

সামিউল হক খাঁন শাওনঃ
স্মরণকালের ভয়াবহতম আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকায় নাভিশ্বাস উঠেছে দেশটির সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে জনরোষানলের মুখে পড়েছে দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর গোষ্ঠী রাজাপাকসের পরিবার।
গত কয়েক দশক ধরে দেশটির শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন শীর্ষ পদে রয়েছেন এই পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য। শ্রীলঙ্কার রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আসলে তাদের হাতেই।
শ্রীলঙ্কার এই প্রভাবশালী পরিবারের ৯ সদস্যের একটি সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি তৈরি করেন বার্তাসংস্থা এএফপি।
এ সদস্যরা হলেন— শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হন গোটাবাইয়া রাজাপাকসে, তার বড় প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে ,মন্ত্রীসভার সদস্য আরেক ভাই চামাল রাজাপাকসেও। শুধু ভাইয়েরাই নয়, ভাইদের দুই ছেলে নামাল ও শশীন্দ্র রাজাপাকসেও রয়েছেন মন্ত্রীসভায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দাপট দেখিয়ে আসছে শ্রীলংকার রাজাপাকসে পরিবার।
রাজাপাকসের পরিবারের উত্থান হয় দাদা ডন ডেভিড রাজাপাকসের হাত ধরে। তিনি ছিলেন প্রাচীন বৃটিশ শাসনের গুচ্ছগ্রামের গ্রামপ্রধান। তার ছেলে ডন অলউইন রাজাপাকসে। তিনি ছিলেন শ্রীলংকার কৃষিমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল শ্রীলংকান ফ্রিডম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। অলউইনের বড় ভাই ডন ম্যাথিউ রাজাপাকসেও শ্রীলংকায় দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। বাবার হাত ধরে ছেলে এরপর ভাইয়ের সঙ্গে ভাই মিলে শাসন করছে শ্রীলঙ্কা। চাচার পেছনে ভাতিজারাও এখন দেশের প্রধান পদগুলো দখল করতে শুরু করেছে।
তিন প্রজন্ম শেষে এখন এই পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম শ্রীলঙ্কা শাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে রাজাপাকসে পরিবার এমন নজির স্থাপন করেছে, বাইরে থেকে অনেকেই এটিকে শ্রীলঙ্কার রাজ পরিবার মনে করে ভুল করবে।
সংকট মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে প্রায় কয়েকশ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন।এ সময় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী গুলিবর্ষণ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। চলমান এ পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশটিতে গত শনিবার থেকে ৩৬ ঘণ্টার কারফিউ চলছে।
তবে বোরবার হঠাৎ করেই সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতি গোতাবায় রাজপাকসে ও তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ছাড়া মন্ত্রিসভার ২৬ সদস্য তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট পার করছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিরও ক্ষমতা হারিয়েছে দেশটি।


