আন্তর্জাতিক


পৃথিবীর বুকে ধূমকেতু আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রতি ১০০ মিলিয়নে মাত্র ১ বার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ মার্চ ২০২৩, ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার

পৃথিবীর বুকে ধূমকেতু আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রতি ১০০ মিলিয়নে মাত্র ১ বার
পৃথিবীর বুকে ধূমকেতু আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রতি ১০০ মিলিয়নে মাত্র ১ বার  !! 

প্রাচীন কালে মানুষ ধুমকেতু সম্পর্কে তেমন কিছু জানতো না । চাইনিজরা ধূমকেতুকে বলতো “ব্রুম স্টার “ । সেই সময়ে মানুষ মনে করতো গুরুত্বপূর্ন কোন ব্যাক্তি মারা যাওয়ার আগে আকাশে ধুমকেতু দেখা যায় । আবার এমন ধারণাও প্রচলিত ছিল যে ভূমিকম্প হওয়ার আগে আকাশে ধুমকেতু দেখা যায় । 

১৭শ শতকে এ কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয় ,ধুমকেতু মূলত সূর্যকে কেন্দ্র করেই আবর্তন করে । হ্যালীর ধূমকেতু প্রথম দেখা গিয়েছিল ১০৬৬ সালে । বিজ্ঞানী হ্যালি প্রমান করেন , ধুমকেতুগুলো একটা নিদৃষ্ট সময় পর পর সুর্যকে প্রদক্ষিন করে । তিনি জানান ১৫৩১ এবং ১৬০৭ সালে যে ধুমকেতু দেখা গিয়েছিল সেটি একই ধুমকেতু । তিনি অনুমান করেছিলেন এই একই ধুমকেতু আবার দেখা যাবে ১৬৮২ সালে । তাঁর কথা সত্যি হয়েছিল ,যদিও তিনি তখন বেঁচে ছিলেন না । 

কমেট বা ধূমকেতু পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলোর মতোই সূর্যের চারপাশে ঘুরতে থাকে । 

ধূমকেতু বরফ ,ধুলো এবং পাথর দিয়ে গঠিত । ধুমকেতুতে এমন কিছু উপাদানও রয়েছে যেগুলো সোলার সিস্টেম তৈরির একদম শুরুর দিকে ছিল । 

ধূমকেতু আসে কোথা থেকে ? 
এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ধূমকেতুর উৎপত্তি ওয়র্ট ক্লাউড থেকে । ওয়র্ট ক্লাউন্ড হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেটা আমাদের পরিচিত সোলার সিস্টেমের বাইরে অবস্থিত । এটি বরফ দিয়ে গঠিত একটি মেঘমন্ডল । 

ধূমকেতুর আরেকটি উৎস হলো কুইপার বেল্ট । কুইপার বেল্ট লক্ষ লক্ষ বরফ খন্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি রিং বিশেষ যেটি নেপচুন গ্রহের কাছে অবস্থিত । ধারণা করা হয় , কুইপার বেল্ট থেকেই বেশিরভাগ ধূমকেতুর আবির্ভাব হয় । কুইপার বেল্টের বরফের টুকরো গুলো সূর্য বা অন্য কোন গ্রহের আকর্ষনে ছুটে বের হয়ে আমার পরিচিত সোলার সিস্টেমে প্রবেশ করে । 

ধূমকেতু সাধারণত উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে । স্বল্প সময়ের জন্য যে ধূমকেতুগুলো দেখা যায় সেগুলো ২০ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে । আর দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে যে ধূমকেতু দেখা যায় সেগুলো ২০০ বছর বা তার বেশি সময়ে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিন করে । উপবৃত্তাকার পথে ভ্রমণের সময় যখন সূর্যের কাছাকাছি থাকে তখন ধুমকেতুর গতি থাকে ঘন্টায় ১ লক্ষ মাইল  এবং সূর্য থেকে যতোই দূরে সরতে থাকে ধুমকেতুর গতিবেগ ততো কমতে থাকে । সুর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকা অবস্থায় গতিবেগ হয় ঘন্টায় ২ হাজার মাইল । 

একটা ধুমকেতুর মধ্যে ৩ টা অংশ থাকে । নিউক্লিয়াস ,কমা এবং লেজ । ধুমকেতুর নিউক্লিয়াস হচ্ছে একটা কঠিন আবরণ যেটি ধূলো ,পাথর এবং বরফ দিয়ে গঠিত । নিউক্লিয়াসের চারপাশে থাকে কমার মতো অংশ যা গঠিত হয় বিভিন্ন প্রকার গ্যাস দিয়ে । আর ধূমকেতুর লেজ হচ্ছে সেই অংশটি যেটি ধুমকেতুর মাঝে থাকা যে কোন গ্যাসের কারণে জ্বলে উঠে । 

আমরা সাধারণত ধুমকেতুর লেজ এবং কমা অংশটি দেখে থাকি । গতির কারনে কমার মধ্যে থাকা গ্যাসগুলো জ্বলে উঠে এবং পেছন দিকে ছড়িয়ে লেজের সৃষ্টি করে । নিউক্লিয়াস বা ধুমকেতুর কেন্দ্র  তখন দেখা যায় না । 

একটা ধূমকেতুর ব্যাস ১ কিলোমিটার থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে । ৩০০ কিলোমিটার ব্যাস সম্পন্ন ধূমকেতুগুলোকে বলা হয় চিরন ( Chiron) . 

১৪৯১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী  C1491 -B1 নামের একটি ধূমকেতু পৃথিবীর এক দশমিক চার মিলিয়ন কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছিল । তবে এরকম ঘটনা এটাই শেষ নয় 

পৃথিবীর  নিকট দিয়ে অতিক্রমকারী আরেকটি  ধূমকেতুর নাম হচ্ছে লেক্সেল । এটি ১৭৭০ সালে দেখা গিয়েছিল । ধুমকেতুটি পৃথিবীর দুই দশমিক মিলিয়ন কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছিল । 

এখন পর্যন্ত ২৬ টি পিরিয়ডিক ধুমকেতুর কথা জানা গেছে যেগুলো  পৃথিবীর খুব কাছে দিয়ে অতিক্রম করে । যদিও এখন পর্যন্ত সেগুলো পৃথিবীতে কোন আঘাত হানেনি । একটা গবেষনায় দেখা গেছে , পৃথবীর কাছ দিয়ে অতিক্রমকারী ধূমকেতুগুলোর আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রতি ১০০ মিলিয়নে মাত্র ১ বার । কিন্তু সত্যি যদি আঘাত হানে তাহলে সেটা হবে ভয়ঙ্কর ।  

তবে পৃথিবীর বুকে আঘাত না করলেও ১৯৯৪ সালে একটা ধূমকেতুর ২০ টি ভাঙা টুকরো জুপিটার গ্রহে আঘাত হেনেছিল । 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।