আন্তর্জাতিক


ক্রেডিট সুইস দেউলিয়া হলে দেশীয় পাচারকারীদের অর্থ কি হবে?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ মার্চ ২০২৩, ০৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার

ক্রেডিট সুইস দেউলিয়া হলে দেশীয় পাচারকারীদের অর্থ কি হবে?
দেশের সংস্কৃতিতে বহু পুরনো নাম সুইস ব্যাংক। দেশীয় পাচারকারীরা নিজেদের কালো টাকা সংরক্ষিত রাখার জন্য সুরক্ষিত জায়গা মনে করেন এটিকে। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ব্যংক খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে-ও। দেশটির বিখ্যাত ক্রেডিট সুইস ব্যাংক দেউলিয়া হতে পারে যেকোন সময়। 

১৬৭ বছরের পুরনো এই ব্যংককে টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে সুইস নীতিনির্ধারকেরা। তবে প্রশ্ন উঠেছে এটি যদি সত্যিই দেউলিয়া হয় তবে কি হবে দেশীয় অর্থ পাচারকারীদের। 

তবে তাদের জন্য আশার খবর ইতিমধ্যেই দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা ক্রেডিট সুইসকে কিনে নেওয়ার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে ইউবিএস বলে খ্যাত ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ড। 

ক্রেডিট সুইস অধিগ্রহনে ইতিমধ্যে সরকারের কাছে ৬ বিলিয়ন ডলার সহয়তা চেয়েছে ইউবিএসজি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দেশটি তাদের ব্যংকিং খাতের চলমান সমস্যা সমাধান করতে চায়। 

তবে এই প্রক্রিয়া যে খুব বেশি সহজ হবেনা তা ভালো করেই জানেন তারা। যদি এই ব্যংকের কেনা বেচা ঠিক ঠাক মত হয়ে যায় তাহলে চাকরি হারাবে অন্তত দশ হাজার ব্যংকার। 

আবার এই ব্যংক অধিগ্রহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমান আইনি খরচ কে চালাবে তা নিয়েও রয়েছে নানা সংশয়। এনিয়ে পরিষ্কার কথা বলেনি কোন পক্ষ। 

মার্কিন সিলিকন ভ্যালি এবং সিগ্নেচার ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পর শঙ্কা দেখা দিয়েছে পুরো বিশ্বের ব্যংকিং ইন্ডাস্ট্রিতে। তাই ক্রেডিট সুইসকে বাচাতে মরিয়া সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যংক। 

তারা প্রাথমিক ভাবে ঋণ দিয়ে ব্যংকটিকে টিকিয়ে রাখার চিন্তা করলেও তা খুব বেশি বাস্তবসম্মত নয়,। তাই তারা এখন ইউবিএসকে চাপ দিচ্ছে ক্রেডিট সুইস কিনে নেওয়ার জন্য।

আর এই পুরো প্রক্রিয়াতে কেন্দ্রীয় ব্যংকের পাশাপাশি সহয়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও। কারন ক্রেডিট সুইস বিশ্বের সেরা ত্রিশটি ব্যাংকের একটি। 

কোন ভাবে এটির পতন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হবে। এছাড়া অন্যন্য সুইস ব্যংক গুলোর মত ক্রেডিট সুইসের বেশিরভাগ জমানত এসেছে ভিনদেশ থেকে। 

যেখানে আবার সিংহভাগ অর্থ মার্কিনিদের, এছাড়া তাদের সাম্প্রতিক প্রকাশিত রিপোর্ট প্রমান করে সেখানে অনেক দুর্নীতিগ্রস্থ বাংলাদেশীও নিজেদের টাকা রেখেছেন। 

তাই ক্রেডিট সুইস দেউলিয়া হলে ঝামেলায় পড়তে পারেন তারা। আশঙ্কা করা হচ্ছে সাময়িক সময়ের জন্য তাদের গচ্ছিত রাখা  বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদ আটকে যাবে এই ব্যাংকে। 
তবে ক্রেডিট সুইস যদি কেন্দ্রিয় ব্যংকের নির্দেশনা অনুযায়ী যথারীতি ইউবিএস এর কাছে বিক্রী হয়ে যায় তাহলে তাদের খুব বেশি শংকার কিছু থাকবেনা। 

সেক্ষত্রে এই গোপনে অর্থ জমাকারীদের গোপনীয়তাও বজায় থাকবে এবং তাদের গচ্ছিত রাখা  অর্থ সম্পদও আগের মত সুরক্ষিত-ই থাকবে। 

মুলত ক্রেডিট সুইসের এমন খারাপ অবস্থার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। ব্যংকটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ছিল নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ। 

তাই আমানতকারীত্রা আস্থা হারায় ব্যংকটির উপর। এমনকি সৌদি বিনিয়োগকারীরা ও তাদের বিনিয়োগ তুলে নেয় ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাদের শেয়ারের মুল্য চারভাগের এক ভাগে নেমে আসে। 

এত বিপুল পরিমান সম্পত্তি একসাথে হারানোর ফলে দেখা যায় তাদের ঋণের চেয়ে সম্পদ কমে গিয়েছে। আর তাতেই বাধে হুলস্থুল । আমানত কারীরা অর্থ তুলে নিতে আবেদন শুরু করেছেন ইতিমধ্যে। 

তাই ক্রেডিট সুইসের সামনে এখন দেউলিয়া হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে।  এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো বিনিয়োগ ব্যংক গুলোর একটি। তাই সবাই আশা করছেন এই ব্যংক যেন দেউলিয়া না হয়। 








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।