আন্তর্জাতিক


গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুমকি, জার্মানির বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুমকি, জার্মানির বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক

ইউরোপের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডেনমার্কের অধীন এই অঞ্চল দখলের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় জার্মানি, ডেনমার্কসহ ইউরোপের অন্তত আটটি দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আর সেই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এবার জার্মানিতে উঠেছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি।

 

ডেনমার্ক, জার্মানি ও আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এসব দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। জার্মানির একাংশের রাজনীতিবিদ মনে করছেন, এই হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে পাল্টা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে বিশ্বকাপ বর্জন একটি শক্ত বার্তা হতে পারে।

 

তবে জার্মানি সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত রাজনীতিকদের নয়, বরং সেটি নির্ভর করবে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এবং ফিফা–এর ওপর। অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপ থাকলেও সরকার সরাসরি এমন সিদ্ধান্তে যাবে না।

 

এদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের দল সিডিইউর প্রভাবশালী সংসদ সদস্য রোদেরিখ কিসেভেটার বলেছেন, ট্রাম্প যদি হুমকি বাস্তবায়ন করে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, তখন বিষয়টি আর কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিণত হবে।

 

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির ৪৭ শতাংশ নাগরিক ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই তথ্য জার্মান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।

 

শুল্ক আরোপের হুমকির তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সও। তবে ফ্রান্সের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপাতত ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা ফরাসি সরকারের নেই। তিনি বলেন, এটি একটি বড় এবং বহু প্রতীক্ষিত প্রতিযোগিতা। এই মুহূর্তে আমরা বয়কটের কথা ভাবছি না। সামনে কী হবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে চাই না।

 

উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ম্যাচগুলোর বড় অংশ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

 

সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন আর শুধু ফুটবলের নয় বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মাঠেও গড়াবে? সেই দিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন।


সম্পর্কিত

গ্রিনল্যান্ডট্রাম্পবিশ্বকাপবয়কট

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।