আন্তর্জাতিক


ইউক্রেনে ৪৮ টন ওজনের অদৃশ্য ট্যাংক পাঠিয়েছেন পুতিন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার

ইউক্রেনে ৪৮ টন ওজনের অদৃশ্য ট্যাংক পাঠিয়েছেন পুতিন
এবার ইউক্রেনে ৪৮ টন ওজনের অদৃশ্য ট্যাংক পাঠিয়েছে রাশিয়া। শক্তিশালী এই ট্যাংক যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেবে কিনা, এমন আলোচনা চলছে বিশ্লেষক মহলে। 

কিছুদিন আগে ইউক্রেনকে নিজেদের আব্রামস ট্যাংক দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র,  তাদের আব্রামস থেকে রাশিয়ার নতুন ট্যাংক বেশ কিছু দিকে এগিয়ে রয়েছে। রাশিয়ার নতুন এই ট্যাংকের নাম 'T-14 আর্মাটা'। সম্প্রতি এই ট্যাংক ইউক্রেনের যুদ্ধ ক্ষেত্রে পাঠিয়েছেন পুতিন। তবে এখন পর্যন্ত কোন হামলায় T-14 ব্যবহারের খবর পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, খুব শিগগির শক্তিশালী এই ট্যাংক কাজে লাগাবে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিনের নতুন এই অস্ত্র বেশ কিছু দিক দিয়ে সুবিধাজনক। এটি পরিচালনার জন্য উপরে কোন সেনার দাঁড়িয়ে থাকতে হয়না। 

কারণ নতুন এই ট্যাংকের ভেতরে বসেই সম্পুর্ণ ভাবে পরিচালনা করা যায়। ট্যাংকের ভেতর একটি নিরাপদ ক্যাপসুল রয়েছে, সেখানে বসেই চালক এটিকে পরিচালনা করতে পারেন। ইন্টারনেটের তথ্য থেকে জানা গেছে, রাশিয়ার এই ট্যাংক অত্যন্ত দ্রুতগতির।  মসৃণ রাস্তায় এটির গতি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি। তবে অসমান এলাকায় গতি কিছুটা কম হতে পারে। 

শক্তিশালী এই ট্যাংক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলো পশ্চিমারা। বলা হচ্ছে এরকম একেকটি ট্যাংক তৈরি করতে ১১ বছর সময় লেগেছে রাশিয়ার। 

২০১৪ সালে সর্বপ্রথম এই ট্যাংকের নকশা করা হয়েছিলো। ২০১৫ সালে জানা যায়, রাশিয়ার এই ট্যাংক যুদ্ধক্ষেত্রে অনেকটা অদৃশ্য হয়ে থাকবে। 

এটিতে এমন সব রঙ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার কারণে শত্রু রাডারে এটির অস্তিত্ব  ধরা পড়বে না। 

২০২০ সালে এরকম ২৩০০ ট্যাংক তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন। তবে এখন পর্যন্ত কতোটি তৈরি হয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। 

রাশিয়ার শক্তিশালী এই ট্যাংকের একেকটির ওজন ৪৮ টনের বেশি। লম্বায় এগুলো ৩৫ ফুট, আর চওড়া ১১ ফুটের মতো। 

নিজের অবস্থান থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত দুরত্বে এটি আক্রমন চালাতে পারে।  

রাশিয়ার এই ট্যাংকে ১৫২ মিলিমিটারের ক্যালিবার গান ফিট করা যায়। ফলে যেকোন শত্রু বাহিনীর জন্য T-14 ট্যাংক চলমান এক আতংকের নাম। 

অন্যদিকে  ট্যাঙ্কের ‘প্রাইমারি গানে' একসাথে  ৪২ রাউন্ডের গোলা ভরা যায়। এর মধ্যে ৩২ রাউন্ড অটোলোডার। এছাড়া ট্যাংকের মেশিন গান ২ হাজার রাউন্ড গোলা রাখতে সক্ষম। 

শক্তিশালী এই ট্যাংকের পেছনে বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করেছে রাশিয়া। ২০১৫ সালে এগুলোর একেকটির জন্য বাজেট ছিলো ৪৬ লক্ষ ডলার। বর্তমানে খরচের এই পরিমান আরো অনেক বেশি। 

যদিও পশ্চিমা গোয়েন্দারা এই ট্যাংকের শক্তিমত্তা নাকচ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, T-14 নাকি এখনো ত্রুটিপূর্ণ।  তবে বিশ্লেষকদের বলছেন, আসল সত্য যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে। 

গত কয়েকমাস ধরে ইউক্রেনে পালটা আক্রমণের পরিকল্পনা করছে পশ্চিমারা। রাশিয়ার দখল কৃত সকল এলাকা পুনরুদ্ধার করতে চায় তারা। 

এই লক্ষে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কে তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিজেদের শক্তিশালী আব্রামস ট্যাংক ইউক্রেনে পাঠিয়েছে আমেরিকা। 

অবশ্য ইউক্রেনের পালটা আক্রমণের কোন লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। বরং বাখমুত সহ কিছু জায়গায় নিয়ন্ত্রন হারাচ্ছে তারা। 

যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে নতুন শক্তিশালী ট্যাংক পাঠিয়েছেন পুতিন। এখন দেখার বিষয়, এই ট্যাংক যুদ্ধক্ষেত্রে কতোটা ভুমিকা রাখে। 

যদিও অনেক বিশ্লেষক বলছেন, মূলত কৌশলগত কারণে T-14 ট্যাংক পাঠিয়েছেন পুতিন। যুদ্ধেক্ষেত্রে এটির খুব একটা ব্যবহার হয়তো করা হবে না।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ