এ যাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘হোয়াসং-এইটটিন’ নামের মিসাইলটি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে অলৌকিক সাফল্য এনেছে বলে আখ্যা দেয় পিয়ংইয়ং। এটি উত্তর কোরিয়ার শত্রুদের কৌশলগত এবং আগ্রাসী আচরণের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে সক্ষম।
শুধু তাই নয়, কখনও পারমানবিক হামলা চালানো হলেও এটি পাল্টা আক্রমণ চালানোর মোক্ষম হাতিয়ার। উৎক্ষেপণকালে ক্ষেপণাস্ত্রটি ৬ হাজার কিলোমিটারের মতো উঁচুতে উঠেছিল, যা সচক্ষে দেখেছে জাপানের অধিবাসীরাও।এ ঘটনায় জাপান জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎকণ্ঠা। ফলে, বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় জাপান।
ক্ষেপণাস্ত্রটি শেষপর্যন্ত সমুদ্রের ওপর ভেঙে পড়লে কোনো বিপত্তি ঘটে নি বলে, জানা যায়। মিসাইলটির সফল পরীক্ষার মাধ্যমে কিম জং উনের উন্নত ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তোলার স্বপ্ন, নতুন মাত্রা পেলো বলে দাবি পিয়ংইয়ং এর।
পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম মিসাইলটির উৎক্ষেপণ পরিচালনা করেন স্বয়ং কিম জং উন। তখন তার সাথে ছিলেন উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা, তার মেয়ে জু-আয়ে। দেশটি শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করলেও প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হলো সলিড ফুয়েল।
সলিড ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা নিরাপদ। তরল চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি পরিচালনা করাও সহজ। তাছাড়া কোনো বাড়তি সতর্কতা ছাড়া অল্প সময়েই মোতায়েন করা যায় এই মিসাইল। ২০২১ সালে প্রকাশ করা কিমের পাঁচ বছর মেয়াদি অস্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ এটি।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এই পরীক্ষার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারে। শুক্রবার সকালে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য নিশ্চিত করে।
উত্তর কোরিয়ার মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান ওই কোরিয়ান পেনিনসুলা অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। তারপর মিসাইল পরীক্ষার বহর আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন কিম।
গত কিছু দিনে একের পর এক মিসাইল জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। চলতি বছরই ৩০টি মিসাইল ছুঁড়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর কোরিয়াকে নানান ধরনের অস্ত্রের নিয়মিত পরীক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।
গত ৪ থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোড্রোনের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। নতুন হেইল-২ নামের আন্ডারওয়াটার ড্রোনটির উত্তর কোরীয় ভাষায় অর্থ দাঁড়ায় “সুনামি”। এটি এমনভাবে বানানো হয়েছে, যা গভীর পানিতে লুকিয়ে হামলা চালাতে পারে, পাশাপাশি ছড়াতে পারে তেজস্ক্রিয় সুনামি। ধ্বংস করতে পারে শত্রুর জাহাজ ও বন্দর।এর সপ্তাহ দেড়েক আগে, দেশটি হেইল-১ নামে আরও একটি ড্রোন সাবমেরিনের পরীক্ষা চালিয়েছে।
সর্বশেষ পরীক্ষায় ডুবোড্রোন ‘হায়িল-২’ পানির নিচে ৭১ ঘণ্টা ৬ মিনিট বিচরণ করেছে এবং সফলতার সঙ্গে কৃত্রিমভাবে বানানো লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।
উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বড়, গাঢ় রংয়ের টর্পেডো আকৃতির একটি বস্তুর পাশাপাশি পানির নিচে বস্তুটির গমনপথ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে বিস্ফোরণের দৃশ্য।
উত্তর কোরিয়ার দাবি- বিস্ফোরণের আগে ড্রোনটি প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এবং দক্ষিণ হামগিয়ং প্রদেশের তানচন শহরের রিয়ংডে বন্দরের কাছের সমুদ্রে বিস্ফোরিত হয়।
পিয়ংইয়ংয়ের এই ডুবোড্রোন আদৌ মোতায়েনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত কিনা তা নিয়ে পশ্চিমা অনেক বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
যদিও বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলছে, নতুন এই কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থাপনা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ হলে তা মোকাবেলায় সহায়তা করবে।