আবারও আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুরো ইউক্রেনে একের পর এক বিমান হামলা করে চলেছে রাশিয়ান সেনারা। বিগত দুই দিনে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁস হবার পর থেকেই, আচমকা বিমান হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। বিশ্লেষকদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় আক্রমণের পরিকল্পনাকে আটকে দেয়ার জন্যই এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সবশেষ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় স্লোভিয়ানস্ক শহরের আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এই হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহতের সংখ্যা ২০ জনের বেশি।
রাশিয়ার এমন হামলাকে খুবই কৌশলগত বলে আখ্যা দিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। এই হামলার ফলে নতুন আরও একটি শহরকে নিজেদের দখলে আনতে চায় রাশিয়া। যা তাদের সামরিক বিভাগকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট একটি নতুন বিল পাশ করেছেন। এই আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের নাগরিকদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। এছাড়া আইনের ধারা অনুযায়ী তাদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।
ভৌগলিকভাবে স্লোভিয়ানস্ক শহরটি বাখমুত থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, স্লোভিয়ানস্ক দখল করে, এদিক থেকে বাখমুতের দিকে এগিয়ে যেতে চায় রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার।
রাশিয়ান সেনাবাহিনীও এই কথার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা স্লোভিয়ানস্ক থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বাখমুত শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এর আগে বিগত সপ্তাহে টানা চারদিন ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অতর্কিত বিমান হামলা চালায় রাশিয়ান বাহিনী।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ সূত্রে জানা যায়, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী নয়টি অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। এসব অঞ্চলের মধ্যে লুহানস্ক ও দোনেৎস্কও আছে।
ইউক্রেন তাদের দৈনিক সামরিক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ৩৯টি বিমান হামলা ও সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরমধ্যে চারটি এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে আক্রমণ চালানো হয়।
এদিকে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতে সবচেয়ে বড় ধরণের যুদ্ধ চলছে। শহরটিতে রাশিয়ান বাহিনী স্পষ্ট আধিপত্য বিস্তার করলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়া সম্ভব হয়নি তাদের।
চলতি বছরের গ্রীষ্মের শেষ সময় থেকেই, এই শহরকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালনা করছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত এতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আসেনি তাদের।
রাশিয়ান ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাখমুতের মধ্যাঞ্চল দখলের এক সপ্তাহের মাথায় আরও দুটি এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে তারা।
কিন্তু ইউক্রেনের সবশেষ প্রতিরোধের কাছে গিয়ে, আটকাতে হচ্ছে রুশ বাহিনীকে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্বল করাও রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিমান হামলার অন্যতম কারণ বলে ধারণা অনেকের।
গত বৃহস্পতিবার মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাখমুতে ইউক্রেনীয় সেনাদের সংখ্যা কমে গেছে। তবে কিয়েভ এমন দাবি অস্বীকার করেছে। বাখমুতের সুরক্ষা নিশ্চিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ পর্যন্ত টানা ৪১৮ দিনের মতো চলছে দেশ দুইটির সংঘাত।
যুদ্ধে দুই পক্ষের ব্যাপক পরিমাণ হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। বরং জাপোরিঝহিয়া পরমাণু কেন্দ্র, বাখমুত, লুহানেস্কের মত অঞ্চলকে কেন্দ্র করে, নিজেদের হামলার পরিধি বাড়িয়েছে রাশিয়া।