আন্তর্জাতিক


সামরিক আইন ও ক্ষমতা অপব্যবহারের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ৫ বছরের কারাদণ্ড


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

সামরিক আইন ও ক্ষমতা অপব্যবহারের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ৫ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে দেশটির একটি আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ সামরিক আইন জারি এবং সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রায় ঘোষণা করেন। দেশটির ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো যে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তারের পর সাজা পাচ্ছেন।

 

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, ইউন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বৈধ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দিয়েছেন, যা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া সরকারি নথি জালিয়াতি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই অসাংবিধানিকভাবে সামরিক আইন জারির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

 

রায় ঘোষণার সময় ইউন বিমর্ষ ছিলেন এবং তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তার আইনজীবী ইউ জং-হওয়া রায়ের সমালোচনা করে বলেন, আমরা মনে করি, এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ইউনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছেন। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সংসদ স্থগিত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করার মাধ্যমে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

 

২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউন সামরিক আইন জারি করেছিলেন। তীব্র প্রতিরোধের মুখে এটি মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়। ওই সামরিক আইন দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল, যা ১৪ ডিসেম্বরের পার্লামেন্ট অভিশংসনের পেছনে মূল কারণ ছিল।

 

বর্তমানে ইউন সিউল ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী আছেন। রায় ঘোষণার আগে আদালতের বাইরে তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করেছেন।


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ