আন্তর্জাতিক
ইরান পারমাণবিক বোমার জন্য মরিয়া কেন?
সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান প্লুটোনিয়ামের মজুদ এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির আদর্শ পরিমাণের কাছাকাছি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতির অধীনে পারমাণবিক চুক্তি থেকে আমেরিকা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। এবং একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ইরানের পরমাণু শক্তিধর হয়ে উঠতে নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এমনকি বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতি সহ নানা প্রেক্ষাপট নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, তৎকালীন ইরাক সরকারের সাথে আমেরিকার বৈরিতা যখন চরমে, তখন বাগদাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে– এই অযুহাতে সেখানে হামলা চালানো হয়।
পরবর্তীতে দেখা গেছে, ইরাকে আসলে তেমন কোনো বোমাই ছিল না। একেবারে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই যুদ্ধ থেকে ইরানের শিক্ষা নেয়ার মতো অনেক কিছু ছিল।
‘নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ তত্ত্ব অনুযায়ী, দুটো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, এ ধরনের সংঘাতে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ আর এমনটি হলে দুটো দেশই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে।
অপরদিকে, ইসরায়েল বার বার অস্বীকার করলেও তাদের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকার শক্ত প্রমাণ রয়েছে। ধারণা করা হয়, ইসরায়েলের অস্ত্রসম্ভারে ৭৫-৪০০টি পারমাণবিক বোমা মজুদ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক বোমা অর্জন দেশটির জন্য বিরাট কৌশলগত সামরিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। কেননা পারমাণবিক বোমার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েই অনেকাংশে শত্রুর উদ্ধত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
পারমাণবিক বোমার প্রকল্প গ্রহণের পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও জড়িত। ২০০৫ সালে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই ইরানের রাজনীতিতে কট্টরপন্থীদের দাপট বাড়তে শুরু করে।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

.jpg)
.jpg)






