আন্তর্জাতিক


ইরান পারমাণবিক বোমার জন্য মরিয়া কেন?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ এপ্রিল ২০২৩, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

ইরান পারমাণবিক বোমার জন্য মরিয়া কেন?
নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে উঠতে মরিয়া ইরান। গুরুতর বিপদ এড়াতেই ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ অর্জন করতে চায় তেহরান। এই যোগ্যতা অর্জন করলে শত্রু দেশগুলো ইরানের উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে। 

সম্প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান প্লুটোনিয়ামের মজুদ এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির আদর্শ পরিমাণের কাছাকাছি। 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতির অধীনে পারমাণবিক চুক্তি থেকে আমেরিকা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। এবং একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।  

এ থেকে অনেকেই অনুমান করেছিলেন, ইরান শীঘ্রই পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতো চাপের পরেও কেন দেশটি পারমাণবিক বোমার জন্য এত মরিয়া?

ইরানের পরমাণু শক্তিধর হয়ে উঠতে নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এমনকি বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতি সহ নানা প্রেক্ষাপট নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, তৎকালীন ইরাক সরকারের সাথে আমেরিকার বৈরিতা যখন চরমে, তখন বাগদাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে– এই অযুহাতে সেখানে হামলা চালানো হয়।

পরবর্তীতে দেখা গেছে, ইরাকে আসলে তেমন কোনো বোমাই ছিল না। একেবারে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই যুদ্ধ থেকে ইরানের শিক্ষা নেয়ার মতো অনেক কিছু ছিল। 

মূলত ইরাকের হাতে শক্তিশালী কোনো অস্ত্র না থাকায় প্রবল শক্তিধর মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীকে কখনোই ভাবতে হয়নি। কিন্তু যদি ইরাকের কাছে ‘পাল্টা আক্রমণ’ করার মতো শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র থাকতো, তাহলে এত সহজে কেউ আক্রমণ করার কথা ভাবতো না।

‘নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ তত্ত্ব অনুযায়ী, দুটো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, এ ধরনের সংঘাতে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ আর এমনটি হলে দুটো দেশই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে।

বর্তমানে স্বীকৃত ৮টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি রাষ্ট্র রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার হাতে পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বাকি তিনটি রাষ্ট্র ভারত, পাকিস্তান এবং উত্তর কোরিয়া ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার সক্ষমতা রয়েছে পারমাণবিক বোমা তৈরির।

অপরদিকে, ইসরায়েল বার বার অস্বীকার করলেও তাদের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকার শক্ত প্রমাণ রয়েছে। ধারণা করা হয়, ইসরায়েলের অস্ত্রসম্ভারে ৭৫-৪০০টি পারমাণবিক বোমা মজুদ রয়েছে। 
আর অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকাটা ইরানের জন্য চাপের একটি বিষয়। এই চাপ থেকে মুক্ত হতেই তেহরান নিজেদের পরমাণু শক্তিধর হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক বোমা অর্জন দেশটির জন্য বিরাট কৌশলগত সামরিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। কেননা পারমাণবিক বোমার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েই অনেকাংশে শত্রুর উদ্ধত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

পারমাণবিক বোমার প্রকল্প গ্রহণের পেছনে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও জড়িত। ২০০৫ সালে সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই ইরানের রাজনীতিতে কট্টরপন্থীদের দাপট বাড়তে শুরু করে।
 
দেশটির রাজনীতিতে যারা সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত, তারা পশ্চিমাদের সাথে একটি পরমাণু চুক্তি করতে আগ্রহী ছিল। সেই অনুযায়ী, তারা পরিকল্পনাও করছিল। 

কিন্তু মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসার পর ‘জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী’ হিসেবে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়টি বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে সংস্কারপন্থীরা ইরানের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেন। 

ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের তালিকায় নাম লেখায় তাহলে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে দারুণ অগ্রগতি লাভ করবে। কিন্তু একইসাথে পশ্চিমাদের যুক্তিও ফেলনা নয়। 

পশ্চিমা বিশ্ব বরাবরই বলে আসছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সেইসাথে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মাঝে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হবে, এবং আরও বেশ কয়েকটি দেশ হয়তো পরমাণু বোমার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। 

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।