আন্তর্জাতিক


অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্য চালানোর দায়ে এক পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্য চালানোর দায়ে এক পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইং দাপিয়ে বেড়ানো কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। গত সেপ্টেম্বর আদালতের রায়ের পর সম্প্রতি দ্রুততার সঙ্গে এই সাজা কার্যকর করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চীন বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে। তবে মিং পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তারা অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

 

২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের সীমান্ত শহর লাউককাইং নিয়ন্ত্রণ করছিল মিং, বাউ, ওয়েই ও লিউ—এই চার প্রভাবশালী পরিবার। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

শুরুর দিকে আফিম ও মেথামফেটামিন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তারা ক্যাসিনো ও অনলাইন প্রতারণাভিত্তিক বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। এসব কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরোক্ষ সহায়তা ছিল এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য জান্তাসমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

 

লাউককাইংয়ের স্ক্যাম সেন্টারগুলো এশিয়ার অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশি নৃশংস ছিল। বিশেষ করে মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’কে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘যমপুরী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেখানে হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আটক রাখা হতো এবং তাদের দিয়ে ‘পিগ-বাচারিং’ ধরনের ভয়াবহ অনলাইন প্রতারণা করানো হতো। শারীরিক নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা।

 

২০২৩ সালের অক্টোবরে পালানোর চেষ্টাকালে সেখানে কয়েকজন চীনা নাগরিক নিহত হলে বিষয়টি বেইজিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে নেয় এবং চার পরিবারের শীর্ষ নেতাদের আটক করে চীনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

 

মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং গ্রেপ্তারের পর আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেন, ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে একজনকে হত্যা করেছিলেন।

 

চীন এই অপরাধচক্রের নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে, যাতে মৃত্যুদণ্ডের যৌক্তিকতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায়।

 

মিং পরিবারের ১১ সদস্যের সাজা কার্যকর হলেও বাকি পরিবারের বিচার এখনো চলমান। বাউ পরিবারের পাঁচজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন। ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচার প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি।

 

এদিকে অনলাইন প্রতারণার এই নেটওয়ার্কে জড়িতদের প্রত্যর্পণের জন্য থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপরও চাপ বাড়িয়েছে চীন।

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বড় বড় কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও অনলাইন প্রতারণার এই ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমন করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।