আন্তর্জাতিক


ভারতে ‘বাংলাদেশি শনাক্তকরণ যন্ত্র’ আবিষ্কার, পুলিশের ভিডিও ঘিরে বিতর্ক


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার

ভারতে ‘বাংলাদেশি শনাক্তকরণ যন্ত্র’ আবিষ্কার, পুলিশের ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

ভারতের রাজনীতিতে ‘বাংলাদেশি’ ইস্যু নতুন নয়। ক্ষমতাসীন বিজেপির একাধিক নেতা নিয়মিতভাবেই অবৈধ বাংলাদেশি শনাক্ত ও বিতাড়নের কথা বলে আসছেন। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পুলিশের এক কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল ফোনের মতো একটি যন্ত্র এক ব্যক্তির পিঠে ঠেকিয়ে দাবি করছেন “যন্ত্র বলছে, এই ব্যক্তি বাংলাদেশি।”

 

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাজিয়াবাদের বিহারি মার্কেট এলাকার একটি বস্তিতে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন অবৈধ অভিবাসী শনাক্তের অভিযানের নামে বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে ওই এলাকায় যান কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানের সময় এক ব্যক্তির পিঠে মোবাইল ফোন ঠেকিয়ে তাকে বাংলাদেশি বলে ঘোষণা করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

 

ঘটনাটি নিয়ে ভারতের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোও সরব হয়েছে। দ্য হিন্দু তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ভিডিওতে পুলিশের আচরণ হুমকিমূলক ও ভীতিকর। আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনাম করে লেখে ‘নাগরিকত্ব যাচাইয়ের যন্ত্র গায়ে ঠেকিয়ে বাংলাদেশি শনাক্ত!’ আর হিন্দুস্তান টাইমসের বাংলা সংস্করণ ঘটনাটিকে আখ্যা দেয় ‘আজব কাণ্ড’ হিসেবে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা বস্তিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, “মিথ্যা বলবেন না। আমাদের কাছে যন্ত্র আছে, মিথ্যা ধরা পড়ে যাবে।” এরপর এক ব্যক্তির পিঠে মোবাইল ঠেকিয়ে তিনি দাবি করেন, যন্ত্র বলছে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবশ্য জানান, তিনি ভারতের বিহার রাজ্যের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা।

 

 

এ ঘটনার ব্যাখ্যায় গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরম এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার অভিষেক শ্রীবাস্তব বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কৌশাম্বী থানার আওতাভুক্ত এলাকার। তবে এটি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অভিযান ছিল না, বরং নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম। অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি আছে কি না, সেটি যাচাই করাই ছিল অভিযানের উদ্দেশ্য।

 

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সভাপতি অজয় রায় বলেন, “এই ঘটনা রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। এমন নির্দেশনা ওপর থেকেই আসে। আমরা চাই উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক।” তার মতে, এ ধরনের ঘটনা উত্তরপ্রদেশকে হাস্যকর করে তুলছে এবং এটি আইনের শাসনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।

 

ভিডিওটি ঘিরে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে কোন আইনে, কোন প্রযুক্তিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এভাবে কাউকে বাংলাদেশি ঘোষণা করতে পারেন? বিষয়টি এখন শুধু একটি ভিডিও নয়, বরং নাগরিক অধিকার, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কে রূপ নিয়েছে। তদন্তের পর কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ।


সম্পর্কিত

ভারতগাজিয়াবাদ

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।