আন্তর্জাতিক
বিক্ষোভ দমনে যেভাবে ইরানকে সাহায্য করছে রাশিয়া
.webp)
রাশিয়া ইরানের গণবিক্ষোভ দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ না করলেও আধুনিক দমন প্রযুক্তি, অস্ত্র এবং কৌশলগত সমর্থনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে মস্কো প্রকাশ্যে ‘ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান’ এবং ‘বিদেশী হস্তক্ষেপের নিন্দা’ জানালেও আড়ালে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
রাশিয়া ইরানের পুলিশ, বাসিজ বাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সরবরাহ করছে। ২০১৬ সালে এ-১০৩ রাইফেল, ২০২৫ সালে প্রায় ৪০টি স্পার্টাক এমআরএপি সাঁজোয়া যান, এমআই-২৮ হ্যাভক আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার এবং শহরাঞ্চলে দমন অভিযানে ব্যবহারযোগ্য অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের বিক্ষোভে ব্যবহৃত স্নাইপার রাইফেল, পিকেএম মেশিনগান ও টি-৭২ ট্যাংক সহ সাঁজোয়া যানও রাশিয়ার নকশাভিত্তিক প্রযুক্তি দ্বারা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে।
রাশিয়ার দৃষ্টি মূলত তথ্য ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায়। ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (DPI), ভিপিএন শনাক্তকরণ, নেটওয়ার্ক মনিটরিং এবং নির্দিষ্ট অ্যাপ ধীর করার প্রযুক্তি ইরানে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিক্ষোভকারীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়, তবুও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকিং ও সরকারি প্ল্যাটফর্ম অক্ষুণ্ণ থাকে। রুশ টেলিকম কোম্পানি প্রোতেই-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ইরানের মোবাইল অপারেটরদের এই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ইরানকে কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। নিষেধাজ্ঞা ঠেকানো, সংকটকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে উপস্থাপন এবং পশ্চিমা সমালোচনার শক্তি কমানো এগুলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে আড়ালে সমর্থন দেয়।
ফরেন পলিসি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার সহায়তা শুধুমাত্র ইরানের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য নয়; এটি ঘরের অভ্যন্তরেও গণবিক্ষোভের ‘সংক্রমণ’ প্রতিরোধের কৌশল। মার্কিন হস্তক্ষেপ বা সামরিক চাপ বাড়লে রাশিয়ার সমর্থন আরও দৃঢ় হতে পারে। তৎপর অবস্থায়, মস্কো ইরানকে একটি নিরাপদ সুরক্ষাবলয় দেয়, যাতে দেশটি নিজেই পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম হয়।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।


.jpg)





