেশের সরকার তাকে গ্রেফতার করতে পারে। যা অনেকটায় অসম্ভব।
তাই আপাতদৃষ্টিতে এই পরোয়ানা খুব বেশি কার্যকর কিছু নয়। তবে এটি পুতিনের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন করবে। এদিকে চলতি সপ্তাহে রাশিয়া সফরের কথা আছে চীনা প্রধানমন্ত্রীর।
এখন দেখার বিষয় আন্তর্জাতিক আদালতে অপরাধী সাব্যস্থ হয়েছে এমন কারো সাথে কি আদৌ দেখা করেন কিনা চীনা প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং। আর সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে।