চাইলেই বিশাল মার্কিন নৌ-বহর গুড়িয়ে দিতে পারে ইরান। শব্দের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ছুটতে পারে এমন হাইপারসনিক ব্যালেস্টিক মিসাইলও আছে তাদের হাতে। সাগরের বুকে থাকা জাহাজ ধ্বংস করাও সম্ভব ইরানের জন্য।
পারস্য সাগরের তীরে বসেও এমন সব অস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম কেড়ে নিয়েছে ইরান। তবে, আসলেই কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে পারবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি?
সামরিক সক্ষমতায় নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সামরিক ক্ষমতা, বাজেট, জনবল কিংবা প্রযুক্তি-সবখানেই এগিয়ে আছে আটলান্টিক পাড়ের দেশটি।
সামরিক সক্ষমতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেয়া কিছুটা অসম্ভবই বটে। তবে সেই অসাধ্য সাধনের পথে অনেকটাই এগিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র ইরান। ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার ধার বাড়িয়েছে দেশটি। দিনে দিনে তারা হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা সামরিক বিভাগ।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আরব বিশ্বের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর বহুদিন থেকেই। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের তীরে থাকা ৮ দেশে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে মরিয়া ছিলো দেশটি। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই সফল তারা।
তবে মার্কিনীদের এমন মনোভাবে বাদ সেধেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লব, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সবমিলিয়ে আগে থেকেই চাপে ছিলো তারা। একপর্যায়ে নিজেরাই সামরিক বিভাগ শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেয় তারা।
সেই লক্ষ্যে অনেকটাই সফল বলা চলে ইরানকে। নিষেধাজ্ঞার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে নিজেদেরকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ করে তুলেছে তেহরান।
অবশ্য সক্ষমতা থাকলেও পারমাণবিক বোমা তৈরির কোন ইচ্ছে ইরানের নেই। অন্তত দেশটির পারমাণবিক সংস্থা সেই কথাই জানাচ্ছে।
২০১৫ সালের সাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে থাকার কথা। কিন্তু দিনে দিনে সেই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার দরকার।
ইরান যে ধীরে ধীরে সেই পথেই হাঁটছে, তা অনেকটাই স্পষ্ট। স্বাভাবিক কারণেই তাই কিছু ক্ষুব্ধ এবং দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে বিগত এক বছরে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়গুলোতে নিজেদের সামরিক অস্ত্রের ভান্ডার আরও বড় করেছে ইরান।
গত কয়েকমাসে অন্তত তিনটি নতুন অস্ত্রের কথা জানান দিয়েছে ইসলামিক রাষ্ট্রটি। যার প্রত্যেকটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দূরপাল্লার একটি ক্রুজ মিসাইল তৈরির কথা জানায় ইরান। এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে খুব সহজেই পারস্য উপসাগরের অন্যপাড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ চালানো যাবে। ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার দূরের কোন বস্তুকে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে পারে এই মিসাইল।
শুধু তাইই নয়, ইরানের কাছে এমন মিসাইল আছে যা শব্দের চেয়ে ৮ গুণ দ্রুতগতিতে ছুটতে পারে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই এমন মিসাইল তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি।
এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩টি দেশের মধ্যে অন্যতম শক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া ছাড়া আর কোন দেশই এমন হাইপারসনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়নি।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার সবশেষ নজির তাদের ড্রোনবাহী জাহাজ “শহিদ মাহদাভি”। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের নৌ সেনারা দেশীয়ভাবে তৈরি ড্রোন বহনকারী নতুন যুদ্ধজাহাজটি চালু করেছে।
জাহাজটি ৩০০ থেকে ৭৫০ কিলোমিটার রেঞ্জের ক্রুজ মিসাইল, সেপেহার-৭ লঞ্চ ড্রোন, এক হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের কামিকাজে ড্রোন এবং পাঁচটি হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম।
দুই হাজার ১০০ টন ওজনের জাহাজটি আয়তনেও বেশ বড়। এটি ২৪০ মিটার দীর্ঘ, ২৭ মিটার চওড়া। জাহাজে একটি থ্রিডি ফেজড রাডার এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।