
ইউক্রেন ব্যর্থ হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে পোল্যান্ড। গত ১৮ মার্চ, ফরাসি নিউজ চ্যানেল LCI ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান ফ্রান্সে নিযুক্ত পোলিশ রাষ্ট্রদূত জান এমেরিক রোসিসজেউস্কি জান এমেরিক রোসিসজেউস্কিএই কূটনীতিকের মতে, ইউক্রেন রুশ আগ্রাসন মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে তাদের সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, জীবনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। কাজেই কিয়েভ নিজেদের আত্মরক্ষা করতে ব্যর্থ হলে সংঘাতে নামা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।জান এমেরিকের এমন বক্তব্যের পর পোল্যান্ডের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং ইউক্রেনের পরাজয়ের পরিণতিগুলোর জন্য একটি সতর্ক বার্তা। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকে কিয়েভের পাশে রয়েছে প্রতিবেশী পোল্যান্ড। লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে দেশটি। একসময় এই দুই দেশই সোভিয়েত ইউনিয়েনের অংশ ছিল। গতবছর দেশ দুটি একটি কনফেডারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়। যে কনফেডারেশনের মাধ্যমে নেতারা আশা করছেন, পোলিশ ও ইউক্রেনীয়রা ‘একসাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও সত্যিকারের সংহতির ওপর ভিত্তি করে একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।’ তবে রাশিয়া মনে করে, এই কনফেডারেশন তার বিরুদ্ধে একটি সামরিক জোট। উভয় দেশ যেসব কথাবার্তা বলছে তাতে দেখা যায়, দু’টি দেশ কনফেডারেশনকে ‘জনমের বন্ধনে’ পরিণত করতে চায়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বন্ধনের অংশ হিসেবেই দেশটি ইউক্রেনের হাতে তুলে দিয়েছে লেপার্ড-টু এর মতো ভারি অস্ত্র। পোল্যান্ডই প্রথম দেশ হিসেবে কিয়েভকে লেপার্ড-টু ট্যাংক সরবরাহ করেছে। কেবল লেপার্ড-টু ট্যাংকই নয়, পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬০টি ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণাও দিয়েছে ওয়ারশ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পোল্যান্ড কিয়েভের অন্যতম মিত্র দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এমনকি ওয়ারশ বারবার ন্যাটো এবং ইইউ মিত্রদের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটিতে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করে আসছিল। অবশ্য ইউক্রেনকে এমন সহায়তার জন্য পোল্যান্ডকে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি। তাদের উপর নেমে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিয়েভে লেপার্ড-টু ট্যাংক সরবরাহ করার পরই পোল্যান্ডে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় মস্কো। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোল্যান্ড ইউক্রেনকে লেপার্ড ট্যাংকের প্রথম চালান সরবরাহের মাত্র একদিন পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।রাশিয়ার এমন উদ্যোগেও পোল্যান্ড থেমে থাকেনি। অব্যাহত রেখেছে সহায়তা। এর অংশ হিসেবেই সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রতিহত করার জন্য মিত্র ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর দেশ ইউক্রেনকে চারটি ‘মিগ-২৯’ যুদ্ধবিমান দেবে। এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দ্রেজ দুদা বলেন, ‘‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউক্রেনকে চারটি ‘মিগ-২৯’ যুদ্ধবিমান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তী সময় দেশটিকে আরও যুদ্ধবিমান দেবে পোল্যান্ড। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’’ দুদা আরও জানান, ইউক্রেনকে সব মিলিয়ে ১০ থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান দেওয়া হতে পারে। এর আগে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতিউসজ মোরাভিয়েৎস্কি (Mateusz Morawiecki) ইঙ্গিত দেন, আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমানগুলো দেওয়া হতে পারে। পোল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের দেশ স্লোভাকিয়াও ইউক্রেনকে ‘মিগ-২৯’ যুদ্ধবিমান দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দেশটি।ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মিতে ফ্রেডরিকসেন জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশেও আলাপ-আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সামরিক সহায়তা হিসেবে যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে আকাশপথে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। তাই রাশিয়াকে প্রতিহত করতে হলে তাঁর দেশের যুদ্ধবিমান প্রয়োজন।



