সম্প্রতি রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাবতীয় পাওনা চাইনিজ কারেন্সি ইউয়ানের মাধ্যমে পরিশোধে সম্মত হয়েছে রাশিয়া এবং বাংলাদেশ।
এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশ ইতিমধ্যে ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্যন্য মুদ্রার দিকে ঝুকছে। তাই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তবে কি সমাপ্তির পথে ডলারের রাজত্ব।
বছরের পর বছর বিশ্ব শাসন করে আসছে আমেরিকা! দেশটির এত শক্তির মুল উৎস তাদের জাতীয় মুদ্রা ডলার। কারন যেকোন আন্তর্জাতিক বানিজ্যের লেনদেন হয় ডলারে।
আর ডলার ছাপানোর অধিকার আছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকের। তাই দেশটি নিজেদের প্রয়োজনে যেকোন পরিমান মুদ্রা যেকোন সময় ছাপাতে পারে।
বিপরীতে অন্য দেশগুলোকে এই ডলারের জন্য নির্ভর করতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের মর্জির উপর। আর এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা পর বছরের পর বছর বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করছে।
মার্কিনিদের এই অযাচিত ক্ষমতাকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ করছিলো ইরান, রাশিয়া বা কিউবার মত কিছু মার্কিন বিরোধী দেশ। তবে কখনোই হালে পানি পায়নি তাদের সেই প্রতিবাদ।
কিন্তু আমেরিকার এই অর্থনৈতিক প্রভাববলয় কাটিয়ে গত কয়েক দশকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে চাইনিজ অর্থনীতি। যারা এখন চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম আমেরিকাকে।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও হাত মিলিয়েছে তাদের সাথে। এছাড়া চীন রাশিয়ার এই জোটকে সমর্থন দিতে শুরু করেছে বিশ্বের অনেক দেশ।
সম্প্রতি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে চলা উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নিষেধ অমান্য করে মস্কো সফর করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সেখানে দেশ দুটির মধ্যে হয়েছে অনেক গুরুত্বপুর্ন চুক্তি। এছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিধর দেশ ইরান এবং সৌদিকে এক টেবিলে বসিয়ে সমঝোতা করে দিয়েছে চীন।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ও তাদের প্রভাব স্পষ্ট। অপরদিকে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাড়ছে তাদের প্রভাব। বলিভিয়া এবং ব্রাজিলের মত কয়েকটি দেশের সরকার এখন চীন পন্থী।
ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট লুলা দি সিলভা বিশাল এক প্রতিনিধিদল সহ সম্প্রতি সফর করেছেন চীনের রাজধানী বেইজিং। উল্লেখিত সবগুলো ঘটনা বিচ্ছিন্ন মনে হতে পারে।
কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে এটি অনেক বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারন এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা,আফ্রিকা এবং ইউরোপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ইইউ’র মত আরেকটি সংঘটন।
ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, ইন্ডিয়া এবং সাউথ আফ্রিকাকে নিয়ে গড়ে উঠা এই সঙ্ঘটনের নাম ব্রিকস। উদীয়মান এই অর্থনৈতিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন।
প্রায় সব মহাদেশের প্রতিনিধি নিয়ে গড়ে উঠা এই সংঘটন যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সাহায্য সহযোগিতা শুরু করেছে।
তাদের সাম্প্রতিক সাফল্য দেখে ব্রিকসে প্রবেশ করতে চাচ্ছে ইরান সৌদি সহ আরো বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশ। সেক্ষেত্রে সঙ্ঘটনটির নতুন নাম হবে ব্রিকস প্লাস।
আর এমনটা হলে কপাল পুড়বে মার্কিনিদের। কারন ব্রিকসের সদস্য দেশ গুলো ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে নিজস্ব কারেন্সিতে লেনদেনের শুরু করে দিয়েছে।
যেমন চীন এবং রাশিয়া এখন আর ডলারে লেনদেন করছেনা। এমনকি ব্রিকসের বাহিরে অনেক দেশ নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের এই মডেলের দিকে ঝুকছে।
যা ডলারের জন্য এক প্রকার হুমকি। এমনকি এই হুমকি শিকার করে নিচ্ছে পশ্চিমারা। সাবেক ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জিম ও নেইলের একটি আর্টিকেল সম্প্রতি ঝড় তুলেছে পশ্চিমা দুনিয়াতে।
সেখানে তিনি দাবি করেছেন ব্রিকস ডলারের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এই মুহুর্তে কোন দেশের উচিত হবেনা ডলারের উপর নির্ভর করে চলা।
এমনকি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা আইএমএফ ও সেই কথার সাথে সুর মিলিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে বিশ্বের সব গুলো দেশ একক মুদ্রা হিসেবে ডলারের রিজার্ভ কমিয়েছে।
অন্যদিকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে আশঙ্কা করা হচ্ছে তারা নিজস্ব মুদ্রার রুপরেখা প্রস্তাব করবে। সেই ক্ষেত্রে ব্রিকসের সব সদস্য দেশ নিজেদের মধ্যে লেনদেনে নতুন কারেন্সি ব্যবহার করবে।
যা ডলারের জন্য সত্যিকারের হুমকি। এখন সময়ই বলে দিবে নতুন এই অর্থনৈতিক লড়াইয়ে ডলার কিংবা আমেরিকা কতদিন ঠিকে থাকতে পারবে।