আন্তর্জাতিক


ইরানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড: স্বজনকে শেষবিদায় জানাতে ‘১০ মিনিট’ সময় পেয়েছেন এরফান


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার

ইরানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড: স্বজনকে শেষবিদায় জানাতে ‘১০ মিনিট’ সময় পেয়েছেন এরফান

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহত তরুণের নাম এরফান সোলতানি (২৬)। আজ বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারকে তাঁর সঙ্গে শেষ দেখা করার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) জানিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি ইরানের কারাজ শহরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় এরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য অল্প সময়ের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্বজনদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এটিই হবে এরফানের সঙ্গে তাঁদের শেষ দেখা। এরপরই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

 

আইএইচআর-এর দাবি, চলমান বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এরফান সোলতানিই প্রথম, যাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে, এরফানকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা বা ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কোনো স্বচ্ছ বিচার ছাড়াই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

 

এরফানের পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র ইরানওয়্যারকে জানান, পরিবারের এক নিকটাত্মীয় আইনজীবী তাঁর পক্ষে মামলায় লড়াই করতে চাইলেও নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে হুমকি দিয়ে সরে যেতে বাধ্য করে। সূত্রের ভাষ্য, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, ‘পর্যালোচনার মতো কোনো নথি নেই। বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া সবার জন্যই মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত।’

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এরফানের পরিবারকে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলা বা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানানো থেকেও কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান জানিয়েছে,

এরফানের বিরুদ্ধে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ (মোহারেবেহ) করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরানের আইনে এই অভিযোগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

 

এদিকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে সীমিত থাকায় এরফানের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন বলছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ২ হাজারের মধ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ইরান সরকার এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধনের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইরানি শাসকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।


সম্পর্কিত

ইরানমৃত্যুদণ্ডসরকারবিরোধী বিক্ষোভ

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ