আন্তর্জাতিক


যুক্তরাষ্ট্রকে ধোকা দিয়ে কীভাবে ঠিকে আছে এই দেশটির অর্থনীতি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ মার্চ ২০২৩, ০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

যুক্তরাষ্ট্রকে ধোকা দিয়ে কীভাবে ঠিকে আছে এই দেশটির অর্থনীতি

একসময়ের মার্কিন মদদপুষ্ট ইরানীদের উপর এখন নানা ইস্যুতেই ক্ষিপ্ত পশ্চিমা বিশ্ব। গত চল্লিশ বছরে তারা অন্তত দেশটির উপর সাড়ে তিন হাজার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। 

ঐতিহাসিকভাবে দেশটির অর্থনীতির মুল স্তম্ভ তাদের মাটির নিচে থাকা পেট্রোলিয়াম কিংবা তেল সম্পদ। তবে নানা নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানী কোম্পানি গুলো বহির্বিশ্বের সাথে লেনদেন করতে পারেনা। 

তাই ভুগর্ভস্থে থাকা তেল বিক্রী করাও ইরানের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। এছাড়া সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ সংক্রান্ত ভয় ভীতির ফলে পর্যটকেরাও ইরানে ভ্রমন করতে যাননা।

কিন্তু আধুনিক বিশ্বে একটা দেশ চলতে হলে অবশ্যই বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। ফলে প্রশ্ন থেকে যায় বৈদেশিক মুদ্রার সব পথ রুদ্ধ করে দিলেও কীভাবে এতদিন টিকে আছে ইরানের অর্থনীতি। 

এর আগে ২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে পশ্চিমারা ইরানের সাথে একটি বানিজ্য চুক্তি করে। ফলে দীর্ঘদিন পর সচল হয়েছিল ইরানের অর্থনীতি। 

কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় সে চুক্তি ভঙ্গ করে বেরিয়ে যান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সে বছর ইরানের ওপর সর্বোচ্চ স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।

সেই সাথে ঘোষানা করে কোন দেশ যদি তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানী তেল কেনার দুঃসাহস দেখায় তাহলে তাদের উপরও আরোপ করা হবে কড়াকড়ি।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সে হুমকি এখন আর খুব বেশি কাজে লাগছে বলে মনে হচ্ছেনা। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম ইরানের অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট করেছে।

সেখানে দেখানো হয়েছে  ২০১৮ সালের পর থেকে দেশটি কীভাবে নিজেদের তেল রপ্তানির হার সময়ের সাথে সাথে বাড়িয়েছে। 

দেশটির খনিজ মন্ত্রী জাবেদ ওজির জানান, ২০২২ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরান যে পরিমান তেল রফতানি করেছে তা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে আট কোটি ব্যারেল বেশি। 

পাশাপাশি গেল বছর তাদের গ্যাস রফতানিও বেড়েছে পনের শতাংশ। এই সময়াটায় তাদের রফতানিকৃত বিপুল পরিমান তেল এবং গ্যাসের মুল ক্রেতা ছিল চীন।

এছাড়া মার্কিন মিত্র ভারত, তুরষ্ক, জাপান এবং দক্ষিন কোরিয়াও লেনদেন করেছে ইরানের সাথে। মুলত তেল বিক্রী বাড়াতে ইরান কাজে লাগিয়েছে রুশ ইউক্রেন যুদ্ধকে। 

এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া দুই পক্ষই বিশ্বের অন্যন্য দেশগুলোকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে কুটনৈতিক শক্তি বাড়াতে চাইছে। 

অপরদিকে ইরানের অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কম হওয়ায় সেটি কিনতে চায় সকলেই। তাই চীন তুরষ্ক এবং ভারতের মত দেশগুলো ইরান থেকে তেল ক্রয়ের হার বাড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে সম্পর্ক ঠিক রাখার খাতিরে মার্কিনিরা এখন তাদের কিছু বলতে পারছেনা। 
যদি তারা ইরানের সাথে লেনদেনকে কেন্দ্র করে কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় তাহলে রুশ ইউক্রেন যুদ্ধে তারা অন্যন্যদের সমর্থন হারাতে পারে। 

অবশ্য দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে এই দেশগুলো সরাসরি ইরানী কোম্পানি থেকে তেল ক্রয় করছেনা । তাই যুক্তরাষ্ট্রেরও খুব বেশি কিছু বলার নেই।

তাদের মতে ইরান একটি গোপন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করেছে। যেখানে তারা ইরানের বাইরে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে কিছু কোম্পানি তৈরি করেছে।

যারা মুলত ইরানি তেলের লেনদেন করে। পরবর্তীতে তেল বিক্রী করা অর্থ পাঠিয়ে দেয় নিজ দেশে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এমন দাবি সত্য হলে তা মার্কিনিদের জন্য মাথা ব্যথার কারন। 

এখন সময়ই বলে দেবে ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কতটুকু সত্য। এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। নিষেধাজ্ঞা বাড়লেও ইরানের তেল বিক্রির আয় পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ