একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে রাশিয়া, প্রাণ বাচাতে মাটির নিচে আশ্রয় নিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা। সম্প্রতি এমন পরিস্থিতি দাড়িয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতে। এই শহরটি ঘিরে গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধ চলছে। বর্তমানে বাখমুতের প্রায় পুরোটাই রুশ বাহিনীর দখলে। শুধুমাত্র সামান্য কিছু জায়গায় ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো অবস্থান ধরে রেখেছে।
তবে তাদের সেই অবস্থান খুবই নাজুক। বর্তমানে রাত দিন ২৪ ঘন্টা রুশ আক্রমণ চলছে। তাদের গোলার মুখে টিকতে পারছেনা ইউক্রেনীয় বাহিনী। বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছে একটি বিল্ডিংএর ভূগর্ভস্থ কক্ষে। তবে সেখানেও শান্তি নেই তাদের। একের পর এক গোলার আঘাতে কেপে উঠছে মাটি।
সম্প্রতি বাখমুত শহরে এমন চিত্র দেখে এসেছেন এএফপির কয়েকজন সাংবাদিক। ইউক্রেনীয় সেনাদের সঙ্গে শহরটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরো বাখমুত শহরের আবাসিক ভবনগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। যেখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ।
শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জায়গায় অবস্থান করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে রাশিয়ার হামলায় তারা আশ্রয় নিয়েছে ভূগর্ভস্থ কক্ষে। কয়েকটি বিল্ডিং এর ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ইউক্রেনের সেনারা সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, রুশ বাহিনীর হামলা কখনোই বন্ধ হয়না। শুধুমাত্র তারা পালটা হামলা করলে কিছুটা সময় আহতদের সরাতে ব্যস্ত থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েছে অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় বাহিনী। নিজেদেরকে ক্লান্ত এবং অবসাদগ্রস্ত হিসাবে বর্ণনা করছে তারা ।
তবে এতোকিছুর পরেও তাদের টিকে থাকার চেষ্ঠা করতে হচ্ছে। কারণ তারা এখানে থাকলে অন্যান্য ইউনিট গুলো থেকে পালটা হামলা চালানোর সুযোগ বাড়বে।
যদিও সেই অপেক্ষায় আর কতোদিন তারা থাকবেন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কারণ বাখমুতের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে। এখন সামান্য কিছু এলাকায় ছড়িয়ে আছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। যেখানে তাদের পরিস্থিতি দিনদিন খারাপ হচ্ছে।
বর্তমানে বাখমুতের একটি মাত্র রাস্তা ইউক্রেনের দখলে আছে, যেখান দিয়ে নিজেদের রশদপত্র পরিবহন সম্ভব।
এই রাস্তাটির নাম দেয়া হয়েছে 'পাথ অব লাইফ' বা জীবনের রাস্তা। কারণ রাস্তাটি রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেলে আর কোন উপায় থাকবে না ইউক্রেনীয় সেনাদের। লড়াই করে অথবা রশদের অভাবে যুদ্ধ ক্ষেত্রেই প্রাণ হারাতে হবে।
ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, জীবনের রাস্তার একদম কাছাকাছি চলে এসেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের এক সেনা নিজে তাদের অবস্থান দেখিয়েছেন সাংবাদিকদের।
জীবনের রাস্তা থেকে রুশ বাহিনীর বর্তমান দুরত্ব মাত্র ৯০০ মিটার। এটুকু দুরত্ব পার হলেই রাস্তাটি দখলে নিবে রাশিয়ান সেনারা। ফলে নিশ্চিত ভাবে মারা পড়তে হবে ইউক্রেনীয়দের।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সেনারা চরম হতাশায় মধ্যে রয়েছে।
সাংবাদিকদের তারা বলেছে; রকেট, মর্টার ও ট্যাংকের গোলা ছুড়তে ছুড়তে এগিয়ে আসছে রুশ বাহিনী। হাতে যা কিছু পাচ্ছে সব ছুড়ে দিচ্ছে। লুকানোর জায়গা পাচ্ছে না ইউক্রেনীয় সেনারা।
অন্যদিকে বাখমুতে রুশদের মোকাবেলা করার মতো অস্ত্র সেনাদের হাতে নেই। গোলা বারুদের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে তাদের।
অস্ত্র ছাড়া গোলা ছাড়া হতাশা প্রকাশ করেছেন সেনা সদস্যরা। তাদের ভাষ্যমতে, এভাবে আসলে টিকে থাকা যায় না।
তবে রাশিয়ার জন্যেও বিষয়টি সহজ হচ্ছে না। গত কয়েকমাস ধরে এই শহরে যুদ্ধ চলছে। এখনো সম্পূর্ণ বাখমুতের নিয়ন্ত্রন নিতে পারেনি রুশ বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শহরের জন্য চরম মূল্য বিসর্জন করছে তারা।
তবে দুই পক্ষের কাছেই এ শহরটির গুরুত্ব রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাখমুতে যারা জয়ী হবে, তারাই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
এখন দেখার বিষয়, আর কতোদিন এভাবে রুশদের ঠেকিয়ে রাখতে পারে ইউক্রেনীয় বাহিনি। যদিও পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই বাখমুতের নিয়ন্ত্রন পুরোপুরি পেতে যাচ্ছে রাশিয়া।